শনিবার, ২২-ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৭:৪৬ পূর্বাহ্ন

ধর্ষণের বিভীষিকা বেড়েই চলছে ধর্ষকরা পার পেয়ে যাচ্ছে কেন? 

shershanews24.com

প্রকাশ : ২২ জানুয়ারী, ২০২০ ১০:০৩ পূর্বাহ্ন

এস আরেফিন: দেশে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ধর্ষণের ঘটনা। সম্প্রতি আমরা বেশ লক্ষ্য করছি, ধর্ষণ বিষয়ে আমাদের নাগরিক অনুভূতি এবং মানবিক অনুভূতি বেশ ভয়ানকভাবে লোপ পেয়েছে। ধর্ষণ এখন মহামারি আকার ধারণ করেছে। এক দশক কিংবা দুই দশক আগে ধর্ষণ সমাজের চোখে একটা ‘জঘন্য’ অপরাধ হিসেবে বিবেচনা করা হতো, সেটা এখন অনেকটা ‘গড়পড়তা ব্যাপার’ কিংবা ‘মামুলি বিষয়ে’ পরিণত হয়েছে। দেশে প্রতিদিন কোনও না কোনও নারী বা শিশু  ধর্ষণের শিকার হচ্ছে। একটা দিনও বাদ যায় না যেদিন কোন ধর্ষণের ঘটনা পত্রিকার পাতায় প্রকাশ হয় না। আর অপ্রকাশিত শত ঘটনার কথা না হয় বাদই দিলাম। গোটা দেশ হয়ে উঠছে ধর্ষণের উপত্যকা, অথচ সমাজের মানুষের মধ্যে এ নিয়ে কোনো বিকার নেই। সবাই বেমালুম নির্বিকার। গ্রামে কিংবা শহরে, বাড়িতে কিংবা রাস্তায়, অফিসে বা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এমনকি চলন্ত বাসে ধর্ষণ, দলবেঁধে ধর্ষণ, কাজের মেয়েকে ধর্ষণ করে ছাদ থেকে ফেলে দেওয়া, মা-মেয়েকে এক সাথে ধর্ষণ, গার্মেন্টসের কর্মী ধর্ষণ, বাড়ির মালিক ভাড়াটেকে ধর্ষণ, প্রেমিক ও তার বন্ধু কর্তৃক প্রেমিকাকে ধর্ষণ, শ্বশুরবাড়িতে বেড়াতে এসে নববধূ ধর্ষিত এ রকম অসংখ্য ধর্ষণের খবর আমরা সংবাদপত্রে এবং ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় হরহামেশা দেখে থাকি। এক কথায় বলা চলে প্রায় সর্বত্রই ঘটছে এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এখন প্রশ্ন হচ্ছে একের পর এক এমন ন্যাক্কারজনক ঘটনা দেশে কেন ঘটছে? 
বিশেষজ্ঞদের মতে, ধর্ষকদের কঠোর শাস্তি না হওয়া, বিচারে দীর্ঘসূত্রিতা, মামলা নিয়ে প্রভাবশালীদের নানা হয়রানি ও তদন্তে গাফলতিসহ বিভিন্ন কারণে ধর্ষণের ঘটনা বেড়েই চলছে। পুলিশ, রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী, স্থানীয় প্রভাবশালী কর্তৃক ধর্ষণের ঘটনা বেশি ঘটছে। এছাড়া বখাটে যুবক, মাদকসক্তরা ধর্ষণের মতো অপরাধ নির্বিঘে করে যাচ্ছে। লোকলজ্জার ভয়, মামলা করতে গিয়ে হয়রানি, প্রভাবশালী মহলের হুমকি এবং বিচার না হওয়ার সংস্কৃতির কারণে আসামিরা নানাভাবে পার পেয়ে যাচ্ছে। এছাড়াও ধর্ষণের ঘটনা তদন্তে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সক্ষমতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন অনেকে। ধর্ষণের মামলা তদন্তের ক্ষেত্রে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের মানসিকতা নিয়েও প্রশ্ন তুলছেন তারা। 
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ধর্ষণের বিচারের জন্য বিশেষ ট্রাইব্যুনাল, নারী কর্মকর্তা দিয়ে মামলা তদন্ত এবং বিচারিক কার্যক্রম পরিচালনা, দ্রুত সময়ের মধ্যে বিচার শেষ করে কঠোর শাস্তির বিধান রেখে আইনের সংশোধন করতে হবে। সামাজিকভাবে ধর্ষণের বিরুদ্ধে গণসচেতনতা তৈরি করতে হবে। ধর্ষণ আইনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সংযুক্ত করতে হবে। আইন সম্পর্কে সচেতনতা সৃষ্টি করতে হবে। আইনকে সঠিকভাবে কার্যকর করার জন্য সব উদ্যোগ নিতে হবে। 
সর্বশেষ, ধর্ষণের মাত্রা বেড়ে যাওয়ার অন্যতম প্রধান কারণ হিসেবে মনে করা হয় দেশে আইনের শাসনের অভাব। এ কারণেই ধর্ষকরা সুযোগ পেয়ে যাচ্ছে। আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা পেলে, ন্যায়বিচার নিশ্চিত হলে তখনই ধর্ষণের মাত্রা কমবে।