সোমবার, ০৬-এপ্রিল ২০২০, ০৮:০৩ পূর্বাহ্ন

এনআরসি ইস্যু শক্তভাবে মোকাবেলা করতে হবে: অন্যথায় মহাবিপদ আসন্ন 

shershanews24.com

প্রকাশ : ৩১ ডিসেম্বর, ২০১৯ ০৯:৩৯ অপরাহ্ন


চন্দ্র রায়: বড় ঝড় একদিনে হয় না। আস্তে আস্তে ঝড় শক্তি সঞ্চয় করে এবং আঘাত হানে। তেমনি এক ঝড় উঠেছে গোটা ভারতজুড়ে। ঝড়টি সৃষ্টি হয়েছে আগেই। ঝড়টি এখন শক্তি সঞ্চয় করছে, অল্প স্বল্প আঘাতও হানছে। চূড়ান্ত আঘাত হানার জন্য আরেকটু সময় হয়তো লাগবে। ভারতে সৃষ্ট, ভারতীয়দের সৃষ্ট ঝড় ভারতেই আঘাত হানতে পারে। তেমন হলে অসুবিধা নেই। ভারতের অভ্যন্তরীণ বিষয় ভারতই সামলাবে। তবে আমাদের শঙ্কা হলো, এই ঝড় প্রবলভাবে বাংলাদেশেও আঘাত হানতে পারে। সেই শঙ্কা থেকেই যত উদ্বেগ। এমনিতেই প্রতিবেশী মিয়ানমারের ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে রোহিঙ্গাদের নিয়ে সংকটের মধ্যে আছে বাংলাদেশ। মিয়ানমার থেকে আসা রোহিঙ্গা সমস্যারই আজ পর্যন্ত কোনো সুরাহা হয়নি। তার ওপর যদি এনআরসি থেকে বাদ পড়া ভারতীয় নাগরিকরা বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে তবে তা হবে আমাদের জন্য ‘মরার ওপর খাড়ার ঘা’। বিশেষ করে নাগরিকত্ব আইন সংশোধন অর্থাৎ নতুন নাগরিক আইন তৈরির পর শঙ্কা এখন আগের চেয়ে অনেক গুণ বেড়ে গেছে। 
ধর্মনিরপেক্ষ থেকে পরিবর্তিত হয়ে ভারত এখন একটি হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত হচ্ছে। আর বিজেপি তাদের ভোটের রাজনীতির জন্য ধর্মকে ব্যবহার করছে, বাংলাদেশের মত প্রতিবেশী রাষ্ট্রকেও এর সঙ্গে জড়াচ্ছে। তাই এটাকে বাংলাদেশের জন্য খারাপ সময় বলে অভিহিত করছেন কূটনীতিকরা। সেটি মাথায় রেখে বাংলাদেশকে এখন থেকেই অনেক সতর্ক থাকতে হবে এবং পরিস্থিতি অনুযায়ী পদক্ষেপ নিতে হবে। এনআরসির পর ভারতের সংশোধিত নাগরিকত্ব আইন বাংলাদেশের জন্য এক মহাসংকট তৈরি করতে পারে। আর এর ফলে একদিকে যেমন বাংলাভাষীদের বাংলাদেশে পাঠিয়ে দেয়ার পরিস্থিতি সৃষ্টি হচ্ছে। অন্যদিকে দুষ্কৃতিকারীরা এখন বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের ওপর সুযোগ নিতে পারে। আসলে আমরা ঘর পোড়া গরু সিঁদুরে মেঘ দেখলেই ভয় পাই। চুন খেয়ে এমনভাবে মুখ পুড়িয়েছি, তাই দই দেখলেও ভয়ে কুকড়ে যাই। 
ভারতের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় রাজ্য আসামে চূড়ান্ত নাগরিক তালিকা গত ৩১ আগস্ট প্রকাশ করা হয়েছে। ওই এনআরসিতে মানে নাগরিক তালিকায় ১৯ লাখ ৬ হাজার ৬৫৭ জনের ঠাঁই হয়নি। ইতিমধ্যে গোটা ভারতজুড়ে এনআরসি করার ঘোষণা দিয়েছেন বিজেপি সভাপতি অমিত শাহ। আর এ নিয়ে ভারতজুড়ে চলছে সংঘর্ষ ও বিক্ষোভ। ভারতের ক্ষমতাসীন সরকারের সাম্প্রদায়িক সিদ্ধান্তে একদিনেই বিশ্বে ১৯ লাখের বেশি রাষ্ট্রহীন মানুষের সৃষ্টি হয়েছে। এরপর যদি গোটা ভারতজুড়ে এনআরসি হয় তাহলে কত লোক বাদ পড়বে তা অজানা। এখন কথা হচ্ছে, নাগরিক তালিকা থেকে বাদ পড়া ও ভারতজুড়ে এনআরসি করার পর যারা বাদ পড়বে এই মানুষগুলোর কী হবে? এরা কি বাংলাদেশে ঢুকে পড়বে?
রাজনৈতিকভাবে, কূটনৈতিকভাবে এবং সীমান্ত সুরক্ষায়ও বাংলাদেশকে সতর্ক থাকতে হবে। এমনিতে জন্মের সময় থেকেই বাংলাদেশে আটকা পড়ে আছে কয়েক লাখ পাকিস্তানি। প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা এখন টেকনাফে বিশ্বের বৃহত্তম শরণার্থী ক্যাম্পে আছে। ভারত যদি তাদের নাগরিককে জোর করে বাংলাদেশি বানিয়ে ঠেলে পাঠাতে চায়, আমাদের সর্বশক্তি দিয়ে প্রতিরোধ করতে হবে। এত চাপ নেয়ার সামর্থ্য বাংলাদেশের নেই। এনআরসি ভারতের ঝড়, ভারতই সামলাক; সেই ঝড় যেন বাংলাদেশের দিকে না আসে। বাংলাদেশ সরকারকে এ ব্যাপারে সতর্ক এবং কঠোর পদক্ষেপ নিতে হবে।