বুধবার, ০৮-জুলাই ২০২০, ১১:১৯ পূর্বাহ্ন

করোনা প্রতিরোধে চাই কড়া সতর্কতা ও কার্যকর পদক্ষেপ 

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৮ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৯:৫৫ পূর্বাহ্ন

এস আরেফিন: বিশ্বের কোনো না কোনো প্রান্তে নতুন নতুন ভাইরাসের আবির্ভাব হচ্ছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তনসহ সামাজিক জীবনাচারে পরিবর্তনের ফল এটি। ইবোলার আতঙ্ক চলেছিল কিছুদিন, পাশাপাশি মার্স ও সার্স ভাইরাসও শোরগোল ফেলেছিল। এখন নতুন আতঙ্ক করোনা ভাইরাস। ভাইরাসটি অতীতের সার্স ভাইরাসেরই একটি সংস্করণ বলে জানানো হচ্ছে। এর আক্রমণে সবচেয়ে বেশি পর্যুদস্ত চীনের উহান শহর। চীন সরকারের তথ্য অনুযায়ী, এখন পর্যন্ত তাদের দেশে করোনায় মৃতের সংখ্যা দেড় হাজার ছাড়িয়েছে। প্রকৃতপক্ষে এই সংখ্যা আরো অনেক বেশি বলে অনেকে মনে করছেন। চীনে আক্রান্তের সংখ্যা ইতিমধ্যে ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে। তবে করোনা ভাইরাস এখন আর চীনের মধ্যে নেই। গোটা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। তাই বিশ্বজুড়ে এখন আতঙ্কের নাম করোনা ভাইরাস। বাংলাদেশও এর বাইরে নয়। এমনিতেই বাংলাদেশের জনঘনত্ব অনেক বেশি। একবার যদি কেউ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়, তাহলে খুব দ্রুত সারা দেশে ছড়িয়ে পড়বে। তাই জনগণকেও এ ব্যাপারে যথেষ্ট সতর্ক থাকতে হবে। যেকোনো ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন থাকার বিকল্প নেই। সুতরাং সাবান দিয়ে হাত ধোয়ার অভ্যাসটি জোরদার করতে হবে। এছাড়াও চোখ, নাক ও মুখ পরিষ্কার রাখতে হবে।  এ ব্যাপারে সরকারকেও যথাযথ ব্যবস্থা নিতে হবে। যেন কোনোভাবেই দেশে মরণাঘাতী এ ভাইরাস প্রবেশ করতে না পারে সেদিকে সরকারকে সর্বোচ্চ দৃষ্টি রাখতে হবে। অবশ্য সরকার বলছে সব ধরনের প্রস্তুতি আছে। তবুও লোকজন শঙ্কায়। তাই আরও জোরালোভাবে সরকারকে এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে হবে।
দেশে নোভেল করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ প্রতিরোধে দেশের সকল আকাশ, স্থল, নৌ ও সমুদ্রবন্দরে আগত যাত্রীদের হেলথ স্ক্রিনিংয়ে সরকারি ঘোষণা দেয়া হলেও হাজার হাজার যাত্রীর স্ক্রিনিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যক থার্মাল স্ক্যানার নেই। বর্তমানে সারাদেশের মধ্যে শুধুমাত্র হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে তিনটি থার্মাল স্ক্যানার দিয়ে যাত্রীদের স্ক্রিনিং হচ্ছে। এছাড়া অন্য সকল সীমান্তপথে হ্যান্ডহেল্ড ইনফ্রারেড থার্মোমিটারই ভরসা। এ অবস্থায় করোনা ভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। তাই প্রাণঘাতী এই ভাইরাস থেকে বাঁচার জন্য সব ধরনের প্রস্তুতি গ্রহণ করতে হবে। দেশের বিমানবন্দর, নদীবন্দরসহ সব প্রবেশ পথে সতর্ক পাহারা রাখতে হবে যে, করোনা ভাইরাস আক্রান্ত কেউ যাতে প্রবেশ করতে না পারে। তাছাড়া ভাইরাস ছড়ায় এমন কোনো কর্মকাণ্ডও হতে দেয়া যাবে না। বিশেষ করে স্বাস্থ্য বিভাগকে এ ব্যাপারে সর্বাত্মক প্রস্তুতি রাখতে হবে। যদি ভাইরাসের সংক্রমণ ঘটে তাহলে আক্রান্ত ব্যক্তি তাৎক্ষণিক চিকিৎসা যেন পায় সেটি নিশ্চিত করতে হবে। সংশ্লিষ্টদের নিতে হবে কার্যকর পদক্ষেপ।