শুক্রবার, ০৫-জুন ২০২০, ০৪:০৫ অপরাহ্ন
  • জেলা সংবাদ
  • »
  • ভাবিকে হত্যার পর লাশ ছিনতাইয়ের অভিযোগে জাপা নেতার বিরুদ্ধে মামলা 

ভাবিকে হত্যার পর লাশ ছিনতাইয়ের অভিযোগে জাপা নেতার বিরুদ্ধে মামলা 

shershanews24.com

প্রকাশ : ২১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৭:১০ অপরাহ্ন

 

শীর্ষনিউজ, জয়পুরহাট : জয়পুরহাট সদর উপজেলা জাতীয় পার্টির সাধারণ সম্পাদক ও দোগাছী ইউপি সদস্য আবু বায়েজীদের বিরুদ্ধে তার ভাবি বিলকিস বানুকে হত্যার অভিযোগে আদালতে মামলা হয়েছে।

মঙ্গলবার জয়পুরহাট জেলার বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আমলি-১ আদালতে মৃত বিলকিস বানুর বড় বোন মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন। ওই মামলায় জাপা নেতা ও ইউপি সদস্য আবু বায়েজীদ ও তার স্ত্রী ফাতেমাকে আসামি করা হয়েছে।

আদালতের বিচারক মোহাম্মদ ইকবাল বাহার মামলাটি আমলে নিয়ে জয়পুরহাট থানায় এজাহারভুক্ত করার নির্দেশ দিয়েছেন।

মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, মৃত বিলকিস বানু অন্যের বাড়িতে কাজ করে তিন সন্তানকে নিয়ে খুব কষ্টে জীবনযাপন করছিলেন। বিলকিস বাবার বাড়ির সম্পত্তি বিক্রি করে বসত বাড়ির পাশে একখণ্ড জমি কেনেন। ওই জমি তার দেবর জাপা নেতা ও ইউপি সদস্য আবু বায়েজীদ এবং তার স্ত্রী ফাতেমা গ্রাস করার উদ্দেশ্যে প্রায়ই বিলকিস বানুকে শারীরিক ও মানসিকভাবে নির্যাতন করে আসছিল।

অভিযোগে বলা হয়, আবু বায়েজীদ প্রভাবশালী হওয়ায় বিলকিসের স্বামীও তাকে কিছু বলতে পারত না। বিলকিস নিরুপায় হয়ে ১৬ ডিসেম্বর ২০১৯ তারিখে বিজ্ঞ নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একটি মামলা দায়ের করেন। মামলা করার পর আবু বায়েজীদ ক্ষিপ্ত হয়ে এ বছরের ১০ ফেব্রুয়ারি বিকেলের দিকে বিলকিসকে বেদম মারধর করেন আবু বায়েজীদ। এতে বিলকিস অজ্ঞান হয়ে পড়লে প্রতিবেশীদের সহযোগিতায় তাকে জয়পুরহাট আধুনিক জেলা হাসপাতালে ভর্তি করান হয়। সেখানে তার অবস্থার অবনতি হলে পরদিন ১১ ফেব্রুয়ারি সকালে উন্নত চিকিৎসার জন্য বগুড়া শহীদ জিয়াউর রহমান মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় বিকেল ৫টার দিকে বিলকিস মারা যান এবং লাশটি তার পরিবার নিয়ে আসে।

মামলার এজাহারে আরো বলা হয়, লাশের শরীরে আঘাতে চিহ্ন দেখে জয়পুরহাট থানা পুলিশকে খবর দেয় তার পরিবার। তারা থানায় লিখিত অভিযোগ করেন। পুলিশ বিলকিসের পরিবারকে ভুল বুঝিয়ে লাশের সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি করে। ময়নাতদন্ত শেষে বিলকিসের ইচ্ছা অনুয়ায়ী তাকে মায়ের বাড়ি ধামইরহাট নিয়ে যাওয়ার পথে বায়েজীদের নেতৃত্বে অজ্ঞাতনামা ২০/২৫ জন তাদের পথরোধ করে এবং সঙ্গে থাকা লোকজনকে পিটিয়ে লাশ ছিনতাই করে নিজ এলাকায় দাফন সম্পন্ন করে। পরে থানায় খবর নিয়ে জানা যায়, আগের দেওয়া অভিযোগটি মামলা রেকর্ড করা হয়নি। এ ব্যাপারে আবু বায়েজীদ এবং তার লোকজন বাদী মর্জিনা বেগমকে মোবাইলে হুমকি দেয় ও মামলা করলে তার মেয়েকে অপহরণেরও হুমকি দেয়। পরে মৃত বিলকিসের বড় বোন মর্জিনা বেগম বাদী হয়ে জয়পুরহাট আদালতে মামলা দায়ের করেন।

 মামলার বাদী মর্জিনা বেগম, তার পরিবার ও এলাকাবাসীরা বলেন, প্রভাবশালী বায়েজীদের বিরুদ্ধে বিলকিস নিরাপত্তা চেয়ে গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে ১০৭/১১৭ ধারায় মামলা দায়ের করেন। প্রভাবশালী বায়েজীদ সুকৌশলে বিলকিসকে ভয়ভীতি ও প্রভাবিত করে ২০২০ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি মামলাটি প্রত্যাহার করে নেন। পর দিন ১০ ফেব্রুয়ারি তাকে মারধর করে গুরুতর আহত করেন। ১১ ফেব্রুয়ারি বিলকিস বানু মারা যান। এরপর থানায় অভিযোগ করে বায়েজীদসহ তাদের আসামি করতে বললে পুলিশ আমাদের অসহযোগিতা করে। বাধ্য হয়ে আদালতে মামলা করা হয়। মামলার পর থেকে বায়েজীদ ও তার লোকজন আমাদের পরিবারকে নানা ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে যাচ্ছে এবং নিহত বিলকিসের ছেলেদের বায়েজীদ ভয়ভীতি দেখিয়ে পুলিশকে দিয়ে হয়রানির চেষ্টা করছে।

এ ব্যাপারে বহু চেষ্টার পরও জাপা নেতা ও ইউপি সদস্য আবু বায়েজীদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি। জয়পুরহাট থানার অফিসার ইনচার্জ শাহরিয়ার খান বলেন, আদালতের এজাহারটি এসেছে কি না তা দেখতে হবে। অবশ্যই আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া হবে।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই