রবিবার, ১৭-নভেম্বর ২০১৯, ০৯:৪১ পূর্বাহ্ন

বিটিসিএল’র অফার ঘোষণার পরও আগ্রহ নেই গ্রাহকের

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৫ অক্টোবর, ২০১৯ ০৬:০৯ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লি. (বিটিসিএল) অক্টোবর ২০০৯ সালের হিসাব অনুযায়ী, সরকারি বেসরকারি মিলিয়ে পিএসটিএন বা ল্যান্ডফোন গ্রাহক ছিল প্রায় নয় লাখের মতো। বর্তমানে সরকারি  প্রতিষ্ঠান বিটিসিএলের গ্রাহক রয়েছে ছয় লাখ। তাও এর অনেকগুলোই এখন সক্রিয়ভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে না। বছরের পর বছর গ্রাহকভোগান্তি, কারণে-অকারণে সংযোগ বিচ্ছিন্ন ও মোবাইল ফোনের সহজলভ্যতার কারণে ল্যান্ডফোন থেকে মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন সাধারণ মানুষ। ফলে ল্যান্ডফোনের গ্রাহক দিন দিনই কমছে। বর্তমানে অস্তিত্ব সংকটে সরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন কোম্পানি লি. (বিটিসিএল)। গত ১৬ আগস্ট মাসিক সর্বোচ্চ ১৫০ টাকা টেলিফোন কল বিল নির্ধারণ করলেও গ্রাহককে ফেরাতে পারছে না বিটিসিএল। গ্রাহকদের হয়রানি-ভোগান্তি, দুর্নীতি ও অনিয়মে প্রতিষ্ঠানটিতে সঠিক সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়ন না হওয়া, লোক দেখানো প্রকল্প বাস্তবায়ন, প্রকল্পের অর্থ নিয়ে নয়-ছয়, কর্মকর্তাদের সীমাহীন অনিয়মের বিচারকার্যে দীর্ঘসূত্রতা ও স্বচ্ছতা জবাবদিহীতার অভাবের কারণে বিটিসিএলে বর্তমান নাজুক অবস্থা।
বাংলাদেশে মোবাইল ফোন আসার আগে ল্যান্ডফোনের ওপরই নির্ভর করতে হতো সেবার জন্য। সেই টেলিফোন ছিল যেন সোনার হরিণ। সাধারণ মানুষ একটি টেলিফোন সংযোগের জন্য আবেদন করে বছরের পর বছর অপেক্ষা করেও সংযোগ পেতেন না। ভাগ্যবান যারা তারাই পেতেন, তাদেরও গুণতে হতো সরকারি মাশুল ছাড়াও মোটা অঙ্কের টাকা। এছাড়া লাইন সচল রাখার জন্য প্রতিমাসেই নির্দিষ্ট অংকের ঘুষ গুণতে হতো গ্রাহককে। তারপরও আবার মাঝেমধ্যেই ভৌতিক বিলের চাপ সহ্য করতে হতো। সংশ্লিষ্টদের মতে, বর্তমানে গ্রাহককে ভালো সার্ভিস দিতে না পারায়  গ্রাহক টানতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। কারণ হিসেবে মোবাইল ফোনের ব্যবহার ও সরকারের বিভিন্ন সংস্থার অপরিকল্পিত রাস্তা খোঁড়াখুঁড়িকে দায়ী করছে বিটিসিএল। তাদের মতে, ওয়াসা, সিটি করপোরেশনসহ বিভিন্ন সেবামূলক প্রতিষ্ঠান প্রতিনিয়ত বিভিন্ন স্থানে অপরিকল্পিতভাবে রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ি করতে গিয়ে ল্যান্ডফোনের তার কেটে ফেলছে। ফলে বিভিন্ন এলাকার টেলিফোন বিকল হয়ে যাচ্ছে। এই সমস্যার কারণে টেলিফোন গ্রাহকেরা চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। 
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ টেলিকমিউনিকেশন্স কোম্পানি লিমিটেডের (বিটিসিএল) বিভিন্ন প্রকল্পে গত কয়েক বছরে বিনিয়োগ হয়েছে ৬ হাজার কোটি টাকারও বেশি। বড় ধরনের এ বিনিয়োগের পরও উন্নতি নেই সেবার মানে। ২০১৭-১৮ অর্থ বছরে ১ হাজার ১৪০ কোটি ৩৬ লাখ ৯ হাজার ১ টাকা আয় হয়। আর ব্যয় হয় ১ হাজোর ৬১৬ কোটি ৬৭ লাখ ১৩ হাজার ৭৬৯ টাকা। নিট ক্ষতি দেখানো হয়েছে ৪৩৩ কোটি ৯৭ লাখ ৯৩ হাজার ৩৫৭ টাকা। বিটিসিএল থেকে যে অর্থ উর্পাজন হয়েছে তার সিংহভাগই হয়েছে ইন্টারনেট সেবার মাধ্যমে। ল্যান্ড ফোনের লাইন মেরামতের জন্য ব্যয় দেখানো হয় ৩৪ কোটি ৬৬ লাখ ৫২ হাজার ৯৬১ টাকা। দেখা যাচ্ছে, আয় তো দুরের কথা টেলিফোন সেবা চালু রাখার জন্য সরকারের কোটি কোটি টাকা ভর্তুকি দিচ্ছে প্রতি বছর । 
উল্লেখ্য, ২০০৮-০৯ অর্থবছরে প্রতিষ্ঠানটির আয় হয় ১ হাজার ৭১৯ কোটি টাকা। আর ব্যয় হয় ১ হাজার ৬২২ কোটি টাকা। ২০১১-১২ অর্থবছরে বিটিসিএল আয় করেছিল ২ হাজার ১৮৬ কোটি টাকা। আর খরচ করেছে ২ হাজার ২০৩ কোটি টাকা। এর আগের বছর আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৬৪০ কোটি টাকা। আর ব্যয় করেছিল ১ হাজার ৯৭৬ কোটি টাকা। ২০০৯-১০ অর্থবছরে আয় ও ব্যয় ছিল যথাক্রমে ১ হাজার ২৪১ কোটি এবং ১ হাজার ৩৪২ কোটি টাকা। অন্যদিকে ২০১২-১৩ অর্থবছরে ৫৪৪ কোটি টাকা লোকসান গুণতে হয়েছে কোম্পানিটিকে। ২০১৩-১৪ অর্থবছরে কোম্পানিটির আয় ছিল ৮৪৩ কোটি ৯৪ লাখ ৪৫ হাজার ৭২৬ টাকা, ২০১৪-১৫ অর্থবছরে ছিল ৫০৪ কোটি ৪৯ লাখ ২৯ হাজার ৮৫৪ টাকা, ২০১৫-১৬ অর্থবছরে বিটিসিএলের আয় বেড়ে দাঁড়ায় ১ হাজার ১৪০ কোটি ৫২ লাখ ৪৬ হাজার ৪৭২ টাকা। আর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে আয়ের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ১৩৬ কোটি ৩০ লাখ ১৮ হাজার ৯৩০ টাকা। কিন্তু এ বছরগুলোর প্রত্যেকটিতেই আয়ের চেয়ে ব্যয় ছিল বেশি।
বিটিসিএলের এক কর্মকর্তা শীর্ষ কাগজকে জানান, মোবাইল ফোনের ব্যবহার বাড়ছে। আর ল্যান্ডফোনের ব্যবহার কমছে। আমরা ল্যান্ডফোনের প্রতি আগ্রহ ধরে রাখার চেষ্টা করছি। দেশের অভ্যন্তরীণ এবং বিদেশের কলরেটও আগের চেয়ে কম। টেলিফোনের পাশাপাশি ডাটা সার্ভিসও এখন দেয়া হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন। তবে এখন পর্যন্ত গ্রাহকের সংখ্যা বাড়ছে না। ল্যান্ডফোনের প্রতি মানুষের দীর্ঘদিনের অভিযোগের ব্যাপারে তিনি বলেন, এখন আর অভিযোগ নেই। নতুন টেলিফোন সংযোগ পেতে এখন রাজধানীতে খরচ দুই হাজার টাকা। চট্টগ্রামে সংযোগ খরচ এক হাজার টাকা। অন্যান্য বিভাগীয় শহর, জেলা ও উপজেলায় নতুন সংযোগের খরচ ৬০০ টাকা। তাছাড়া ল্যান্ডফোন সার্ভিসও এখন নিরবচ্ছিন্ন।
কিন্তু নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিটিসিএলের কয়েকজন কর্মকর্তা সমস্যার কথা স্বীকার করে বলেন, প্রায় সময় নানা কারণে টেলিফোন সংযোগে সমস্যা হচ্ছে। এছাড়া বিভিন্ন সময়ে গ্রাহক হয়রানির অভিযোগও আছে অনেক। এছাড়া রাস্তা খোঁড়াখুঁড়ির কারণে বিটিসিএলের ভূগর্ভস্থ ক্যাবল কাটা পড়ে। একবার কাটা পড়লে তা মেরামত করতে কয়েক সপ্তাহ লাগে। আবার অনেক সময় চোরেরা ভূগর্ভস্থ ক্যাবল চুরি করেও নিয়ে যায়। ওই সব মোটা ক্যাবলের ভেতরের তামার তার খুলে চোরেরা বাইরে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে। ফলে অনেকেই অতিষ্ঠ হয়ে ফোন ব্যবহার বন্ধ করে দিয়েছেন। তাছাড়া লাইনম্যানদের দ্বারা গ্রাহক হয়রানি তো আছেই। এসব কারণ গ্রাহক কমতে কমতে এখন অর্ধেকে নেমে এসেছে। এই সংখ্যা আরো কমতে পারে বলেও আশঙ্কা তাদের।
ঢাকা আজিমপুরে কর্মরত বিটিসিএলের লাইনম্যান মো: বেল্লাল হোসেন বলেন, কাস্টমার কেয়ারে কোনো গ্রাহক তাদের অভিযোগ দেয়ার সাথে সাথে আসার চেষ্টা করি। কিন্তু আমাদের লোক সংখ্যা কম। এরিয়া অনেক বড় থাকায় লাইনের ত্রুটি দূর করতে হিমশিম খেতে হয়। সঠিক সময়ে লাইন ঠিক হয় না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, কোনো কারণে মেইন লাইন বিচ্ছিন্ন হয়ে গেলে মেইন লাইন ঠিক না হওয়া পর্যন্ত সাব-লাইনে কাজ করা যায় না। এই সময় যদি কোনো গ্রাহক অভিযোগ করে তাহলে তখন আমরা প্রতিকার করতে পারি না। আর এই ভাবে ১৫ থেকে ১ মাস সময় পার হয়ে যায় গ্রাহকদের টেলিফোনের লাইন সংযোগ দিতে। এখন গ্রাহক চাইলে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ল্যান্ডফোনের কানেকশন আমরা দিয়ে আসি। বিলও অনেক কম। অ্যানালগ থেকে ডিজিটাল, ন্যাশনওয়াইড ডায়ালিং, সারাদেশে একই কলরেট, তারপরও সাধারণ মানুষ এর প্রতি আর আগের মতো আগ্রহী নয়। বাংলাদেশের মানুষ এখন ফোনকে শুধুমাত্র কথা বলার মাধ্যম হিসেবে দেখে না। এখন তারা এটাকে যোগাযোগের মাধ্যম হিসেবে দেখছে। এর ডাটা বা ইন্টারনেট সার্ভিস প্রত্যন্ত গ্রামেও সমানভাবে পাওয়া যায়। আর এটা সম্ভব করেছে মোবাইল ফোন। এটা মানুষের অর্থনীতি, শিক্ষা, বিনোদনসহ জীবনের প্রায় সবদিকে ভূমিকা রাখছে। 
বিটিসিএল সূত্রে জানা গেছে, খারাপ অবস্থায় রয়েছে রাজধানীর ৫০ শতাংশ টেলিফোন সংযোগ। ঢাকার বাইরের অবস্থা আরো নাজুক। বিভাগীয় শহরগুলোর প্রায় ৬০ শতাংশ সংযোগ বিভিন্ন সময় অকার্যকর থাকে। আর জেলা শহরগুলোয় এর হার ৭৫ শতাংশ। সব মিলিয়ে সারাদেশে বিটিসিএলের সংযোগ প্রায় অর্ধেকই কোনো না কোনোভাবে অকার্যকর। 
গ্রাহকদের অভিযোগ, মাসের পর মাস লাইন খারাপ থাকলেও প্রতি মাসে ভাড়া গুণতে হয় ঠিকই। অভিযোগ করলেও লাইন সচলের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয় না। সময় মতো পৌঁছায় না বিলের কাগজও। যদিও মন্ত্রণালয়ের নির্দেশনা আছে প্রতি মাসের ৮ তারিখের মধ্যে গ্রাহকের কাছে বিল পৌঁছে দেয়ার। ১৫ লাখ গ্রাহককে টেলিফোন সেবা দেয়ার সক্ষমতা কথা জানায় বিটিসিএল কিন্তু গ্রাহকসেবায় মানোন্নয়নে ব্যর্থ হওয়ায় সংযোগ সক্ষমতাও পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছে না প্রতিষ্ঠানটি। 
আর এই সব কারণে প্রতিবছর প্রায় ৫০ হাজার গ্রাহক হারাচ্ছে সংস্থাটি। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, দাপ্তরিক চাহিদা ছাড়া আবাসিক খাতে এখন আর ল্যান্ডফোনের কোন চাহিদা নেই। ফলে এটির সংখ্যাও বাড়ছে না। ভয়েস কল সুবিধা দিয়ে গ্রাহকদের ধরে রাখতে বিটিসিএল চেষ্টা করলেও শুধুমাত্র ভয়েস কলের সুযোগ দিয়ে গ্রাহক ধরে রাখা সম্ভব নয় বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। 
শুধু ভয়েসের প্রস্তাব দিয়ে জনগণকে কতটা আকৃষ্ট করা যাবে, এ নিয়ে সন্দেহ আছে। মোবাইল ফোনের বিকল্প হিসাবে শুধু সস্তায় কথা বলার জন্য একটি ল্যান্ড ফোনের প্রয়োজনীয়তা মানুষ অনুভব করতে নাও পারে। বর্তমান বিশ্বে উন্নত দেশগুলোয় ল্যান্ড ফোনের সঙ্গে মানুষ ইন্টারনেট, টিভি, স্ট্রিমিং ইত্যাদি সুবিধা দেয়া হয়, যা প্রচলিত মোবাইলের চেয়ে কম খরচে পাওয়া যায়। ফলে সেখানে এখনো এ ধরণের ফোনের চাহিদা আছে। সেসব সেবা যদি যুক্ত করা হয় আমাদের দেশে তাহলে গ্রাহক সেবা বাড়ানো সম্ভব, যা বিটিসিএলের সক্ষমতার ভেতরেই আছে, তাহলে অবশ্যই এটা গ্রাহকের কাছে একটি প্রয়োজনীয় সংযোগ মনে হতে পারে। টেলিফোন ক্যাবল কাটা, নষ্ট হওয়াসহ নানা কারণে বিটিসিএল ধ্বংসের পথে যাচ্ছে। মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ রূপকল্প বাস্তবায়ন কর্মসূচি।
অপরদিকে বছরের পর বছর একাধিকবার চিঠি দেয়ার পরেও সরকারি-আধা সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলো টেলিফোনের বকেয়া বিল পরিশোধে করছে না। প্রতিষ্ঠানটি বলছে, জেলা প্রশাসকের অফিস, সিটি করপোরেশন, সিডিএ, ওয়াসা, জজ কোর্ট কর্তৃপক্ষকে টেলিফোনের বিল পরিশোধ করার জন্য একাধিকবার চিঠি দেয়া হলেও কোন সুফল পাওয়া যাচ্ছে না । বিল বাবদ বড় অংকের অর্থ বকেয়া থাকার কারণে অর্থের অভাবে নানামুখী সমস্যায় জর্জরিত সরকারি টেলিফোন সেবা প্রদানকারী বিটিসিএল। 
যদিও কর্মকর্তারা দুর্নীতির কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করতে চান না, কিন্তু এটা দিবালোকের মত সত্য যে, সংস্থাটির প্রতি রন্ধ্রে রন্ধ্রে দুর্নীতি বাসা বেঁধেছে। লাগামহীন দুর্নীতির কারণে প্রতিনিয়ত ডুবতে থাকা সরকারের বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক-ক্ষমতা ছিল প্রায় ১৩ লাখ। কিন্তু গত কয়েক বছরে এই প্রতিষ্ঠানের গ্রাহক কমতে কমতে অর্ধেকে নেমে এসেছে। গত বছরও এর গ্রাহকসংখ্যা ছিল সাত লাখের ওপরে। আর চলতি বছর সেটি ছয় লাখের কিছু বেশি। প্রতিদিনই গ্রাহকরা সারেন্ডার করছেন শুধু অনিয়ম, দুর্নীতি ও হয়রানির কারণে।
কল রেট কমানোর পরও আউট গোয়িং কলের সংখ্যা বাড়ছে না। সরকারি আধা সরকারি অফিসগুলোতে আগে যতটুকু ব্যবহার হচ্ছিলো এখনো ততটুকুই হয়। তবে এসব ক্ষেত্রে সরকারি প্রয়োজনের চেয়ে ব্যক্তিগত ব্যবহারই বেশি হয়। ওই সব ল্যান্ডফোন থেকে বেশির ভাগ ফোন যায় মোবাইল ফোনে। এমন অবস্থায় ল্যান্ডফোনের বেহাল অবস্থায় কাটিয়ে উঠার জন্য নতুন কার্যকর কোনো পদক্ষেপ নিতেও দেখা যাচ্ছে না প্রতিষ্ঠানটিকে। অন্য দেশেগুলো যেভাবে ল্যান্ডফোনকে লাভজনক অবস্থায় ধরে রেখেছে সেই ব্যবস্থা সরকারকে নিতে হবে। এছাড়াও সরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবার মান বাড়াতে হলে বিটিসিএলের কর্মকর্তা-কর্মচারিদের মধ্যে জবাবদিহি নিশ্চিত করতে হবে। কর্মীদের কাজ করতে হবে সেবার মানসিকতা নিয়ে। যদি কারও বিরুদ্ধে অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে, এর সঠিক তদন্ত করতে হবে। কর্মীদের মধ্যে এই মানসিকতা সৃষ্টি করতে হবে যে, ভালো কাজ করলে যেমন পুরস্কার পাওয়া যাবে, খারাপ কাজ করলে বা অনিয়ম-দুর্নীতি করলে বা দায়িত্বে অবহেলা করলে তিরস্কারের মুখোমুখিসহ কঠোর শাস্তিও পেতে হবে। অন্যথায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের সেবার মানের সঙ্গে সরকারি প্রতিষ্ঠান সব সময়ই হেরে যাবে।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৬ সেপ্টেম্বর ২০১৯ প্রকাশিত)