বৃহস্পতিবার, ২৪-সেপ্টেম্বর ২০২০, ১১:৩৩ অপরাহ্ন

বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের কূটনৈতিক লড়াই সবে শুরু

shershanews24.com

প্রকাশ : ২১ আগস্ট, ২০২০ ০৩:০১ অপরাহ্ন

শুভজিৎ বাগচি: ১৮ই আগস্ট ভারতের পররাষ্ট্র সচিব হর্ষ বর্ধন শ্রিংলা এক অনির্ধারিত ও তড়িঘড়ি সফরে ঢাকায় যান। সাক্ষাৎ করেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সাথে। এই ঘটনায় বিস্মিত হন আঞ্চলিক পর্যবেক্ষকরা। বাংলাদেশি সংবাদমাধ্যমে বলা হচ্ছে, এই সফর ছিল কোনো ‘নির্দিষ্ট এজেন্ডা’ বিহীন এক ‘অনানুষ্ঠানিক সফর’। আর প্রতিবেশী বাংলাদেশকে কিছু ব্যতিক্রমী প্রস্তাবও দিয়েছে ভারত।
কিন্তু শেষ কবে শীর্ষস্থানীয় একজন ভারতীয় কর্মকর্তা এভাবে তড়িঘড়ি করে  বাংলাদেশ  সফর করেছেন, তাও অনানুষ্ঠানিক ও এজেন্ডা ছাড়াই? আর বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ঠিক কী কারণে এই সফর হতে হলো?

নয়াদিল্লি-ঢাকা সম্পর্কে যেই অস্বস্তি তা গত মাসে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল মোমেনের এক বক্তব্য থেকেই বোঝা যায়। তার ওই বক্তব্যে ভারতীয় কূটনীতিক ও নীতিনির্ধারকদের মধ্যেও ভ্রূকুটি দেখা দিয়েছে। অর্থনীতিবিদ থেকে কূটনীতিক বনে যাওয়া মোমেন ভিন্ন ভিন্ন দু’টি আলাপনে বলেছেন যে, ভারতের উচিৎ হবে না রাম মন্দির নির্মাণের কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে ছেদ ঘটানো। তবে তিনি এ-ও বলেছেন যে, ঢাকা-দিল্লি সম্পর্ক পাথরের মতো দৃঢ়, রক্তের বাঁধনে জড়ানো।

পাশাপাশি তিনি এ-ও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, বেইজিং ও ঢাকার মধ্যকার অর্থনৈতিক সম্পর্কও চলবে।
পাকিস্তানের প্রেক্ষিতে তিনি যোগ করেছেন যে, ‘কূটনীতিতে স্থায়ী শত্রু বা বন্ধু বলে কিছু নেই।’ ১৯৭১ সালে যুদ্ধের মধ্য দিয়ে পাকিস্তান থেকে স্বাধীন হয় বাংলাদেশ। ওই যুদ্ধে লাখ লাখ মানুষ মারা যায়।

মোমেন ওই মন্তব্য এমন সময়ে করলেন যখন ভারত ও চীনের মধ্যে তিক্ততা ক্রমেই বাড়ছে। এই বক্তব্য আরও গুরুত্ব পেলো যখন ভারতের আরেক প্রতিদ্বন্দ্বী পাকিস্তান বাংলাদেশকে আকৃষ্ট করতে চেষ্টা করছে। সম্প্রতি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ইমরান খান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী  শেখ হাসিনাকে ফোন করেন। অপরদিকে ঢাকায় নিযুক্ত পাকিস্তানের হাইকমিশনার সম্প্রতি প্রখ্যাত বাঙালি মুসলিম নেতাদের প্রশংসা করেছেন। ‘পাকিস্তানের জন্য লড়াইয়ের বীরত্বপূর্ণ ইতিহাসে’ অবদানের জন্য অবিভক্ত বেঙ্গল প্রেসিডেন্সিতে জন্ম নেয়া ওই নেতাদের প্রশংসা করেন তিনি। ঠিক এক সপ্তাহের মাথায় ভারতের পররাষ্ট্র সচিব এক অনির্ধারিত সফরে ঢাকায় গেলেন।

বাংলাদেশের ধীর পরিবর্তন
গত এক দশকে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যকার সম্পর্ক ভালোভাবেই চলছিল। এক দশক আগে বাংলাদেশে ভারতের হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব পালন করা বীনা  সিক্রি বলেন, ‘গত ১০ বছরের যেই অর্জন—স্থল সীমান্ত চুক্তির বাস্তবায়ন থেকে শুরু করে, যোগাযোগ প্রকল্প, আভ্যন্তরীণ নৌ প্রটৌকল, সমুদ্র সীমা নিষ্পন্ন, ভিসা সুবিধা বৃদ্ধি—সেসব থেকে ইঙ্গিত মিলে যে সম্পর্ক অনেকটাই পরিপক্ব হয়েছে।’ তবে ২০১৭ সালে মিয়ানমার থেকে বাংলাদেশে রোহিঙ্গা আগমনের বিষয়ে ভারত যখন সম্পূর্ণ নীরবতা পালন করছিল, তখন ঢাকা অত্যন্ত বিস্মিত হয়েছিল। নয়াদিল্লির আশঙ্কা ছিল যে তারা যদি মিয়ানমারের বিপক্ষে যায়, তাহলে মিয়ানমার ও চীনের মধ্যকার সম্পর্ক আরও দৃঢ় হবে। এখানে গুরুত্বপূর্ণ হলো, প্রধানমন্ত্রী হাসিনা ১৮ই আগস্ট শ্রিংলার সাথে ওই বৈঠকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবর্তনের ইস্যুটি তুলেছেন।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হলো নদীর পানি বণ্টন। বাংলাদেশ বারবার তিস্তা নদীর পানির ‘ন্যায়সঙ্গত’ বণ্টন দাবি করেছে। তবে এই দাবি পূরণ হয়নি। সংবাদ মাধ্যমের প্রতিবেদন বলছে, খরার মৌসুমেও যেন বাংলাদেশ অংশে নদীর পানির পরিমাণ ঠিক থাকে, সেজন্য এক প্রকল্পে ১০০ কোটি ডলার ঋণ দিতে সম্মত হয়েছে চীন। এটি যদি সফল হয়, তাহলে সমস্যা সমাধানে চীনের এই প্রচেষ্টা ভারতকে তীব্রভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করবে, কেননা নৌ-বিধৌত বাংলাদেশে পানি একটি রাজনৈতিক ইস্যু।

স্থানীয় রাজনীতি ও পররাষ্ট্রনীতির সংঘাত
তৃতীয় বিষয় ও বাংলাদেশের আভ্যন্তরীণ রাজনীতির জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হলো ভারতে জাতীয় নাগরিক পুঞ্জি ও নাগরিকত্ব সংশোধন বিল (সিএএ) পাশ করা। এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো অবৈধ নাগরিকদের খুঁজে বের করা ও কিছু নাগরিককে নাগরিকত্ব দেয়া। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা স্পষ্টভাবে বলেছেন যে, বাংলাদেশ বুঝতে পারছে না কেন ভারত সিএএ পাশ করলো। তার মতে, ‘এর প্রয়োজন ছিল না।’

বীনা সিক্রি বলেন, ‘১৯৪৭ ও ১৯৭১ সালের পর সৃষ্ট সমস্যা’ সমাধানে এই আইন প্রয়োজন ছিল। তিনি বলেন, ‘এখানে কয়েক দশক ধরে রাষ্ট্রহীন মানুষজন শরণার্থী হিসেবে বসবাস করছে।’ বাংলাদেশি কর্মকর্তারা বলছেন ভারতের আভ্যন্তরীণ আইন ঢাকার জন্য কোনো সমস্যা নয়। তবে আপত্তি মূলত দুই জায়গায়। বাংলাদেশের সাবেক পররাষ্ট্র সচিব তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘শীর্ষস্থানীয় বিজেপি নেতারা সবচেয়ে অবমাননাকর ভাষা ব্যবহার করেছেন বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। পাশাপাশি, সিএএ পাশ করছে। তারা ভুলে গেছে যে এই অঞ্চলে বাংলাদেশ ভারতের একমাত্র বন্ধু।’ ২০১৯ সালে ভারতের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী অমিত শাহ অবৈধ বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের ‘উইপোকা’ হিসেবে সম্বোধন করেছেন। বিজেপির পশ্চিমবঙ্গ শাখার প্রেসিডেন্ট দিলিপ ঘোষ বলেছেন, এক কোটি অবৈধ বাংলাদেশিকে ফেরত পাঠানো হবে। নাগরিক পুঞ্জির মাধ্যমে ভারতের পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে প্রায় ২০ লাখ মানুষ শনাক্ত হয়েছেন, যাদের কোনো নথিপত্র নেই।
তৌহিদ বলেন, ‘আমরা কী করবো যদি ভারত সরকারিভাবে ঘোষণা দেয় যে এই মানুষগুলো আসলে বাংলাদেশ থেকে সেখানে গিয়েছে? ঠিক যেমনটা মিয়ানমার বলে থাকে? আমরা কী করবো যদি এই ইস্যুকে তারা দরকষাকষির মাধ্যম হিসেবে ব্যবহার করে? বিজেপি নেতারা তো ইতিমধ্যেই সেই মতামত দিচ্ছেন।’

