রবিবার, ০৮-ডিসেম্বর ২০১৯, ১০:১৫ অপরাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • গফরগাঁওয়ে শহীদ আব্দুল বেপারী তোরণটি ঝুঁকিপূর্ণ, আতঙ্কে এলাকাবাসী   

গফরগাঁওয়ে শহীদ আব্দুল বেপারী তোরণটি ঝুঁকিপূর্ণ, আতঙ্কে এলাকাবাসী   

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৭ নভেম্বর, ২০১৯ ১২:০৭ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ, গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) : ময়মনসিংহের গফরগাঁও পৌরশহরের মধ্যবাজারে প্রবেশ পথে মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত শহীদ আব্দুল বেপারীর জরাজীর্ণ তোরণটি যেকোন সময় ধসে পড়তে পারে। তোরণটি ধসে পড়ে হতাহতের আশঙ্কায় গফরগাঁও বাজার ব্যবসায়ীদের মধ্যে এখন চরম আতঙ্ক বিরাজ করছে। ঝূঁকিপূর্ণ তোরণটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের জন্য ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক ও উপজেলা প্রশাসনের কাছে আবেদন নিবেদন করেও কোন সাড়া পাওয়া যাচ্ছেনা বলে অভিযোগ শহীদ পরিবার এবং বাজার ব্যবসায়ীদের। 

জানা যায়, মহান স্বাধীনতা যুদ্ধ চলাকালে ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল গফরগাঁও বাজারে পাকবাহিনীর বোমারু বিমান থেকে ছোঁড়া বোমা নিক্ষেপের ফলে আব্দুল বেপারীসহ বেশ কয়েকজন ব্যবসায়ী নিহত হন। স্বাধীনতা যুদ্ধে নিহত শহীদদের স্মরণে তৎকালীন এমপি আবুল হাশেমের উদ্যোগে গফরগাঁও মধ্যবাজারের প্রবেশ পথে একটি তোরণ নির্মাণ করেন। তোরণটির নাম করণ করা হয় শহীদ আব্দুল বেপারীর নামে। নির্মাণ কাজ শেষে ১৯৭৩ সালে তৎকালীন সরকারের শিল্পমন্ত্রী সৈয়দ নজরুল ইসলাম তোরণটি আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন। স্বাধীনতা যুদ্ধের পর গফরগাঁও বাজারের অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং  সংস্কার না করার ফলে জরাজীর্ণ শহীদ আব্দুল বেপারী তোরণটি ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে। দীর্ঘদিনের পুরনো তোরণটিতে ফাটল ধরেছে। খসে পড়েছে আস্তরণ। রডগুলো বেরিয়ে এসেছে, ফলে তোরণটি এক দিকে হেলে পড়েছে। 

তোরণ সংলগ্ন ওষধ ব্যবসায়ী নাহিদুল আলম জানান, আমরা এখন চরম আতঙ্কে আছি। মনের মধ্যে ভয় নিয়ে সার্বক্ষণ দোকানে বসে থাকি। কখন ভেঙে পড়ে। আল্লাহ যেন আমাদের হেফাজত করেন। 

গফরগাঁও বাজার ব্যবসায়ী সমিতির আহবায়ক সাবেক মেয়র মনজুর মিয়া জানান, তোরণটি বর্তমানে ভয়াবহ ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় আছে। বাজার ব্যবসায়ীদের পক্ষ থেকে প্রশাসন ও স্থানীয় কাউন্সিলরকে অবহিত করা হয়েছে। 

শহীদ পরিবারের সদস্য আব্দুল বেপারীর ছেলে আমিনুল হক কামাল জানান, ঝুঁকিপূর্ণ তোরণটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের জন্য গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও ময়মনসিংহ জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিতভাবে আবেদন করা হয়েছে। এবিষয়ে গফরগাঁও উপজেলা নির্বাহী অফিসার কাজী মাহাবুব উর রহমান জানান, উপজেলা প্রকৌশলীকে নির্দেশ দিয়েছি, পৌর কর্তৃপক্ষের সাথে আলোচনা করে তোরণটি ভেঙে নতুন করে নির্মাণের জন্য।
শীর্ষনিউজ/তফাজ্জল হোসেন/এসএসআই