বৃহস্পতিবার, ২১-নভেম্বর ২০১৯, ০৫:২৬ অপরাহ্ন

যা করছেন মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের সচিব

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৩ অক্টোবর, ২০১৯ ০৫:০০ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হালনাগাদ করাসহ মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যে কর্মসূচি এবং প্রকল্পগুলো নেয়া হয়েছে এগুলোর কর্মকা- অনেক পিছিয়ে আছে। সাধারণ মুক্তিযোদ্ধাদেরকে নানা কারণে প্রতিনিয়ত হয়রানির মুখে পড়তে হচ্ছে। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা যিনি, সেই সচিবের তাতে কোনো ভ্রুক্ষেপ নেই। তিনি একের পর এক বিদেশ সফরের কর্মসূচি তৈরি ও নানা রকমের ধান্দা-ফিকির নিয়ে ব্যস্ত রয়েছেন। এ রিপোর্ট লেখার সময় বর্তমানে জার্মানি ও অস্ট্রিয়া সফরে আছেন। সেখান থেকে ফেরার পর প্রস্তুতি নেবেন আমেরিকা ও কানাডা সফরের। জার্মানি সফরের আগেই এ ব্যাপারে সার-সংক্ষেপ তৈরি করে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পাঠিয়ে গেছেন। তার এমন কর্মবিমুখ এবং সফর প্রবণতা নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। তারপরও থেমে নেই সচিবের এহেন বিতর্কিত তৎপরতা। 
আগামী ১৫ ফেব্রুয়ারি সচিব আরিফ উর রহমানের চাকরির বয়স শেষ হবে। তাই মন্ত্রণালয়ের কাজের প্রতি নয়, বরং মনোযোগ অন্যদিকেই তার বেশি। অবশ্য তিনি মন্ত্রণালয়ের অধীন কর্মকর্তাদের নিজেই বিভিন্ন সময়ে এ কথা বলেন, আমার তো চাকরি শেষ। কী আর কাজ করবো? তোমরাই করো। 
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, গত এপ্রিল মাসে সচিব এসএম আরিফ উর রহমান দুই দফায় বিদেশ সফরে গেছেন। এপ্রিল থেকে এ পর্যন্ত ছয় দফায় বিদেশ সফর করছেন। গত জুনে সাধারণ পূর্ত কাজের কথা বলে ১৫ লাখ টাকা ছাড় করিয়েছেন। কিন্তু মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিস্ট শাখাকে এ কাজের দায়িত্ব না দিয়ে সচিব নিজের হাতেই এ অর্থগুলো খরচ করেছেন। এরমধ্যে এক লাখ টাকার কাজও সঠিকভাবে হয়নি। বাকি টাকা আত্মসাত করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এছাড়া সচিবের বিরুদ্ধে মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন প্রকল্পের কর্মকা-ে কমিশন, এমনকি মুক্তিযোদ্ধাদের সনদ সংশোধন বাবদ ঘুষের অর্থের ভাগ নেয়ারও অভিযোগ রয়েছে। 
বর্তমানে মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ডেস্কের দায়িত্ব দেয়া হয়েছে সবচেয়ে অথর্ব ও দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে। এ মন্ত্রণালয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হলো গেজেট শাখা। এ শাখার মাধ্যমে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধাদের চূড়ান্ত তালিকার গেজেট প্রকাশ, ভুয়া সার্টিফিকেটধারীদের গেজেট বাতিল এবং ভুল সংশোধনের মতো অতি গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলো হয়ে থাকে। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা মুক্তিযোদ্ধারা এসব কাজের জন্য সরাসরি এ শাখায় যোগাযোগ করেন। কিন্তু তাদেরকে এখানে এসে চরম হয়রানি ও ক্ষতির মুখে পড়তে হয়। কারণ এ শাখার দায়িত্বে আছেন উপসচিব রথিন্দ্রনাথ দত্ত, যিনি সকাল ১১টার আগে কখনো অফিসে আসেন না। আবার বিকেল ৫টার আগেই অফিস ত্যাগ করেন। অফিসের জরুরি প্রয়োজনে ফোনেও তাকে পাওয়া যায় না। নিজে কোনো ফাইল পড়েন না, অধীনস্থ কর্মচারী ও দালালরা যেটি তৈরি করে হাতে দেয় তাতেই চোখ বুঁজে স্বাক্ষর করেন। এর বাইরে অন্য কোনো কাজ নিজে থেকে করেন না। 
জানা গেছে, এ শাখায় বর্তমানে টাইপিস্ট পদে আছেন আব্দুল লতিফ। তিনি ইতিপূর্বে প্রত্যয়ন শাখায় ছিলেন। সেই শাখায় থাকাকালে ঘুষ লেনেদেন ও দুর্নীতির অনেক অভিযোগ ছিল তার বিরুদ্ধে। ডিপিডিসির কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মুক্তিযোদ্ধা সার্টিফিকেট প্রত্যয়নে ঘুষ লেনদেনের সুনির্দিষ্ট অভিযোগ আসার পর তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার প্রক্রিয়া শুরু হলে সচিবের হস্তক্ষেপে তিনি বেঁচে যান। বর্তমানে তাকে দেয়া হয়েছে গেজেট শাখার মতো আরো ব্যস্ততম স্থানে। এখানেও তার বিরুদ্ধে ঘুষ লেনদেন এবং সাধারণ নিরীহ মুক্তিযোদ্ধাদের চরমভাবে হয়রানির অনেক অভিযোগ উঠেছে। এ কারণে তাকে অন্যত্র বদলিরও আদেশ জারি হয়েছিল। কিন্তু সচিব আরিফ-উর-রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপের কারণে সেটিও বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। 
গেজেট সংশোধনসহ নানা কাজে দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে প্রতিদিন অনেক মুক্তিযোদ্ধা এই শাখায় এসে যোগাযোগ করেন। যেহেতু অনেক দূর-দূরান্ত থেকে এবং জরুরি কাজে আসেন তাই অতি অল্প সময়ে কাজটি সেরে নিতে চান তারা। কিন্তু তা সম্ভব হয়ে উঠে না উপসচিব রথিন্দ্রনাথ দত্ত এবং টাইপিস্ট লতিফের লাগামহীন দুর্নীতিপরায়ণতার কারণে। ঘুষ লেনদেন সম্পন্ন না হলে তারা এ কাজগুলোতে হাতই দেন না, এমন অভিযোগ রয়েছে ব্যাপকভাবে। কিন্তু সচিব তাদেরকে এ কাজে সরাসরি প্রশ্রয় দিয়ে যাচ্ছেন। অভিযোগ রয়েছে, সচিবও এসব ঘুষের ভাগবাটোয়ারা পাচ্ছেন। আর এ কারণেই রথিন্দ্রনাথ দত্তের বিরুদ্ধে অফিসের নিয়ম-কানুনের বাইরে খেয়াল-খুশিমতো অফিসে আসা, অফিসের কাজে মনোযোগী না হওয়া, অফিসের ও বাইরের লোকজনের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করা এবং দুর্নীতিসহ অনেক অভিযোগ থাকার পরও তাকেই জনপ্রশাসনের শুদ্ধাচার পুরষ্কারের জন্য সুপারিশ করেন সচিব আরিফ-উর-রহমান। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ে ব্যাপক কানাঘুষা চললেও সচিব তাতে কর্ণপাত করেননি। জানা গেছে, অফিসে উপসচিব রথিন্দ্রনাথের আচরণ এতো খারাপ যে, তিনি ইতিপূর্বে নিজ হাতে এমএলএসএস দাউদকে মারপিট করেন। এ নিয়ে মন্ত্রণালয়ের কর্মচারীরা বিক্ষুব্ধ হয়ে উঠলে সার্বিক পরিস্থিতি অবনতির আশংকা দেখা দেয়। পরে অন্য কর্মকর্তারা বিষয়টি মিটমাট করেন। 
সূত্রমতে, সারাদেশে মুক্তিযোদ্ধাদের তালিকা হালনাগাদ চলছে এখন। কিন্তু এ কাজটি যথাসম্ভব দ্রুত করার উদ্যোগ নেয়া হলেও তা অনেক পিছিয়ে রয়েছে। সরকারের উচ্চ পর্যায় থেকে এবং মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীও এটি দ্রুত করার জন্য বার বার তাগাদা দিচ্ছেন। অথচ মন্ত্রণালয়ের শীর্ষ কর্মকর্তা হিসেবে প্রধানতঃ যার মূল দায়িত্ব সেই সচিবের-ই এ নিয়ে কোনো তৎপরতা নেই। কাজটি কতটা এগুচ্ছে বা এগুচ্ছে না, এর খোঁজ-খবরও তিনি নেন না। মন্ত্রণালয়ের অন্যান্য কাজকর্মেরও একই অবস্থা। বিশেষ করে প্রকল্পগুলোর অগ্রগতি অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রকল্পের অর্থে একের পর এক বিদেশ সফর ছাড়া অন্য বাস্তব অগ্রগতি একেবারে হচ্ছে না বললেই চলে। 
মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের অধীন মোট প্রকল্প ৯টি। এখাতে মোট বরাদ্দ ২ হাজার ৮শ’ ৩৩ কোটি ৭৭ লাখ টাকা, অগ্রগতি ৩০.৪৪%। এরমধ্যে চারটি প্রকল্পের মেয়াদ গত জুন মাসে শেষ হয়ে গেছে। কিন্তু প্রকল্পগুলোর কাজ অসমাপ্ত থেকে যাওয়ায় মেয়াদ বাড়ানোর প্রক্রিয়া চলছে। সবচেয়ে বড় প্রকল্প ‘উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্স ভবন নির্মাণ’ এর অগ্রগতি অত্যন্ত হতাশাজনক। প্রকল্পটির ব্যয় ধরা হয়েছে ১২২৬ কোটি ৫৪ লাখ টাকা। ২০১২ সালে শুরু হওয়া এ প্রকল্পের মেয়াদ এক দফায় বাড়ানো হয়েছে। আগামী জুনে সেই বর্ধিত মেয়াদ শেষ হবে। কিন্তু প্রকল্পের অগ্রগগতি এখন পর্যন্ত মাত্র ৫৭.৭৮%। ১৯৭১ এ মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাকিস্তানি হানাদার বাহিনী কর্তৃক গণহত্যার জন্য ব্যবহৃত বধ্যভূমিসমূহ সংরক্ষণ ও স্মৃতস্তম্ভ নির্মাণ (২য় পর্যায়) প্রকল্প এবং শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও অন্যান্য মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিস্থল সংরক্ষণ ও উন্নয়ন প্রকল্প- এ দুটি প্রকল্প বাস্তবায়নের সময় শুরু হয়েছে গত ১ জুলাই, ২০১৮। তিন বছর মেয়াদী এ দুটি প্রকল্পের প্রতিটিরই সোয়া এক বছর ইতিমধ্যে শেষ হয়ে গেলেও এখন পর্যন্ত বাস্তবায়ন অগ্রগতি শূন্য। 
২৬৫ কোটি ৪৪ লাখ টাকা ব্যয়সাপেক্ষ ‘ঢাকাস্থ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে স্বাধীনতা স্তম্ভ নির্মাণ (৩য় পর্যায়)’ প্রকল্পটির বাস্তবায়ন কাজ শুরু হয়েছিল ১ জুলাই, ২০১৭। দুই বছর মেয়াদী এ প্রকল্পের কাজ ৩০ জুন, ২০১৯ ইং এর মধ্যে শেষ করার কথা থাকলেও এখন পর্যন্ত অগ্রগতি মাত্র ০.২৬%। বাস্তবে প্রকল্পটির সামান্যতমও অগ্রগতি হয়নি। যা কিছু অগ্রগতি দেখানো হচ্ছে সেটি শুধুমাত্র বিদেশ সফর বাবদ ব্যয়িত অর্থই। এই প্রকল্পের অর্থে সচিবসহ সংশ্লিষ্টরা দফায় দফায় বিদেশ সফর করছেন, কিন্তু প্রকল্প বাস্তবায়নের কাজে এখনো হাতই দেয়া হয়নি।
জানা গেছে, সচিব আরিফ উর রহমান বর্তমানে জার্মানি ও অস্ট্রিয়া সফরে গেছেন এই সোহরাওয়ার্দী উদ্যান প্রকল্পের অর্থেই। এই সফরটি নিয়ে ইতিমধ্যে এক বড় ধরনের কেলেংকারি কা-ও বেধে গিয়েছিল। বস্তুত এক্ষেত্রে সচিবের বিদেশ সফরে যাবার সুযোগ ছিল না। মন্ত্রী আ ক ম মোজাম্মেল হক প্রকল্প পরিচালক সানোয়ার হোসেনকে বলেছিলেন প্রকল্পের অর্থে শুধুমাত্র মন্ত্রীর নেতৃত্বে একটি টিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়া সফরের প্রস্তাব দেয়ার জন্য। কিন্তু সচিব প্রকল্প পরিচালকের কাছ থেকে ফাইলটি চেয়ে নিয়ে দুটি টিম জার্মানি ও অস্ট্রিয়া সফরের প্রস্তাব করার ব্যবস্থা করেন, যাতে তিনিও যেতে পারেন। কিন্তু প্রস্তাবটি যখন মন্ত্রীর কাছে যায়, তিনি এ বিষয়ে কৈফিয়ত তলব করেন। সচিব নিজের দোষ স্বীকার করে মন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চেয়ে সেই যাত্রায় কোনোরকমে রক্ষা পান। 
সূত্রমতে, কানাডা ও আমেরিকা সফরের জন্য যে প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে সেটির উদ্দেশ্য নিয়েও মন্ত্রণালয়ে প্রশ্ন রয়েছে। মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণ সংক্রান্ত অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য তিনি এ সফরে যাচ্ছেন এবং এতে সরকারের রাজস্ব বাজেটের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। অথচ কানাডা এবং আমেরিকায় কখনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। সেখানে ইউরোপ থেকে শ্বেতাঙ্গরা বসতি স্থাপন করেছে। কালো মানুষরা তাতে বাধা দিয়েছিল। কিন্তু সেটিকে মুক্তিযুদ্ধ হিসেবে বিবেচনা করা হয় না সেই দেশে। এর আগে সচিব গত এপ্রিল মাসে সরকারের রাজস্ব বাজেটের অর্থে দশ দিনের সফরে অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইন গিয়েছিলেন। সেই সফরও করা হয়েছিল মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতি সংরক্ষণের অভিজ্ঞতা অর্জনের কথা বলে। অথচ সেইসব দেশে কখনো মুক্তিযুদ্ধ হয়নি। সচিব গত এপ্রিল মাসে দুই দফায় বিদেশ সফর করেন। ৮ এপ্রিল থেকে ৮দিনের সফরে দক্ষিণ কোরিয়ায় যান এবং সেখান থেকে এসে ২৩ এপ্রিল দশ দিনের সফরে অস্ট্রেলিয়া ও ফিলিপাইনে যান। জুন মাসে তুরষ্ক ও রাশিয়া সফর করেন। জুলাই মাসে মিশর সফরে যান।
এদিকে ‘প্যানোরোমা’ নামের একটি সম্ভাব্য প্রকল্পের কথা বলে দফায় দফায় বিদেশ সফর করা হলেও প্রকল্পটির কাগজপত্রই এখনো তৈরি হয়নি। মুক্তিযুদ্ধভিত্তিক প্যানোরোমা নির্মাণের অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্য ইতিপূর্বে মন্ত্রী এবং আগের সচিবের নেতত্বে আলাদা দুটি টিম বিদেশ সফর করে এসেছেন। মূল প্রকল্প তৈরির আগে শুধু অভিজ্ঞতা অর্জনের জন্যই একটি প্রকল্প নেয়া হয়েছিল। সেই প্রকল্পের অধীনেই এরা বিদেশ যান। শুধু দু’টি টিমই বিদেশ সফরের সুযোগ ছিল এবং তা জুন, ২০১৯ এর মধ্যে শেষ হয়ে যাবার কথা। কিন্তু সচিব আরিফ উর রহমান গত ১৬ মে, ২০১৯ সভা আহ্বান করে এটির মেয়াদ বাড়ান এবং তার নেতৃত্বে আরো একটি টিম বিদেশ সফরের সুযোগ সৃষ্টি করেন। উল্লেখ্য, মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে যে প্রকল্পগুলো রয়েছে এর সবগুলোই সরকারি অর্থায়নে। বিদেশি কোনো সাহায্য বা ঋণ এতে নেই। অথচ সরকার বা জনগণের অর্থের এভাবে অপচয়-অপব্যয় হচ্ছে শুধুমাত্র কিছু ব্যক্তির ব্যক্তিগত সুযোগ-সুবিধার জন্য!
মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ের অধীনে বর্তমানে অডিটরসহ বিভিন্ন পদে বড় ধরনের এক নিয়োগ প্রক্রিয়া চলছে। কর্মচারী নিয়োগের ক্ষমতা কৌশলে নিজের নিয়ন্ত্রণে নেয়ার জন্য সচিব ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট উইং ও শাখায় পরিবর্তন এনেছেন। অভিযোগ উঠেছে, এই নিয়োগ প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে দালালচক্র ঘুষ লেনদেন চালিয়ে যাচ্ছে। 
জানা গেছে, সচিব আরিফ উর রহমান ইতিপূর্বে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে থাকাকালে সেখানকার মন্ত্রণালয়ের অধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর নানা অনিয়মে ব্যাপকভাবে জড়িত হন। যুগ্মসচিব ও অতিরিক্ত সচিব পদে পূর্ত মন্ত্রণালয়ে একনাগাড়ে ছয় বছর ছিলেন তিনি এবং এই ছয় বছরই মন্ত্রণালয়ের উন্নয়ন উইংয়ের দায়িত্বে ছিলেন। গণপূর্ত অধিদফতরসহ মন্ত্রণালয়ের অধীন উন্নয়ন প্রকল্পগুলো সবই তিনি দেখভাল করতেন। এই সুবাদে বহুল আলোচিত জিকে শামীমের সঙ্গে তার সখ্যতা গড়ে উঠে। জিকে শামীমের উত্থানও হয় তার হাত দিয়েই। উন্নয়ন প্রকল্পগুলোর টেন্ডার পাইয়ে দিতে তিনি শামীমকে নানা কলাকৌশলে সহায়তা করেন। এসব প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি, অবৈধভাবে ব্যয় বৃদ্ধিও হয় তার হাত দিয়েই। অন্যদিকে আরিফ উর রহমানের সচিব পদে পদায়নে জিকে শামীমের ভূমিকা ছিল বলে জানা যায়। যেহেতু শহীদ উল্লা খন্দকারের কারণে পূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব পদে পদায়ন সম্ভব হয়নি। তাই মুক্তিযুদ্ধ মন্ত্রণালয়ে পদায়ন হয়। তবে শহীদ উল্লা খন্দকারের চুক্তির মেয়াদ শেষ হবার পর আরিফ উর রহমানকে সেখানে পদায়নের ব্যবস্থা করবেন বলে শামীম প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ১৪ অক্টোবর ২০১৯ প্রকাশিত)