মনোহর পরিকর-ইন্সটিটিউট ফর ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিস-এর রিসার্চ ফেলো ড. স্ম্রুতি এস পাটনায়েক বহু বছর ধরে বাংলাদেশ নিয়ে কাজ করছেন। তিনি অন্য আরেকটি ইস্যুর কথা তুলে ধরেছেন। তার মতে, সিএএ’র মাধ্যমে পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশকে একই ব্র্যাকেটে ফেলাটা বুদ্ধিমানের কাজ নয়। তিনি বলেন, ‘ভারত বলতে পারতো যে, পাকিস্তান থেকে নির্যাতিত সংখ্যালঘুদের নাগরিকত্ব দেয়া হবে। কিন্তু যখন বাংলাদেশকেও পাকিস্তানের সঙ্গে একই পাল্লায় মাপা হবে, তখন বাংলাদেশ অবশ্যই প্রতিক্রিয়া দেখাবে।’
বিজেপির ২০১৪ সালের নির্বাচনি ইশতিহারে বলা হয়েছে যে, বৈদেশিক নীতিতে ‘আমাদের সফট পাওয়ার সংক্রান্ত বিষয়গুলো সম্পৃক্ত করা উচিৎ। নজর দেয়া উচিৎ আধ্যাত্মিক, সাংস্কৃতিক ও দার্শনিক দিকগুলোর দিকেও।’
অনেকে বিশ্বাস করেন যে, বিজেপির ‘আধ্যাত্মিক’ এজেন্ডাকে সরকারি পররাষ্ট্র নীতির সঙ্গে গুলিয়ে ফেলার ঝুঁকিতে রয়েছে ভারত, বিশেষ করে মুসলিম প্রতিবেশী দেশগুলোর ক্ষেত্রে।

চীন ও বাংলাদেশ সম্পর্ক
চীন বিভিন্ন দিক থেকে বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পৃক্ত। বিশেষ করে অর্থনীতিতে। ইতিমধ্যেই প্রচুর ঋণ দেশটি বাংলাদেশকে দিয়েছে, আরও দেয়ার প্রতিশ্রুতিও দিয়েছে। ভারতীয় পর্যবেক্ষকরা মনে করেন, চীন থেকে বাংলাদেশ কেন ঋণ নিচ্ছে, এই প্রশ্ন করার সময় ফুরিয়ে গেছে।
পাটনায়েক বলেন, ‘এই দিক থেকে চীনের সঙ্গে আমরা কুলিয়ে উঠতে পারবো না। বরং আমাদের বের করা উচিৎ যে বাংলাদেশে চীনের এই সম্পৃক্ততা থেকে আমরা কীভাবে লাভ ঘরে তুলতে পারি। যেমন, চীনা ঋণে পদ্মা সেতু নির্মিত হলে কলকাতা ও ঢাকা আসা-যাওয়ার সময় বেঁচে যেতে পারে।’ অপরদিকে তৌহিদ হোসেন বলেন, ‘চীনারা বাংলাদেশের শত্রু নয়।’ তার মতে, চীন যদি বাংলাদেশকে কম দামে কিছু প্রস্তাব দেয়, তাহলে বাংলাদেশ সেটা গ্রহণ করবে।

পররাষ্ট্র মন্ত্রী আব্দুল  মোমেনও বলছিলেন যে, পূর্বাঞ্চলীয় সিলেট শহরে একটি এয়ারপোর্ট টার্মিনাল  নির্মাণের কাজ চীনকে দেয়া হয়েছে কারণ তারা সর্বনিম্ন দরদাতা। এর আগে ভারতের নিকটবর্তী বঙ্গোপসাগরে একটি সাবমেরিন ঘাঁটি নির্মাণের কাজ চীনকে দিয়েও বাংলাদেশ ভারতের জন্য উদ্বেগ তৈরি করেছিল।

