বৃহস্পতিবার, ০২-এপ্রিল ২০২০, ১০:৫০ অপরাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • হাতের টানে উঠে আসছে ৩ কোটি টাকার রাস্তার কার্পেটিং

হাতের টানে উঠে আসছে ৩ কোটি টাকার রাস্তার কার্পেটিং

shershanews24.com

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৬:২৭ অপরাহ্ন

 

শীর্ষনিউজ, সিরাজগঞ্জ : সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলার বহুলী-কোনাবাড়ি-চন্ডিদাসগাঁতী পাকা সড়ক নির্মাণে ব্যাপক অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। এ সড়কের সদর উপজেলার শিয়ালকোল ইউনিয়নের খামার পাইকোশা গ্রামের অংশে অনিয়ম এতটাই যে টান দিলে হাতের সঙ্গে উঠে আসছে পিচ-পাথরের কার্পেটিং।

এই নির্মাণাধীন সড়কের কাজে অনিয়মের খবর সংগ্রহ করতে গেলে পাঁচ সাংবাদিকের ওপর হামলা চালায়। বুধবার বিকেলে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডলি কনস্ট্রাকশনের সাইড ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলামের বাহিনী তাদের ওপর হামলা করে।

এ ঘটনা জানতে পেরে ইতিমধ্যেই সিরাজগঞ্জ স্থানীয় সরকার প্রকৌশল বিভাগ এ সড়কের নির্মাণকাজ বন্ধ করে দিয়েছে।।

এ বিষয়ে খামার পাইকোশা গ্রামের নূর জাহান, আলেয়া বেগম, সেলিম রেজা, আলামিন হোসেন জানান, দুই দিন আগে এ সড়কে পিচ-পাথরের নতুন কার্পেটিং করা হয়েছে। অথচ এখনই এর এক অংশ ধরে টান দিলে হাতের সঙ্গেই পুরো কার্পেটিং উঠে আসছে। ছোট ছোট ছেলেমেয়েরাই এটা টেনে তুলে ফেলছে।

তারা আরো জানান, বুধবার সাংবাদিকরা এ সড়কের কাজের অনিয়মের ছবি তুলতে গেলে তারা ঠিকাদারের লোকজনের হামলার শিকার হন। অপর দিকে সাংবাদিকদের কাছে এই অনিয়ম-দুর্নীতির তথ্য দেওয়ায় ও সাংবাদিকদের দায়ের করা মামলায় সাক্ষী হওয়ায় ঠিকাদারের ভাড়াটিয়া সন্ত্রাসীরা এখন আমাদের বাড়ি বাড়ি গিয়ে নানাভাবে হুমকি দিচ্ছে। ফলে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে রয়েছি।

এ বিষয়ে শিয়ালকোল ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ড সদস্য আজাদুল ইসলাম বলেন, এ রাস্তার কাজ এতটা খারাপ হচ্ছে যে হাত দিয়ে টান দিলেই ঢালাই করা কার্পেটিং উঠে যাচ্ছে। ফলে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী এরই মধ্যে এ রাস্তার অনেক স্থানের কার্পেটিং টেনে তুলে ফেলেছে।

এ বিষয়ে সিরাজগঞ্জ সদর উপজেলা প্রকৌশলী আবু সায়েদ জানান, ৩ কোটি ২৮ লাখ টাকা ব্যয়ে বহুলী জিসি-কোনাবাড়ি এনএইচডাব্লিউ ভায়া চন্ডিদাসগাঁতী হাট রোড নামে ৩ হাজার ৬৭০ মিটার এ সড়কটির নির্মাণকাজ শুরু হয় ২০১৮ সালের ১৬ জুলাই। দরপত্রের মাধ্যমে ঢাকার ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডলি কনস্ট্রাকশন এ কাজটি পায়। প্রথম দিকে ৩০ অক্টোবর ২০১৯ পর্যন্ত কাজটি শেষ করার মেয়াদ ছিল। ওই ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এ মেয়াদের মধ্যে কাজ শেষ করতে না পেরে সময় আরো বাড়িয়ে নেয়। বর্তমানে সড়কটির বেশির ভাগ অংশের কাজ শেষ হয়েছে।

তিনি জানান, এর আগেও নিম্নমানের ইট ব্যবহারের অভিযোগে ওই সড়কটির নির্মাণকাজ বন্ধ করা হয়েছিল। পরবর্তীতে ইট পরীক্ষা করে আবারও কাজ শুরুর অনুমতি দেওয়া হয়। নিম্নমানের কাজের অভিযোগের প্রেক্ষিতে আবারও কাজ বন্ধ করে দিয়েছি। বিটুমিনসহ অন্যান্য উপকরণ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে নিম্নমান ধরা পড়লে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই