বৃহস্পতিবার, ২১-নভেম্বর ২০১৯, ০৫:২৬ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • ভিকারুননিসা নূন: নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের উৎস কী?

ভিকারুননিসা নূন: নির্বাচনে কোটি কোটি টাকা ব্যয়ের উৎস কী?

shershanews24.com

প্রকাশ : ৩০ অক্টোবর, ২০১৯ ০৬:৫৭ অপরাহ্ন


সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: দেশে মেয়েদের শিক্ষার অন্যতম সেরা প্রতিষ্ঠান ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের গভর্নিং বডির রাজসিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো। এ নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষা প্রতিষ্ঠানটি পেয়েছে পরিচালনা পর্ষদ। তবে এ নির্বাচনকে ঘিরে যা হয়েছে তাতে মানুষের মনে অনেক প্রশ্নের উদয় হয়েছে। একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের নির্বাচনে লাগামছাড়া অর্থ ব্যয়, প্রচারণায় আতিশয্য এসব নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্কুলের সুনাম, বিশালত্ব, বিভিন্ন ‘পাবলিক’ পরীক্ষার ফলাফলসহ নানা কারণে রাজধানীর অনেক অভিভাবকই চান তার মেয়েকে ভিকারুননিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজে পড়াতে। শুধু রাজধানীরই নয়, দেশের অন্যত্র চাকরি করেন এমন সরকারি অনেক কর্মকর্তার মেয়েও পড়েন এ প্রতিষ্ঠানে। আবার বিভিন্ন জেলাশহর তো বটেই গ্রামের অনেকেই তাদের পরিবারকে রাজধানীতে রাখছেন মেয়ে ভিকারুননিসায় পড়ে বলে। আর তাই এই বিদ্যালয়ে মেয়েদের ভর্তি করানোর প্রতিযোগিতাও অন্যান্য স্কুল ও কলেজের তুলনায় অনেক বেশি। তবে শুধু সন্তানকে ভর্তি করানোই নয়, এই বিদ্যালয়ের কোন একটি দায়িত্ব পেতে মরিয়া একশ্রেণির অভিভাবকও। বিদ্যালয়টির গভর্নিং বডির সদ্যসমাপ্ত নির্বাচন দেখে অনেকের মনেই একটি প্রশ্ন জেগেছে, এই বিদ্যালয়ের গভর্নিং বডিতে কি এমন মধু বা যাদু আছে যে একশ্রেণির অভিভাবক ঝাঁপিয়ে পড়েছিলেন এবং কোটি কোটি টাকা খরচ করেছেন এ নির্বাচনে? কেউ কেউ বলছেন, যে টাকা খরচ করেছেন তার কয়েক গুণ উসুল করার সুযোগ আছে বলেই তো এত টাকা খরচ করেছেন প্রার্থীরা। 
প্রচারণা যুদ্ধ
ভিকারুন্নিসা নূন স্কুল এন্ড কলেজের গভর্নিং বডি বা পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচন, কিন্তু প্রচার-প্রচারণার আতিশয্য আর খরচের দিক থেকে বিচার করলে তা ছাড়িয়ে গেছে জাতীয় বা স্থানীয় সরকার নির্বাচনকেও। এমনটাই বলেছেন, বিদ্যালয় সংশ্লিষ্টরা এমনকি সাধারণ মানুষও।
গত কয়েক মাস ধরে নির্বাচনের নামে ঢাকা শহরের অলিগলি, বাসাবাড়ি এবং ফ্লাইওভার পোস্টার ও ব্যানারে ছেয়ে ফেলেছিলেন প্রার্থীরা। শুধু ব্যানার আর পোস্টারই নয়, ফেসবুকে দিনরাত সমানে চলেছে প্রচারণা। অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে অসংখ্যবার পাঠানো হয়েছে ক্ষুদেবার্তা। প্রচারণার কারণে বিরক্ত হলেও কারোই কিছু করার ছিলনা। সবাইকে মুখ বুঁজেই এসব সহ্য করতে হয়েছে। অবশ্য, এ নির্বাচনকে কেন্দ্র করেও ফায়দা লুটেছে আরেকটি শ্রেণি। অভিভাবকদের অনেকেই গ্রুপ বা সিন্ডিকেট করে প্রার্থীদের সাথে দেখা করেছেন। ওই গ্রুপ বা সিন্ডিকেটের যারা হোতা তারা প্রার্থীদের কাছ থেকে ভোট ‘কনফার্ম’ করার নামে নিয়েছেন বড় অংকের টাকা। ‘খরচ’ এর কথা বলেও অনেকে প্রার্থীদের কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন। তাছাড়া আপ্যায়ন, মোবাইলে টাকা রিচার্জ করে দেয়া, বাসায় উপহারও পাঠিয়েছেন কোন কোন প্রার্থী এমনটাও জানা গেছে। 
প্রার্থীরা কয়েক মাস ধরে প্রতিদিন স্কুলের সামনে এসে অভিভাবকদের কাছে ভোট ও সহযোগিতা কামনা করেছেন। স্কুলের আশপাশের এলাকা ছাড়াও রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় নানা আপ্যায়ন অনুষ্ঠানের আয়োজন করছেন, চায়নিজ হোটেলে প্রার্থী পরিচিতির নাম করে ভোটারদের জড়ো করে ভোট চেয়েছেন। আবার ভোটাররাও বিভিন্ন এলাকায় একত্রিত হয়েছেন সেখানে গিয়ে প্রার্থীরা ভোট চেয়েছেন। এ ধরনের সমাবেশ আয়োজনে নেপথ্যে থেকে কেউ কেউ একাধিক প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়েছেন এমন ঘটনাও ঘটেছে। 
একজন অভিভাবক বলেছেন, এ নির্বাচনে প্রার্থীদের অনেকেরই কোটি টাকা পর্যন্ত খরচ হয়েছে, এ টাকার একটি বড় অংশই গেছে একশ্রেণির অভিভাবক এমনকি বিদ্যালয়ের শিক্ষকদের একটি অংশও তার ভাগ পেয়েছেন। আবার অভিভাবকদের অনেকেও ভবিষ্যতে কাজে লাগতে পারে তাই প্রার্থীদের সাথে সুসম্পর্ক প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেন। অনেক প্রার্থী নিজের পেশাগত পরিচয়ের প্রভাবকে কাজে লাগিয়ে ভোটারদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন। 
একাধিক শিক্ষার্থী বলেছেন, কোন শিক্ষক বা শিক্ষিকা সরাসরি কোন প্রার্থীর নাম ধরে ভোট দিতে বলেননি, তবে এমনভাবে বলেছেন যে সহজেই বোঝা যায় সেই প্রার্থীটা কে? উদাহরণ হিসেবে তারা বলেন, একজন ম্যাডাম যখন ক্লাসে বলেন, একজন বড় পুলিশ অফিসার নির্বাচিত হলে আমাদের স্কুল নিরাপদ থাকবে, তোমার বা তোমাদের পরিবারেরও কাজে লাগবে তখন সহজেই বোঝা যায় ওই ম্যাডাম কোন প্রার্থীর কথা বলেছেন। আবার কেউ যখন ইঙ্গিত দেন, বঙ্গবন্ধু হাসপাতালের একজন ডাক্তার নির্বাচিত হলে জরুরি প্রয়োজনে সে অনেক উপকার করতে পারবে তখনও বুঝতে অসুবিধা হয় না তিনি কোন প্রার্থীর কথা বলতে চান। আবার মামলা-মোকদ্দমা হলে সহজেই আইনি সহায়তা পাওয়া যাবে এমনটা হিসাব করে আইনজীবী প্রার্থীর প্রতি সমর্থন দিয়েছেন কেউ কেউ। সচিবালয়ে চাকরি করেন বা সিটি করপোরেশনের গুরুত্বপূর্ণ পদে আছেন এমন ব্যক্তি নির্বাচিত হলে তা পরবর্তীতে কাজে আসবে এমন টোপও গিলেছেন অনেক ভোটার। কোন প্রার্থীর রাজনৈতিক প্রভাব, প্রতিপত্তি, ক্ষমতাসীনদের সাথে সম্পর্কের বিষয়টিও উদাহরণ হিসেবে সামনে এনে শিক্ষার্থীদের প্রভাবিত করার চেষ্টা করেছেন শিক্ষকরা। এভাবেই পরোক্ষভাবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে প্রচারণা চালিয়েছেন তারা। কেউ কেউ মনে করেন বস্তুতপক্ষে শিক্ষকদের পরোক্ষ প্রচারণার প্রভাবই নির্বাচনে একটু বেশি পড়ে।
বিদ্যালয়কে ঘিরে যত বিতর্ক
৬৭ বছরের পুরনো এ স্কুলের অনেক অর্জনে এখন ধুলো পড়েছে বলে মনে করেন অনেকে। ভর্তিবাণিজ্য, অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে এ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে। আগের গভর্নিং বডির বিরুদ্ধে ভর্তি বাণিজ্য ও অনিয়মের অভিযোগ থাকায় গত ৬ অক্টোবর ছয় প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে ঘুষ খেয়ে অযোগ্য প্রার্থীকে অধ্যক্ষ পদে বসানোর চেষ্টা, টাকার বিনিময়ে অতিরিক্ত সাড়ে ৪শ’ শিক্ষার্থী ভর্তি, অবৈধভাবে ১৪ জন প্রভাষক নিয়োগ, শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের সঙ্গে খারাপ আচরণসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে বিগত গভর্নিং বডির ভর্তিবাণিজ্য; অধ্যক্ষ, শিক্ষক ও কর্মচারী নিয়োগ বাণিজ্য, অনিয়ম ও দুর্নীতি মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদফতরের তদন্তে উঠে এসেছে। গত বছর নকলের অভিযোগে অরিত্রী অধিকারী নামে এক ছাত্রীকে বহিষ্কার করা হয়। এরপর ওই ছাত্রীটি আত্মহত্যা করে। অভিযোগ উঠেছে শিক্ষক-শিক্ষিকাদের মানসিক নির্যাতন সইতে না পেরেই সে আত্মহত্যা করে। একাধিক অভিভাবক বলেছেন, এই স্কুল ও কলেজের শিক্ষক/শিক্ষিকাদের পা মাটিতে পড়ে না, তারা শিক্ষার্থীদের ওপর নানাভাবে নির্যাতন চালান। অনেক মেয়ে বাসায় গিয়ে তা বলেন, কিন্তু বেশিরভাগই ঘটনা চেপে যান। তবে অভিভাবকরা এ নিয়ে উচ্চবাচ্য করতে পারেন না, সন্তানের ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করেই তারা চুপ থাকেন।
কেন এত আগ্রহ এ নির্বাচনে
ভিকারুননিসা কর্তৃপক্ষের সঙ্গে মিলে নির্বাচিত এই সদস্যরা মূলত প্রতিষ্ঠানটি পরিচালনায় থাকবেন। উন্নয়ন, ব্যবস্থাপনা, সিলেবাস, রুটিন সাজানোর বিষয়ে তাদের সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত হবে। তবে এর বাইরে যে বিষয়টির জন্য কেউ কেউ প্রার্থী হতে মরিয়া তা হচ্ছে ভর্তির ক্ষেত্রে পরিচালনা পর্ষদের একটি নির্দিষ্ট কোটা আছে। ওই কোটা অনুযায়ী একজন যদি বছরে ৫জন করেও ছাত্রী ভর্তি করানোর সুযোগ পান আর ছাত্রীপ্রতি যদি ৫ লাখ টাকা করেও নেন তাহলে এ খাত থেকেই বছরে আসে কমপক্ষে ২৫ লাখ টাকা। শিক্ষক নিয়োগেও আর্থিক লেনদেনের বিষয়টি সবারই জানা। ভিকারুননিসার শিক্ষক হতে অনেক স্কুলের শিক্ষকও লাখ লাখ টাকা নিয়ে ধর্ণা দিয়েও রাস্তা বের করতে পারেন না। আবা যারা এ পথ পেয়ে যান তারা টাকা দিলে নিয়োগটা নিশ্চিত থাকে। শিক্ষক নিয়োগে ২০/২৫ লাখ টাকা পর্যন্ত লেনদেনের বিষয়টি ওপেন সিক্রেট। এর বাইরে প্রতিষ্ঠানের নানা অবকাঠামো নির্মাণ, সংস্কার, রং করা, কেনাকাটাসহ নানাখাতে বছরে কোটি কোটি টাকা খরচ হয় যা অনুমোদন ও নিয়ন্ত্রণ এই পরিচালনা পর্ষদ করে থাকে। তাই পরিচালনা পর্ষদে জায়গা করে নেয়া অর্থনৈতিক দিক থেকে খুবই লাভজনক একটি বিষয় বলে মনে করা হয়। তাছাড়া সামাজিক একটা সম্মান ও গুরুত্বও পেয়ে থাকেন। তবে প্রার্থীদের কেউ কেউ নির্বাচন করেছেন স্কুল ও কলেজের স্বার্থেই, তারা বলেছেন, যেখানে মেয়ে পড়ে সে প্রতিষ্ঠানের উন্নয়নে যদি কিছু করার সুযোগ থাকে তা করার আশায়ই তারা নির্বাচন করেছেন। অবশ্য, বাস্তবে ঘটনাটা এমন সরল অংকের মতো নয়।
যেভাবে নির্বাচন
গত ৩ মে ভিকারুননিসার গভর্নিং বডির মেয়াদ শেষ হয়। এরপর থেকে ২৫ দিন প্রতিষ্ঠানটির কোনো গভর্নিং বডি ছিল না। গত ২৮ মে চার সদস্য বিশিষ্ট একটি অ্যাডহক কমিটি গঠন করা হয়। গভর্নিং বডির নির্বাচনের লক্ষ্যে গত ৪ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করে অ্যাডহক কমিটি। ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষের আবেদনের প্রেক্ষিতে গত ১৯ সেপ্টেম্বর রিটার্নিং অফিসারও নিয়োগ দেন ঢাকার জেলা প্রশাসক। রিটার্নিং অফিসার করা হয় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) ফারজানা জামানকে। ১ থেকে ৩ অক্টোবর পর্যন্ত নির্বাচনের মনোনয়নপত্র বিতরণ করা হয়। ৬ অক্টোবর মনোনয়নপত্র বাছাই করা হয়। 
নির্বাচনী কার্যক্রম শুরুর পরও নানা সময় এ নির্বাচন নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়। ভোটার তালিকা নিয়েও ছিল অভিযোগ। জানা গেছে, প্রতিষ্ঠানে কারো একাধিক সন্তান থাকলেও একজন অভিভাবক একটিই ভোটাধিকার পাবেন কিন্তু এমনও দেখা গেছে দুই সন্তানের জন্য এক ব্যক্তি দু’বার ভোটার হয়েছেন। এ নিয়ে আপত্তি উঠলেও তা শেষ পর্যন্ত নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোন প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করতে পারেনি।
নির্বাচিত হলেন যারা
২৪ অক্টোবর শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত কলেজের মূল ক্যাম্পাস বেইলি রোডসহ আজিমপুর, ধানমন্ডি ও বসুন্ধরা শাখায় একযোগে ভোটগ্রহণ করা হয়।
এতে তিন ক্যাটাগরিতে কলেজ শাখায় ৮ জন, মাধ্যমিকে ৯ জন এবং প্রাথমিকে ৬ জন প্রতিনিধি প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছেন। এছাড়া নারী সংরক্ষিত কোটায় ৪ জন নির্বাচন করেন। নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন শিক্ষাবিদ, আমলা, ব্যবসায়ী, চিকিৎসক, ঠিকাদার, পুলিশ, আইনজীবী এবং সাংবাদিক। প্রাথমিকে একজন, মাধ্যমিক ও কলেজে দু’জন করে চারজন এবং সংরক্ষিত একজনসহ মোট ৬ জন নির্বাচিত হয়েছেন। মূল কমিটিতে একজন শিক্ষক প্রতিনিধিও থাকবেন। রাতের নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশ করা হয়। প্রিজাইডিং কর্মকর্তা বিজয়ী ছয়জন অভিভাবক প্রতিনিধির নাম ঘোষণা করেন। বিজয়ী প্রার্থীদের মধ্যে সাধারণ অভিভাবক প্রতিনিধি হিসেবে প্রাথমিক শিক্ষায় নির্বাচিত হয়েছেন গোলাম বেনজীর। মাধ্যমিক শাখায় সিদ্দিকী নাসিরউদ্দিন ও ওহেদুজ্জামান, কলেজ শাখা থেকে এবিএম মনিরুজ্জামান ও মুরশীদা আক্তার এবং সংরক্ষিত মহিলা আসনে অ্যাডভোকেট রিনা পারভীন বিজয়ী হয়েছেন। শিক্ষকদের মধ্যে তিনজন সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন। তাদের মধ্যে উচ্চ মাধ্যমিকে বদরুল আলম, মাধ্যমিকে ফাতেমা জহুরা হক ও জান্নাতুল ফেরদৌস। আর কলেজ শাখা ও সংরক্ষিত নারী শিক্ষক প্রতিনিধি পদে একজন করে নির্বাচিত হন বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায়। 
বহুল আলোচিত এ নির্বাচনে যারা বিজয়ী হয়েছেন তারা নির্বাচনকে সুষ্ঠু ও অবাধ বলে দাবি করেছেন, তবে পরাজিত প্রার্থীদের অভিযোগও ফেলে দেয়ার মতো নয় বলে মনে করেন অনেক ভোটার। তারা বলেছেন, একটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের পরিচালনা পর্ষদের নির্বাচনে এবার যে চাপ আর উত্তাপ তৈরি হয়েছিল অতীতে তা কখনোই দেখা যায়নি, এ অবস্থা চলতে থাকলে এ প্রতিষ্ঠানটি রাজনীতির শিকার হতে বেশি অপেক্ষা করতে হবে না।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৮ অক্টোবর ২০১৯ প্রকাশিত)