এছাড়া দক্ষিণে সোনাদিয়ায় গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণের কাজে চীনের সম্পৃক্ততা থামাতে হস্তক্ষেপ করেছিল ভারত।
সাধারণ বাংলাদেশিরা অবশ্য শ্রিংলার ওপর একটি বিশেষ কারণে খুশি। কয়েক বছর আগে তিনি হাইকমিশনার থাকাকালে বাংলাদেশিদের জন্য ভারতের ভিসা প্রাপ্তির প্রক্রিয়া ঝামেলাবিহীনভাবে ও কম সময়ে সম্পন্ন করার ব্যবস্থা করে গিয়েছিলেন। দুই দেশের সম্পর্কে এটিও একটি বাধা ছিল এতদিন। ২০১৯ সালে ১৫ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি ভারত সফরে গেছেন। কাশ্মির ও ভারতের সংবেদনশীল উত্তরপূর্বাঞ্চলীয় রাজ্যে যাওয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশিদের ওপর বিধিনিষেধও তুলে নিয়েছে ভারত।
তারপরও সীমান্তে হত্যাকাণ্ড বৃদ্ধির বিষয়ে বাংলাদেশিরা ক্ষোভ ও হতাশা প্রকাশ করেছে। এ থেকেও দুই দেশের সম্পর্কহানির ইঙ্গিত পাওয়া যায়।

বিভিন্ন কারণেই সম্পর্কে খারাপ সময় আসলেও দিল্লির কাছ থেকে সরে যাওয়ার সময় আসেনি ঢাকার। এমনটাই মনে করেন আটলান্টিক কাউন্সিলের জ্যেষ্ঠ ফেলো ও ইলিনয় স্টেট বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আলী রীয়াজ। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে বিকল্প দু’টি। একটি হলো ভারতকে ছেড়ে দ্রুতগতিতে চীনের সঙ্গে মৈত্রী গড়ে তোলা। আরেকটি হলো দুইয়ের মধ্যে ভারসাম্য রক্ষা করে চলা। আমার মতে, ঢাকা একপাক্ষিক হওয়ার চেয়ে ভারসাম্য রক্ষার দিকেই ঝুঁকছে।’

অনেক পর্যবেক্ষক আবার মনে করেন যে, স্বচ্ছল বাংলাদেশিদের একটি বড় অংশ, যারা ভারত-বিরোধী নয়, তারাও দিল্লির প্রতি হতাশ, কেননা দিল্লি গত দু’টি নির্বাচনে আওয়ামী লীগকে সমর্থন দিয়েছে, যেই নির্বাচন ছিল ‘ভুয়া।’ অধ্যাপক রীয়াজ বলেন, ‘বাংলাদেশে ভারতের ভূমিকা আওয়ামী লীগকে সাহায্য করেছে তবে ভারত-বিরোধী মনোভাবও সেই কারণে বেড়েছে।’ অপরদিকে বীনা সিক্রি বলছেন, চীন ‘বাংলাদেশের ওপর শুধু রাষ্ট্রীয় পর্যায়েই চাপ প্রয়োগ করছে না, রাষ্ট্র-ভিন্ন বিভিন্ন পক্ষকেও এক্ষেত্রে ব্যবহার করছে।’
‘তবে, শেখ হাসিনার এক অসাধারণ লিগ্যাসি রয়েছে, তার ও তার পিতার লিগ্যাসি। আমি মনে করি না তিনি এটি পরিত্যাগ করবেন ও চীন বা পাকিস্তানের চাপের কাছে নতি স্বীকার করবেন,’ তিনি যোগ করেন। এই বিষয়ে চীন বা বাংলাদেশের কোনো বক্তব্য নেই। তৌহিদ হোসেন অবশ্য যুক্তি দেখিয়েছেন যে, ভারতের উচিৎ বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে সহায়তা করা। তার ভারসাম্যের নীতির কারণে তাকে আলাদা করে রাখার চেষ্টা করা ঠিক হবে না। তিনি বলেন, ‘ভারতের উচিৎ জ্বালানী  সরবরাহ করা যেন শেখ হাসিনা তার সমালোচকদের জবাব দিতে পারেন।’ বিবাদমান ইস্যুগুলো সমাধানে নিজেদের বিদেশ সচিবকে পাঠিয়ে ভারত হয়তো সেই বার্তাই দিলো।


(শুভজিৎ বাগচি ভারতীয় সাংবাদিক। তিনি দ্য হিন্দু, বিবিসি ও আনন্দবাজার পত্রিকায় কাজ করেছেন। তার এই নিবন্ধটি তুরস্ক-ভিত্তিক সংবাদ মাধ্যম টিআরটি ওয়ার্ল্ড-এর ওয়েবসাইটে প্রকাশিত হয়েছে।)