সোমবার, ০৬-এপ্রিল ২০২০, ০৩:৪২ পূর্বাহ্ন

সিটি নির্বাচন হোক অবাধ-সুষ্ঠু-নিরপেক্ষ ফিরে আসুক সবার আস্থা  

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারী, ২০২০ ০৯:৪০ পূর্বাহ্ন

এস আরেফিন: আসন্ন ঢাকা নগরীর উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশন নির্বাচন নিয়ে নানা আলোচনা চলছে। নির্বাচন আদৌ অবাধ ও নিরপেক্ষমূলক হবে কিনা, এ আশংকা দেখা দিয়েছে। ২০১৫ সালের এপ্রিলে অনুষ্ঠিত সিটি নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ‘সমর্থিত’ প্রার্থীরা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় থাকলেও দলীয় প্রতীক ছিল না। আইন সংশোধনের পর গত বছরের ফেব্রুয়ারিতে অনুষ্ঠিত ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উপনির্বাচনে যদিও দলীয় প্রতীক ছিল, তাতে বিএনপিসহ অধিকাংশ বিরোধী দল অংশগ্রহণ করেনি। আমরা দেখছি, এবার প্রথম সারির সব রাজনৈতিক দলই ইতোমধ্যে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করেছে। এবার যেহেতু দলীয় মনোনয়ন ও প্রতীকেই ভোটগ্রহণ হবে, এবারের নির্বাচন নিশ্চয়ই ভিন্ন মাত্রা বহন করে। তবে পূর্ববর্তী নির্বাচনগুলোর অভিজ্ঞতায় বর্তমান নির্বাচন কমিশনের ওপর আস্থা রাখতে পারছে না বড় বিরোধী দল বিএনপি। কারণ বর্তমান নির্বাচন কমিশনের অধীনে গত ডিএসসিসি ও ডিএনসিসি নির্বাচন এবং একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ও পরে যত নির্বাচন হয়েছে সব নির্বাচনেই দেখা গেছে, নির্বাচনের আগের রাত ব্যালট বাক্সে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অনুকূলে সিল মেরে রাখা, বুথ দখল করে প্রকাশ্যে ক্ষমতাসীন দলের প্রার্থীদের অনুকূলে ব্যালটে সিল মারা, সরকারবিরোধী জোটের পোলিং এজেন্টদের ভোটকেন্দ্রে প্রবেশ করতে না দেয়া, বিরোধী দল বা জোটের প্রার্থীর সমর্থক ও নেতাকর্মীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন, হামলা, নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা ও পুড়িয়ে দেয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। ফলে বর্তমান নির্বাচন কমিশনের আমলে যেসব নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে প্রত্যেকটি নির্বাচনী হয়েছে প্রশ্নবিদ্ধ। তাই আমরা আশা করি এবারের নির্বাচন যেন অতীতের পুনরাবৃত্তি না হয়। আশা করি আসন্ন নির্বাচন সুষ্ঠুভাবে অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে কমিশন কিছুটা হলেও তাদের ভাবমূর্তি উজ্জ্বল করতে পারে। আশা করি এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে যেন জনগণের ভোটের প্রতি আস্থা ফিরে আসে। কারণ বিগত যে নির্বাচনগুলো হয়েছে, দেখা গেছে ভোটের প্রতি সাধারণ মানুষের কোনো আগ্রহ নেই। তাই এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে মানুষের আস্থা ফিরে আনা হোক। তবে সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সবার আগে দরকার লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড। এছাড়া সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সরকার, নির্বাচন কমিশন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সবার সদিচ্ছা প্রয়োজন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকেও সরকারি দলের প্রভাবমুক্ত হয়ে নিরপেক্ষ থাকতে হবে। বিরোধী দলকে প্রচারণার সুযোগ দিতে হবে, যাতে তারা পরে কোনো অভিযোগ আনতে না পারে। সরকার চাইলেই তা পারে। বর্তমান রাজনীতিতে যে সংকট চলছে, তা এই নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কাটিয়ে ওঠা সম্ভব।
নির্বাচনী আচরণবিধি মেনে চলার ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলের সদিচ্ছা জরুরি হলেও ক্ষমতাসীনদের দায়িত্ব অনেক বেশি। নির্বাচনে হারজিত থাকতে পারে, নির্বাচনী কৌশলের কার্যকারিতায় পার্থক্য থাকতে পারে; কিন্তু নির্বাচনের পরিবেশ নিরপেক্ষ, অবাধ ও সুষ্ঠু রয়েছে কি-না, জনগণ দেখতে চায় সেটা।