শনিবার, ৩০-মে ২০২০, ১২:০১ অপরাহ্ন

করোনা : বড় হচ্ছে লাশের মিছিল, কিভাবে স্মরণীয় হতে চান ‘আপনি’ 

shershanews24.com

প্রকাশ : ১১ মে, ২০২০ ০৪:৩৬ অপরাহ্ন

আহমেদ জামিল: একটি সংবাদপত্রের শিরোনাম ও আমাদের করোনা জয়ের গল্প। একবার এক ব্যক্তি সকাল বেলার খবরের কাগজ পড়ছেন। সেই ব্যক্তি ছিলেন একজন ব্যবসায়ী। খবরের কাগজে একটি শোক সংবাদ দেখে তিনি খুব বিস্মিত হয়ে উঠলেন। কারণ শোক সংবাদটিতে ব্যবসায়ী নিজের নাম দেখে হতভম্ভ। খবরের কাগজে ভুল ক্রমে ভুল লোকের মৃত্যুর সংবাদ ছাপা হয়েছে। এতে তিনি কিন্তু প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ায় বিহ্বল হয়ে পড়লেন। নিজেকে জিজ্ঞাসা করলেন, ‘আমি বেঁচে আছি, না মারা গেছি?’ আত্মসংবরণ করার পর তার দ্বিতীয় চিন্তা মাথায় আসল, তাঁর মৃত্যুর সংবাদ পড়ে মানুষ তার সম্পর্কে কি ভাবছে? খবরের কাগজে প্রকাশিত তার মৃত্যুর সংবাদটির শিরোনাম ছিল,‘ডাইনামাইটের রাজা মারা গেছেন’। তিনি ছিলেন একজন ‘ব্যবসায়ী’! প্রকৃত অর্থে ওই ভদ্রলোকই ছিলেন ডাইনামাইটের আবিষ্কারক। যখন তিনি দেখলেন তাকে ‘মৃত ব্যবসায়ী’ হিসেবে খবরের কাগজে আখ্যা দেয়া হয়েছে; তখন ভাবলেন এই ভাবে কি মানুষের কাছে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন তিনি?’ আজ সারা বিশ্ব করোনাভাইরাস নামের অদৃশ্য শত্রুর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছে, এই সময়ে অনেকেই অনেকভাবে খবরের কাগজের শিরোনাম হচ্ছেন। এখন চিন্তা করুন- আপনি কিভাবে শিরোনাম হবেন ‘মাননীয় স্বাস্থ্যমন্ত্রী’। হয়তো ভয়ে বা আতঙ্কে কেউ কিছু বলছে না। কিন্তু মানুষের মনের মাঝে কিভাবে আপনি আছেন একটু চিন্তা করুন। করোনা টেস্ট করতে এসে সন্তানের সামনেই সড়কে ছটফট করে মারা গেলেন এক বাবা। সেই সন্তানদের কাছে আপনি ‘মৃত ব্যবসায়ী’ নয় তো? রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বাসিন্দা আবদুর রাজ্জাক করোনা উপসর্গ নিয়ে ৩ মে (ররিবার) ভোরে পরীক্ষা করাতে এসেছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ)। সাথে ছিলেন দুই ছেলে। তবে সিরিয়াল না পেয়ে বাসায় ফেরার পথে শাহবাগ মোড়েই তিনি পৃথিবী ছেড়ে চলে গেলেন। সন্তানদের সামনে রাস্তায় বাবার মৃতদেহ পড়ে থাকা। পৃথিবীতে এমন নিষ্ঠুর মৃত্যু যেন কারও না হয়। বাংলাদেশে এ পর্যন্ত ১৫ হাজার ৬৯১ জন করোনা রোগী শনাক্ত হয়েছে আর মৃত্যু হয়েছে ২৩৯ জনের! এখনই এই অবস্থা! দীর্ঘসময় ধরে লাইনে দাঁড়িয়ে রাখা হচ্ছে টেস্ট করতে আসা মানুষজনকে। তবে উপসর্গ থাকলে রোগীদের ভর্তি নিচ্ছে না হাসপাতাল সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। রোগীর চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক, নার্স ও স্বাস্থ্যসেবাকর্মীদের বিশেষ সুরক্ষাসামগ্রী দিচ্ছে সরকার। এর মধ্যে মাস্ক ও পিপিই আছে। কিন্তু ‘এন-৯৫’ নামে যেসব মাস্ক দেওয়া হয়েছে, সেগুলোর মান নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এ পর্যন্ত সারা দেশে ছয় শতাধিক চিকিৎসক করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। মৃত্যু হয়েছে দুই জন ডাক্তারের। নিরাপত্তায় থাকা পুলিশ সদস্য আক্রান্ত হয়েছেন ১৫৯৪ জন। আবার ‘এন-৯৫’ নামে মাস্ক নিয়ে প্রশ্ন তুলায় অনেক চিকিৎসককে ওএসডিও করা হচ্ছে। ভিডিও কনফারেন্স কোনো চিকিৎসক কিছু বলতে গেলে পরে তাদের স্থানীয় নেতারা হুমকি দিচ্ছেন। চট্টগ্রামের একজন চিকিৎসক নেতা ফেসবুক স্ট্যাটাসের মাধ্যমে জানান, তাকে কিভাবে হুমকি দেওয়া হয়েছে। এই যুদ্ধে কেউ হবেন যোদ্ধা, আবার কেউ হবেন ‘মৃত ব্যবসায়ী’। এখন আপনি কিভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন? যখন করোনা রোগীর সংখ্যা ছিল একশ তখন সবাইকে পিটিয়ে ঘরে পাঠালেন, লকডাউন দিলেন কিন্তু যখন সংখ্যা ১৫ হাজার তখন আবার সবাই মাঠে! এই করোনা নিয়েও চলছে এখন রাজনীতির মাঠে পাল্টা-পাল্টি বক্তব্য। কিছু কিছু মন্ত্রী এমন তথ্য আবিষ্কার করেন যা শুনে নিজের দলের নেতা-কর্মীরাও লজ্জায় মুখ লুকাতে চান। গুরুত্বপূর্ণ পদে বসে এমন বেফাঁস কথাবার্তা এই সময় বিবেকবান মানুষকে হতভম্ভ করছে। আমাদের কি নেই? এই প্রশ্ন যদি আমাকে কেউ করেন তাহলে একটিই উত্তর আমার দরকার ‘সৎইচ্ছে’। যদি আমাদের সৎইচ্ছে থাকতো তাহলে কিছুই আমাদের অপূর্ণ নেই। ‘মৃত ব্যবসায়ী’ শিরোনাম, এই চিন্তায় ব্যবসায়ীকে বিব্রত করে তুললো এবং তিনি সিন্ধান্ত নিলেন এইভাবে তিনি মানুষের মাঝে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন না। সেই চিন্তা থেকে তিনি পৃথিবীতে শান্তির জন্য চেষ্টা শুরু করলেন তার নাম ছিল ‘আলফেড নোবেল’। এখন আপনি চিন্তা করেন কিভাবে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন?’ বর্তমানে ‘আলফেড নোবেল’ নোবেল পুরস্কারের জন্য স্মরণীয় হয়ে আছেন। আপনি কি করোনার মৃত্যুর মিছিল তৈরি করে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন? না বাংলাদেশের মানুষকে এই মহামারির সময় সঠিক চিকিৎসা ব্যবস্থা করে স্মরণীয় হবেন? আর সম্ভব না হলে জাতির কাছে ক্ষমা চেয়ে এখনি পদ থেকে সরে যান। 
আমাদের মাঝেও যে কিছু সংখ্যক পঙ্গপাল রয়েছে; তা করোনাভাইরাসের প্রাদুর্ভাব না আসলে মানুষ সহজে বুঝতে পারতো না। গরীবের খাবারে যারা থাবা বসায়, ভাগ সবায় তারা কি পঙ্গপাল নয়? চাল চোররা কি পঙ্গপাল নয়? চাল চোর নেতাদের অবস্থা সেই লোভী রাজার মতো। লোভী রাজার অনেক ধন-দৌলত থাকার পর তার আরও আরও চাই স্বভাব ছিল। রাজা তার ধনাগারে প্রতিদিন গিয়ে বসে সঞ্চিত সোনা হিসেব করতেন, আরও বেশি সোনার প্রত্যাশা করতেন। সেই লোভী রাজা একদিন স্বপ্ন দেখল- তিনি যা স্পর্শ করবেন তা সোনা হয়ে যাবে। পরের দিন সকালে যেমন স্বপ্ন দেখেছেন তেমনি হচ্ছে। যেখানেই স্পর্শ করেন তা সোনা হয়ে যায়। খাবার-পানিসহ সবই সোনা হয়ে যায়- কিছুই খেতে পারছেন না তিনি। এক সময় রাজার এক মাত্র মেয়ে যখন রাজাকে স্পর্শ করলো তখন মেয়েটিও সোনার মূর্তি হয়ে গেল। রাজা তখন তার লোভের পাপ বুঝতে পারলো এবং সৃষ্টিকর্তার কাছে ক্ষমা চাইলো। অনেক কান্নাকাটি করে আবার নিজের মেয়েকে স্বরূপে ফিরে পেলো। চাল চোররা এখনও তাদের লোভ থামাতে পারেনি। গরীবের ত্রাণের চাল পুকুরে ফেলছে, তাদের কষ্ট হচ্ছে না। করোনায় তো কাউকে ‘করুণা’ করছে না। এটা কবে যাবে, কি হবে কেউই বলতে পারছে না। এ অবস্থায় করোনা থেকে চাল চোরদের পরিবার নিরাপদ তো? ই-মেইল :zamild2k@yahoo.com