বৃহস্পতিবার, ২১-নভেম্বর ২০১৯, ০৬:০১ অপরাহ্ন

টার্গেট ৫০০!

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৯ অক্টোবর, ২০১৯ ০৭:১৯ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: চলমান শুদ্ধি অভিযানে সরকারের ‘টার্গেট’ কতজন? অর্থাৎ কতজনকে গ্রেফতার করা হতে পারে? ঘুরেফিরে আসছে এ প্রশ্ন। শুধু সাধারণ মানুষই নয় প্রশাসন ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষ করে এই অভিযানে সংশ্লিষ্টদের মধ্যেও রয়েছে এ প্রশ্ন। সরকারের পক্ষ থেকে গোড়া থেকেই ধারণা দেয়া হচ্ছে, একটি তালিকা করেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে। চলমান অভিযান প্রথমদিকে ক্যাসিনো বা জুয়াবিরোধী হলেও ধীরে ধীরে একে মূল লক্ষ্য অর্থাৎ দুর্নীতিবিরোধী অভিযানের দিকে নিয়ে যাওয়ার চিন্তা সরকারের নীতি নির্ধারকদের। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকেও সেরকম নির্দেশ আর নির্দেশনাও দেয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। তাই অনেকেরই ধারণা এ অভিযান দীর্ঘ হতে পারে, স্বাভাবিকভাবেই বড় হতে পারে গ্রেফতারের সংখ্যা। প্রশ্ন উঠছে সে দীর্ঘ সময়টা কত দীর্ঘ আর গ্রেফতারের সেই তালিকাটাই বা কত বড় হতে পারে? 
তালিকা আতংক
সেপ্টেম্বরের ১৮ তারিখ থেকে রাজধানীতে অভিযান শুরু করে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। ঢাকা মহানগর (দক্ষিণ) যুবলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক খালেদ মাহমুদ ভূঁইয়াকে গ্রেফতারের মধ্য দিয়ে অভিযানের সূচনা। এরপর কখনো এ অভিযান গতি পেয়েছে কখনো স্থবির রয়েছে। জানা গেছে, সুনির্দিষ্ট তালিকা ধরেই গ্রেফতার অভিযান চলছে। তবে অনেকেরই প্রশ্ন- সত্যিই কি কোন তালিকা করেই এ অভিযান চালানো হচ্ছে? সত্যিই কি কোন তালিকা আছে? বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে, তালিকা করে আর তা ধরে ধরেই অভিযান চালানো হচ্ছে এটা নিশ্চিত। প্রথমদিকে গ্রেফতার আতংক যখন ব্যাপক আকার ধারণ করে তখনই সরকারের পক্ষ থেকে কৌশল হিসেবে তালিকার বিষয়টিকে সামনে আনা হয়। বলা হয়, হুটহাট কোন গ্রেফতার করা হবে না, একটা তালিকা হয়েছে, সে তালিকায় যাদের নাম আছে শুধু তাদেরই ধরা হবে। 
একজন অপরাধ বিশেষজ্ঞ মনে করেন, এ ধারণাটি দেয়ার পেছনে হয়তো দু’টি চিন্তা কাজ করেছে সরকারের নীতি নির্ধারকদের মধ্যে। প্রথমত: তারা সবাইকে একটি বার্তা দিতে চেয়েছেন যে, বিষয়টি নিয়ে সবার আতংকিত হওয়ার কিছু নেই, কারণ, তালিকা করে ধরা হবে সুতরাং গণগ্রেফতারের কোন আশংকা নেই। দ্বিতীয়ত: সরকার এ ধরনের একটি তালিকা করলে তাতে কোন এলাকার কার নাম আসতে পারে সে ব্যাপারে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি তো বটেই, ওই এলাকার নেতা-কর্মী এমনকি সাধারণ মানুষেরও ধারণা আছে। তাই ‘তালিকা’ কথাটিতে জোর দিয়ে ওই ধরণের ব্যক্তিদের সতর্ক করে দেয়ার কৌশল নিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। যাতে তারা অন্ততঃপক্ষে আপাতত অপকর্ম করা থেকে নিবৃত্ত থাকে। এ ক্ষেত্রে তিনি উদাহরণ দিয়ে বলেছেন, মোহাম্মদপুর এলাকার কাউন্সিলর তারেকুজ্জামান রাজীব অভিযান শুরুর পর থেকে আত্মগোপনে ছিলেন, গা ঢাকা দিয়ে চলতেন বটে, তবে নিজের অস্ত্র তিনি থানায় জমা রেখে এসেছিলেন, সম্ভবত: ্ওই অস্ত্রের অপব্যবহারের কোন অভিযোগ যাতে না ওঠে সেজন্যই তিনি এটা করেছিলেন। তারা মনে করেন, সরকারের কাছে একক কোন তালিকা নেই, বিভিন্ন সংস্থার করা একাধিক তালিকা আছে, আর সন্দেহভাজন ব্যক্তি, বিশেষ করে সাম্প্রতিক সময়ে যেসব ব্যক্তির বিরুদ্ধে গণমাধ্যমে সংবাদ এসেছে তারাই এবারের অভিযানের প্রধান লক্ষ্য। 
এ প্রসঙ্গে একজন বিশ্লেষক বলেছেন, এবার এমন লোককে গ্রেফতার করা হচ্ছে যার গ্রেফতারের ‘সংবাদ মূল্য’ একটু বেশি। অর্থাৎ এমন ব্যক্তিকে গ্রেফতার করা হবে যাকে গ্রেফতার করা হলে সাধারণ মানুষের মধ্যে আলোচনার ঝড় উঠবে, গণমাধ্যমে ব্যাপক প্রচারণা পাবে। এক্ষেত্রে উদাহরণ হিসেবে তারা সম্রাটের গ্রেফতারের উদাহরণ টেনে বলেন, সম্রাটের জায়গায় যদি কোন এমপিকেও গ্রেফতার করা হতো তাও এমন আলোড়ন তুলতো না। তাই সরকারের কৌশল হচ্ছে শুধু গ্রেফতার করে নেতাদের মধ্যে আতংক সৃষ্টি নয়, বরং একজনকে গ্রেফতার করে ১০জনকে হুঁশিয়ার করে দেয়া।
টার্গেট ৫০০!
অনেকেরই প্রশ্ন সরকার যদি গ্রেফতারের জন্য তালিকা করেই থাকে সে তালিকাটা কতজনের? সরকারের বিভিন্ন পর্যায়ে ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ে যোগাযোগ করে এই তালিকা সম্পর্কে কিছুটা ধারণা পাওয়া গেছে। জানা গেছে, এই অভিযান শুরুর পর প্রাথমিকভাবে ২ হাজার জনকে গ্রেফতার করা হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টদের ধারণা দেয়া হয়েছিল, সে অনুযায়ী একাধিক তালিকা করা হয়। এরপর ওই তালিকা সংক্ষিপ্ত করে অর্ধেকে অর্থাৎ ১ হাজার জনে নামিয়ে আনা হয়। পরে ১ হাজার জনের গ্রেফতারকে অতিরিক্ত বিবেচনা করে নীতি নির্ধারকরা তা হাজারের ঘর থেকে শ’এর ঘরে নিয়ে আসার চিন্তা-ভাবনা করেন। জানা গেছে, সর্বশেষ অবস্থান হচ্ছে ৫শ’ জনের একটি তালিকা করা। জানা গেছে, এর আগে একাধিক তালিকা করা হয়েছে, সব তালিকায় যে নামগুলো আছে তাদেরকে কোন ছাড় দেয়া হবে না। 
তবে এই ৫শ’ জন কারা? তা নিয়ে একটা ধোয়াশা রাখা হয়েছে। জানা গেছে, এ তালিকায় সাবেক মন্ত্রী ও বর্তমান এমপির নামও রয়েছে। ক্যাসিনোকা-ে বিতর্কিত চট্টগ্রামের শামসুল হক, ভোলার নূরুন্নবী চৌধুরী শাওন সুনামগঞ্জ-১ আসনের মোয়াজ্জেম হোসেন রতন আছেন আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী ও দুদকের কড়া নজরদারিতে। ইতিমধ্যে তাদের বিদেশ গমনে নিষেধাজ্ঞাও জারি করা হয়েছে।
ক্যাসিনোর সাথে জড়িত বা জ্ঞাত আয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের বিরুদ্ধে চলমান অনুসন্ধানের জন্য ২২ জনের বিদেশযাত্রায় নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে দুদক। ২৩ অক্টোবর এ সংক্রান্ত একটি চিঠি ইমিগ্রেশনে পাঠানো হয়। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজনকে আগেই গ্রেফতার করা হয়েছে। অন্য যাদের বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে তাদের মধ্যে আছেন সংসদ সদস্য শামসুল হক চৌধুরী ও নূরুন্নবী শাওন, যুবলীগের বহিষ্কৃত দফতর সম্পাদক আনিসুর রহমান ও তার স্ত্রী সুমি রহমান, লোকমান হোসেন ভূঁইয়ার স্ত্রী নাবিলা লোকমান, গণপূর্ত অধিদফতরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, সাবেক অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাই, এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক প্রশান্ত কুমার হালদার, রাজধানীর কাকরাইলের জাকির এন্টারপ্রাইজের মালিক জাকির হোসেন ও সেগুনবাগিচার শফিক এন্টারপ্রাইজের মালিক শফিকুল ইসলাম। জানা গেছে, বিদেশ যাওয়ার ক্ষেত্রে আরো কয়েকজনের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হতে পারে। এমন একটি তালিকা তৈরি হচ্ছে, এ তালিকায়ও ২০ জনের বেশি নাম আসতে পারে বলে জানিয়েছে একটি সূত্র।
যুবলীগের নেতাদের ধরার বিষয়টি অগ্রাধিকার দেয়া হলেও প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ধরাটাও সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় আছে। গ্রেফতার হওয়া কমিশনার হাবিবুর রহমান মিজান ও তারেকুজ্জামান রাজীব ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের কাউন্সিলর। দুই সিটি করপোরেশনের আরো কয়েকজন কাউন্সিলর আছেন এই তালিকায়। জানা গেছে, শুধু দুর্নীতিই নয়, অনিয়মের ব্যাপারেও পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। তাই সিটি করপোরেশনের কোন কাউন্সিলর এলাকায় কি কি করেন সে ব্যাপারে নানাভাবে খোঁজ-খবর নেয়া হচ্ছে। সিটি করপোরেশনে তারা ঠিকমতো আসেন কি না? কাউন্সিলরের অফিসে বসেন কিনা এসব বিষয়কেও খুব গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। 
ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর ও যুবলীগ নেতা মমিনুল হক সাঈদকে এরইমধ্যে সিটি করপোরেশনের বোর্ডসভায় অনুপস্থিতির কারণে বরখাস্ত করা হয়েছে। অবশ্য তার বিরুদ্ধে ক্যাসিনো ব্যবসা ও সম্রাটের সাথে সখ্যতার অভিযোগটাই বেশি। 
জানা গেছে, সিটি করপোরেশনের কাজে অমনোযোগিতা, নিয়মিত বৈঠকে উপস্থিত না থাকাসহ নানা কারণে যেসব কাউন্সিলের নাম মানুষের মুখে মুখে ঘোরে তাদের মধ্যে রয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মানিক, ৫ নম্বরের আবদুর রউফ, ৬ নম্বর ওয়ার্ডের রজ্জব, ১০ নং ওয়ার্ডের তাহের, ২০ নং ওয়ার্ডের নাছির, ২৫ নম্বরের মুজিবুর রহমান ২৬ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর শামীম, ২৯ নম্বরের রতন। দক্ষিণ সিটির যেসব কাউন্সিলরের বিরুদ্ধে এ অভিযোগ রয়েছে তাদের মধ্যে রয়েছেন ৩ নম্বর ওয়ার্ডের মহসিন, ৫ নম্বরের আশ্রাফুজ্জামান, ১০ নম্বর ওয়ার্ডের মনসুর, ১২ নম্বরের আশরাফ তালুকদার, ১৩ নম্বরের মোস্তবা জামান পপি, ১৪ নম্বরের মো. সেলিম, ১৮ নম্বরের জসীম, ২৮ নম্বরের বাদল, ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের হাসান, ৩১ নম্বর ওয়ার্ডের রাসেল ও ৩২ নম্বর ওয়ার্ডের বিল্লাল। শুধু রাজধানী ঢাকাই নয়, আরো বিভিন্ন সিটি করপোরেশনের বেশ কয়েকজন কাউন্সিলরও আছেন এ তালিকায়। তাদের ব্যাপারে সিটি করপোরেশন থেকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে লিখিত অভিযোগ করলেই ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে এমনটা জানিয়েছেন এ মন্ত্রণালয়ের সংশ্লিষ্ট শাখার একজন কর্মকর্তা।
সরকারের একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র বলেছে, বর্তমান সরকারের আমলে যেকোন গ্রেফতার বা অভিযানই বিরোধীদলকে ঘায়েল করার জন্য করা হয় এমন অভিযোগ করা হলেও চলমান শুদ্ধি অভিযান নিয়ে সে অভিযোগ এখন পর্যন্ত ওঠেনি। এই অভিযানে যারা গ্রেফতার হয়েছে তাদের মধ্যে লোকমান হোসেন ভূঁইয়া এক সময় বিএনপির রাজনীতির সাথে সম্পৃক্ত ছিলেন। তবে তার গ্রেফতারকে রাজনৈতিক হয়রানি মনে করা হচ্ছে না, বরং মোহামেডানের মতো একটি জনপ্রিয় ক্লাবে ক্যাসিনো ঢোকানোর অভিযোগে তাকে গ্রেফতার করার বিষয়টি মোহামেডানের সমর্থক এবং সাবেক খেলোয়াড়দের মধ্যে একটা স্বস্তিও তৈরি করেছে।
জানা গেছে, এই অভিযানে গ্রেফতারের ক্ষেত্রে এমন একটা কৌশল নেয়া হয়েছে যাতে সব শ্রেণি, পেশা আর সরকারি- বেসরকারি খাতে তার একটা প্রভাব পড়ে। অর্থাৎ সব সেক্টর থেকেই বহুল আলোচিত ও বিতর্কিত ব্যক্তিদের গ্রেফতার করাটাই সরকারের লক্ষ্য। এ ক্ষেত্রে সরকারের নীতি হচ্ছে ‘শকিং পলিসি’ অর্থাৎ সবখাতেই একটা ঝাঁকুনি দিতে চায় সরকার। 
অবশ্য সে ঝাঁকুনি আসলে কতটা আসল জায়গায় পড়বে তা নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। তারা মনে করেন, সরকারের এ অভিযান আসলে অনেকটা প্রচারসর্বস্ব বিষয়ে পরিণত হয়েছে। সরকার যদি তালিকা করেই থাকে তাহলে সে মানুষগুলোকে ধরছে না কেন? এর পেছনে কি অন্য কোন রহস্য আছে? কেউ কেউ বলছেন, যে কোন অভিযান মানেই হচ্ছে একটি শ্রেণির উদ্বেগ-উৎকন্ঠা পক্ষান্তরে আরেকটি শ্রেণির তাতে ‘পোয়াবারো’ হয়। সরকার যতই স্বচ্ছতার সাথে এ অভিযান চালাক না কেন, ভেতরে ভেতরে কেউ এ অভিযানের নাম ভাঙিয়ে ‘টুপাইস’ কামাচ্ছে কি না তাও বলা যায় না, তাই এ ব্যাপারেও সংশ্লিষ্টদের খুবই সতর্ক থাকতে হচ্ছে।
আতংক কাটছে না যুবলীগে
চলমান শুদ্ধি অভিযানে গ্রেফতার হওয়াদের মধ্যে যারা সরাসরি রাজনীতিতে জড়িত তাদের বেশিরভাগই যুবলীগের। ইসমাইল চৌধুরী স¤্রাট, খালেদ মাহমুদ, এনামুল হক আরমান, জিকে শামীম, রাজীব সবাই যুবলীগের দায়িত্বশীল পদে ছিলেন। গ্রেফতারের পর তাদেরকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। ওমর ফারুক চৌধুরীকে যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে। ২০ অক্টোবর গণভবনে যুবলীগ নেতাদের সাথে বৈঠক করেন আওয়ামী লীগ সভানেত্রী, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। ওই বৈঠকে অংশ নিতে গণভবনে যাওয়ার অনুমতিই পাননি ওমর ফারুক চৌধুরীসহ কয়েকজন নেতা। প্রধানমন্ত্রীর সাথে বৈঠকে ওমর ফারুক ছাড়া আর যেসব নেতা উপস্থিত ছিলেন না তারা হলেন প্রেসিডিয়াম সদস্য ও জগন্নাথ বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মীজানুর রহমান, সংসদ সদস্য নুরুন্নবী চৌধুরী শাওন, শেখ আতিয়ার রহমান দিপু ও শেখ মারুফ। এরমধ্যে মীজানুর রহমান একটি বিশ^বিদ্যালয়ের উপাচার্য হয়েও যুবলীগের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ ধরে রেখেছেন, সম্প্রতি একটি বেসরকারি টেলিভিশনের টকশোতে অংশ নিতে গিয়ে তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ পেতে উপাচার্যের চাকরি ছাড়তেও রাজি বলে মন্তব্য করেছিলেন। ভোলা থেকে নির্বাচিত সাংসদ নুরুন্নবী শাওনের বিরুদ্ধেও অনেক অভিযোগ রয়েছে। যুবলীগের চেয়ারম্যানের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হলেও ওমর ফারুক চৌধুরীর বিপদ এখনো পুরোপুরি কাটেনি। তিনি গ্রেফতার আতংকে ভুগছেন। 
যুবলীগের একাধিক নেতা বলেছেন, স্বাভাবিক সময়ে যুবলীগের চেয়ারম্যান বা সাধারণ সম্পাদকের পদটি পেতে দলটির অনেকেই মরিয়া হয়ে প্রতিযোগিতায় নামতেন, তবে এবারের কাউন্সিলে ভিন্ন চিত্রও দেখা যেতে পারে। তারা মনে করেন, যুবলীগের দায়িত্ব নেয়া এখন অনেকটাই আগুনে হাত দেয়ার মতো বিষয়। অবশ্য নেতাদের কেউ কেউ মনে করেন, বর্তমান পরিস্থিতিতে সংগঠনের দায়িত্ব কে পাবেন তা আর যুবলীগের হাতে নেই, এটা সরাসরি আওয়ামী লীগ সভানেত্রী ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার হাতে চলে গেছে, ফলে তিনি যাকে দায়িত্ব দেবেন তা ওই ব্যক্তিদের ওপর আস্থা থেকেই দেবেন। তাই নেতৃত্ব নিয়ে প্রতিযোগিতা হয়তো হবে না, তবে কোনো ধরণের শূন্যতারও আশংকা নেই বলে মনে করেন তারা। 
ওমর ফারুকের পথে মোল্লা কাওছার
মোল্লা আবু কাওছার, স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতি। রাজনীতিবিদ বা নেতা হিসেবে খুব একটা পরিচিত নন। তবে ক্ষমতাসীন দলের একটি অঙ্গসংগঠনের প্রধান হওয়ায় দেশের ক্ষমতা, প্রভাব ও আর্থিক বলয়ে খুবই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠেন। স্বেচ্ছাসেবক লীগের এই সভাপতির স্বেচ্ছাশ্রম ছিল মূলত: অনিয়ম-দুর্নীতি চাঁদাবাজি আর ক্যাসিনোকান্ডে। দুর্নীতি, তদবির করে তিনি কোটি কোটি টাকা উপার্জন করেন। জিকে শামীমের সাথে ছিল তার দহরম মহরম। জিকে শামীমকে কাজ পাইয়ে দিতেন তিনি বিনিময়ে পেতেন মোটা অংকের কমিশন। এমনকি তাকে দুদকও তলব করেছিল। জিকে শামীমকে আদালতে হাজির করা হলে তিনি সেখানে উপস্থিত ব্যক্তিদের কাছ জানতে চান মোল্লা কাওছার কোথায়? সে আসে নাই? তখন, শামীমকে জানানো হয়, মোল্লা কাওছারই আছেন পালিয়ে, তিনি আসবেন কী করে? চলমান অভিযান শুরুর আগে থেকেই বিদেশ ছিলেন কাওছার। 
শুধু অর্থনৈতিক আর রাজনৈতিক প্রভাব প্রতিপত্তিই নয়, ঢাকা বিশ^বিদ্যালয় প্রশাসনেও ছিল তার ব্যাপক প্রভাব। তিনি বিশ^বিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থীদের সংগঠনের সিনিয়র সহ-সভাপতি। এ সংগঠনের সভাপতি হচ্ছেন এফবিসিসিআই’র সাবেক সভাপতি একে আজাদ। ২৩ অক্টোবর মোল্লা কাওছারকে স্বেচ্ছাসেবক লীগের সভাপতির পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়, অর্থাৎ রাজনৈতিক ভাগ্যের দিক থেকে তিনি যুবলীগের চেয়ারম্যান ওমর ফারুকের ভাগ্যই বরণ করলেন। 
মোল্লা আবু কাওছারের ওপর খড়গ নেমে আসার পর অনেকেরই চোখ ছিল এরপরের টার্গেট কে? স্বেচ্ছাসেবক লীগের অনেক নেতা-কর্মীই মনে করেন সংগঠনের সভাপতি মোল্লা আবু কাওছারের চে’ রাজনৈতিকভাবে বেশি প্রভাবশালী হচ্ছেন পংকজ দেবনাথ। তিনি ছাত্রলীগের ঢাকা বিশ^বিদ্যালয়ের সাধারণ সম্পাদক ছিলেন, বিনাভোটে হোক আর রাতের ভোটে যেভাবেই হননা কেন দু’বার এমপি হয়েছেন। তাই অনেকেই ধরেই নিয়েছিলেন এরপর হয়তো পংকজের পালা। হলোও অনেকটা তাই, এরইমধ্যে তাকে সংগঠনের এবং আসন্ন কাউন্সিলের কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে বলা হয়েছে। গত ১০ বছরে তিনি বিপুল বিত্তবৈভবের মালিক হয়েছেন। রাজধানীতে চলাচলকারী ‘বিহঙ্গ’ পরিবহনের মালিক তিনি।  
মেনন কী নিজের বিপদ ডেকে আনলেন?
রাশেদ খান মেনন, দেশের বাম রাজনীতিতে একটি বড় নাম। আগে থেকেই আন্দোলন-সংগ্রামে আওয়ামী জোটবদ্ধ ছিলেন তিনি এবং তার দল। ২০০৮ সালের জাতীয় নির্বাচনে মহাজোটের শরিক দল হিসেবে আওয়ামী লীগের নেতৃত্বে নির্বাচনে অংশ নেন। এরপর এক পর্যায়ে মহাজোটের মন্ত্রীও হন। তবে ২০১৮ সালের ২৯ ডিসেম্বরের নির্বাচনের পর নতুন মন্ত্রিসভায় আর স্থান হয়নি। সেই ক্ষোভ থেকে হোক অথবা অন্য যে কোনো আত্মোপলব্ধি থেকেই হোক বিগত মাসগুলোতে মেননের মুখ দিয়ে সরকারবিরোধী অনেক সত্য কথা বেরিয়ে এসেছে। সর্বশেষ তিনি বিগত নির্বাচনে ভোট কারচুপির অকাট্য সত্য কথাটি প্রকাশ্যে বলে ফেলেছেন। সরকারের মন্ত্রী না হলেও তার দল ওয়ার্কার্স পার্টি এখনো ১৪ দলের অন্যতম শরিক দল। সরকারের মধ্যকার একজন সিনিয়র নেতা এবং দলের এমন একটা বক্তব্য গোটা সরকারকে বেকায়দায় ফেলেছে। সরকার অত্যন্ত ক্ষুব্ধ হয়েছে তার ওপর। ফলে মনে করা হচ্ছে, এ বক্তব্যটা তার জন্য অনেকটা বুমেরাং হয়ে দাঁড়িয়েছে। 
ক্যাসিনোসংক্রান্ত বিষয়ে প্রথমদিকেই উঠে এসেছিল মেননের নাম। ফকিরাপুল ইয়ংমেন্স ক্লাবের সভাপতি ছিলেন মেনন, এই ক্লাবে জুয়া খেলার মূলহোতা খালেদ মাহমুদ গ্রেফতারের পরই আলোচনায় চলে আসেন মেনন। 
তবে এরপর ১৪ দলীয় জোটের নানা কর্মকা-ে যুক্ত থেকে তিনি সরকারের প্রতি তার সমর্থন ও আস্থার বিষয়টি দেখিয়ে বিপদ এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। কিন্তু শেষাবধি তিনি হয়তো সে বিপদেই পড়ে গেলেন। আর বিপদ তিনি নিজেই ডেকে এনেছেন বলে মনে করা হচ্ছে। ২৯ ডিসেম্বর মানুষ ভোট দিতে পারেনি, বরিশালে দলের এক অনুষ্ঠানে এ কথা বলার পরই ক্ষেপে যায় আওয়ামী লীগ। দলের সাধারণ সম্পাদক এবং সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন, মন্ত্রীত্ব পেলে কি মেনন এ প্রশ্ন করতেন? তথ্যমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ বলেন, তাকে (মেনন) প্রশ্ন করা দরকার তিনি কিভাবে নির্বাচিত হয়েছেন? তার দিকে ইঙ্গিত করে তথ্যমন্ত্রী আরো বলেন, ক্যাসিনোর সাথে জড়িতদের কাউকে ছাড়া হবে না। ২২ অক্টোবর ১৪ দলীয় জোটের সভা শেষে জোটের সমন্বয়ক মোহাম্মদ নাসিম বলেন, মেনন কেন এমন কথা বলেছেন তা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে। অর্থাৎ দেখা যাচ্ছে মেননের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার ব্যাপারে সরকারি দল ও জোটের নেতাদের যথেষ্টই আগ্রহ আছে।
বলা হচ্ছে, সম্রাট জিজ্ঞাসাবাদে যাদেরকে টাকা দিতেন বলে জানিয়েছেন তার মধ্যে মেননের নামও আছে। তিনি মাসে চার লাখ টাকা করে দিলেও তাতে মেনন খুশি ছিলেন না। মেনন টাকা নেয়ার বিষয়টি সরাসরি অস্বীকার করেননি, তিনি বলেছেন, সম্রাটের সাথে তার কোন আর্থিক সম্পর্ক নেই, তবে নির্বাচনের সময় সে যুবলীগের হয়ে টাকা খরচ করেছে। সবমিলিয়ে একটা জালে আটকে যাচ্ছেন মেনন এমনটাই মনে করা হচ্ছে।
শুধু শুদ্ধি অভিযান নয়, দুর্বৃত্তায়নবিরোধী অভিযানও
অভিজ্ঞজনেরা মনে করেন, বাংলাদেশের সবচে’ বড় সমস্যা হচ্ছে দুর্নীতি আর দুর্বৃত্তায়ন। স¤্রাট, আরমান, খালেদ, রাজীব রাজনৈতিক দৃর্বৃত্ত হিসেবে পরিচিত। আবার জিকে শামীম অর্থনৈতিক দুর্বৃত্ত হিসেবে চিহ্নিত বলে মনে করেন অভিজ্ঞ মহল। ক্যাসিনোর সাথে জড়িতরা সবাই রাজনৈতিক দুর্বৃত্ত। জানা গেছে, এরপর ভূমিদস্যু, নদী খেকো, চাঁদাবাজ, সন্ত্রাসীদের দিকে হাত বাড়াবে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী। নদী উদ্ধারে এ বছরের মে-জুলাই পর্যন্ত অভিযান চালানো হয়েছে। আপাতত এ অভিযান নেই, তবে ঢাকা, নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে অবৈধ দখলদারদের বিরুদ্ধে অভিযান আবার শিগগির শুরু হতে পারে বলে আভাষ মিলেছে। বলা হচ্ছে, এবারের অভিযানে কাউকে ছাড় দেয়া হবে না, বড় কয়েকটি শিল্প প্রতিষ্ঠানের স্থাপনা পড়ে যাওয়ায় তারা উচ্ছেদ ঠেকাতে কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন। কিন্তু তাতে খুব একটা কাজ হয়নি। এর কারণ অবশ্য অন্য। বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন, বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি, হিউম্যান রাইটস এন্ড পিস ফর বাংলাদেশসহ আরো কয়েকটি জাতীয় ও আঞ্চলিক পরিবেশবাদী সংগঠন এ ব্যাপারে সরকার ও প্রশাসনের ওপর চাপ দিয়ে যাচ্ছে।
ব্যবস্থা নেয়া হতে পারে অর্থনৈতিক দুর্বৃত্তায়নের বিরুদ্ধেও
গত ১০ বছরে দেশের ব্যাংকখাত সবচে’ বেশি দুর্নীতি, অনিয়ম আর দুর্বৃত্তায়নের শিকার বলে সর্বমহলে স্বীকৃত। ব্যাংকখাতে দুর্নীতির বিরুদ্ধে দেশের অর্থনীতিবিদরা সব সময়ই সোচ্চার। সম্প্রতি সুশাসনের জন্য নাগরিক-সুজন আয়োজিত এক গোলটেবিলে বক্তারা বলেন, দেশে ব্যাংক ঋণ নিয়ে পাতানো খেলা চলছে। ওই সেমিনারে মূল প্রবন্ধে চট্টগ্রাম বিশ^বিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক মইনুল ইসলাম বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে দেশের খেলাপি ঋণ ১ লাখ কোটি টাকার কিছু বেশি। আসলে দেশের খেলাপি ঋণ তিন লাখ কোটি টাকা। 
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ব্যাংকখাতে নানা অনিয়মের বিষয়টি সরকারের জন্য দীর্ঘ দিন ধরেই একটা মাথাব্যথা। সম্প্রতি বেসিক ব্যাংকের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল হাই বাচ্চুর বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছেন। আর এ আলোচনাটির সূচনা করেছেন সরকার দলীয় সাংসদ ফজলে নূর তাপস। তিনি শুধু একজন সংসদ সদস্যই নন, বঙ্গবন্ধু পরিবারেরও সদস্য। উল্লেখ্য এর আগে সম্রাটকে গ্রেফতারে বিষয়টি যখন ঝুলে ছিল তখন সম্রাটকে গ্রেফতার না করার বিষয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন তাপস। এরপর একদিন পার না হতেই গ্রেফতার করা হয়েছিল সম্রাটকে। 
এছাড়া শেয়ারবাজারের অনিয়ম ও সিন্ডিকেশনের মতো বিষয়গুলোতেও সরকার এবার হাত দিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। পুঁজিবাজারের একাধিক বিনিয়োগকারী বলেছেন, আওয়ামী লীগের বিরুদ্ধে একটা বড় অভিযোগ হচ্ছে পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রণে তারা ব্যর্থ। তারা বলেন, দেশের পুঁজিবাজার থেকে কারা কারা বিনিয়োগকারীদের অর্থ লুটে নিয়েছে, ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীদের সর্বশ্বান্ত করেছে তা মানুষ জানে। ইব্রাহীম খালেদের তদন্ত প্রতিবেদনে তাদের নামগুলো স্পষ্টভাবেই তুলে ধরা হয়েছে। সেই ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়া হলে তা মানুষের মনে আস্থা তৈরি করবে যার প্রত্যক্ষ প্রভাব পড়বে শেয়ারবাজার তথা দেশের অর্থনীতিতে। এমন একটা অভিযান প্রয়োজন মনে করলেও তা বাস্তবে হবে সে ব্যাপারে খুব একটা আশাবাদী নন ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারীরা। 
হাত পড়তে পারে প্রশাসনেও
একথা সবাই জানে ও স্বীকার করে দুর্নীতির সাথে প্রশাসনের সম্পর্ক সবচে’ বেশি। একজন ক্যাসিনো স¤্রাট, একজন টেন্ডারবাজ শামীম প্রশাসনের সাথে সম্পর্ক রেখেই তাদের অপকর্ম চালিয়ে থাকে। তাই শুধু দুর্বৃত্তদেরই নয়, তাদের মদদদাতাদের প্রশ্রয়দানকারী ও তাদের কাছ থেকে নানাভাবে সুবিধা নেয়া ব্যক্তিদের বিরুদ্ধেও অভিযান চালানো হতে পারে, মিলেছে এমন আভাষ। প্রশাসনের কোন কোন স্তরে এরই মধ্যে হানা দেয়া শুরুও হয়েছে।
গত ২০ অক্টোবর দুদক গ্রেফতার করে কারা অধিদফতরের উপমহাপরিদর্শক বজলুর রশীদকে। রাজধানীর সিদ্ধেশ^রীতে রূপায়ণ হাউজিং এস্টেটের স্বপ্ন নিলয় প্রকল্পে ২ হাজার ৮শ’ ৮১ বর্গফুটের একটি ফ্ল্যাট কেনেন তিনি। ২০১৮ সালের এপ্রিলে বুকিং দিয়ে এরই মধ্যে পুরো টাকা পরিশোধ করেছেন এই কর্মকর্তা। ফ্ল্যাটের দাম ৩ কোটি ৮ লাখ টাকা। ২০ অক্টোবর বজলুর রশীদ ও তার স্ত্রী রাজ্জাকুন নাহারকে সেগুনবাগিচায় দুদকের প্রধান কার্যালয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। ওইদিনই তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন দুদকের উপপরিচালক মো: সালাহউদ্দিন আর ওই মামলায়ই তাকে গ্রেফতার করা হয়। এর আগে আরেক ডিআইজি পার্থ গোপাল বণিককে গ্রেফতার করা হয় এবং রাজধানীর ধানমন্ডির ভুতের গলির বাসা থেকে উদ্ধার করা হয় ৮০ লাখ টাকা। 
জানা গেছে, এই গ্রেফতারগুলো করা হচ্ছে সরকারি কর্মকর্তাদের বার্তা দেয়ার জন্য। যুবলীগের নেতা জিকে শামীমের পক্ষে কাজ করেছেন গণপূর্ত অধিদফতরের এমন কর্মকর্তারাও এখন আছেন চরম আতংকে। সংস্থার সাবেক প্রধান প্রকৌশলী রফিকুল ইসলাম, তার স্ত্রী রাশেদা ইসলাম, অতিরিক্ত প্রধান প্রকৌশলী আবদুল হাই, তার স্ত্রী বনানী সুলতানার সম্পদের হিসাব চেয়ে নোটিশ দিয়েছে দুদক।
জিকে শামীম, সম্রাট আর খালেদ যেসব ব্যক্তির নাম বলেছেন সে নামগুলোর কাউকেই ছাড় দেয়া হবে না, তবে গ্রেফতারের আগে সরকার ও আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী বিশেষভাবে নামগুলোর ব্যাপারে নিশ্চিত হতে চায়। আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীর কর্মকর্তারা বলেছেন, সম্রাট, খালেদ, শামীম নিজেদের বাঁচাতে যে কারো নাম বলতে পারে, তাই তারা নাম বললেই ঝাঁপিয়ে পড়া হবে না, ওই নামগুলোর ব্যাপারে তদন্ত চালানো হবে, যদি তাদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায় তাহলেই গ্রেফতার করা হবে। তবে ওই নামগুলোর মধ্যে এমন অনেকের নামই এসেছে যাদের ব্যাপারে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী আগেই জানতো এবং তারা বরাবরই তাদের সন্দেহের তালিকায় রয়েছেন।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৮ অক্টোবর ২০১৯ প্রকাশিত)