শনিবার, ২২-ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৬:২৬ পূর্বাহ্ন

পৌর উন্নয়নের নামে বিএমডিএফ-এ লুটপাট

shershanews24.com

প্রকাশ : ০১ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৫:১৫ অপরাহ্ন


সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: সাধারণত সরকারি দপ্তরগুলোতে যে কোনো ধরনের গুরুত্বপূর্ণ সভা দিনেই হয়ে থাকে। নিয়োগ কমিটির সভা হলে তো কথাই নেই। কিন্তু এক্ষেত্রে একেবারেই উল্টো বাংলাদেশ মিউনিসিপল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিএমডিএফ)। এই প্রতিষ্ঠানটির পাঁচজন ন্যাশনাল কনসালট্যান্ট নিয়োগের বাছাই কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সভা হয়েছে রাতে! তাও আবার একটি নয়, ছয় ছয়টি আলাদা আলাদা সভা! তবে সবচেয়ে আশ্চর্য্যরে বিষয় হচ্ছে নিয়োগের জন্য পরামর্শক বাছাইয়ের মতো অতিগুরুত্বপূর্ণ এই কমিটির ছয়টি বৈঠকই হয়েছে মাত্র এক ঘণ্টায়! অর্থাৎ প্রতি ১০ মিনিটে একটি করে বৈঠক শেষ হয়েছে। শুধু তাই নয় প্রতি ১০ মিনিটের এই ছয়টি মিটিংয়ে অংশগ্রহণের সম্মানীবাবদ কর্মকর্তারা জনপ্রতি ৪৮ হাজার টাকা করে প্রায় তিন লাখ টাকা হাতিয়ে নিয়েছেন। অন্যদিকে নজিরবিহীনভাবে ১ ঘণ্টার এই ছয় মিটিংয়েই কনসালট্যান্টের মতো গুরুত্বপূর্ণ নিয়োগের ক্রাইটেরিয়া নির্ধারণ, প্রাপ্ত দরখাস্তসমূহ যাচাই-বাছাই এমনকি সংক্ষিপ্ত তালিকাও প্রস্তুত করেছে বাছাই কমিটি। ২০১৯ সালের ১৭ সেপ্টেম্বরের ভুতুড়ে এই বৈঠকের পর ২৬ সেপ্টেম্বর ওই ৫ পদের জন্য লোক দেখানো সাক্ষাৎকারেরও আয়োজন করে কমিটি। এই সাক্ষাৎকারগ্রহণ এবং নিয়োগ কমিটির  ৫টি সভার সম্মানীর নামে লুটপাট হয়েছে আরো ৩ লাখ টাকা। বিএমডিএফে পাহাড়সম অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট, জালিয়াতির এটি একটি ছোট্ট নমুনা মাত্র। এরকম শত শত অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাটে ডুবতে বসেছে সংস্থাটি। এসব অপকর্মে নেতৃত্ব দিচ্ছেন খোদ বিএমডিএফের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ হাসিনুর রহমান নিজেই। বলা যায় গোটা প্রতিষ্ঠানটিতেই তিনি দুর্নীতি-লুটপাটের রামরাজত্ব চালিয়ে যাচ্ছেন। অবশ্য এমডি হিসেবে তার নিজের নিয়োগও হয়েছে সম্পূর্ণ আইনবহির্ভূতভাবে। বিএমডিএফে নিয়োগের আগে বাংলাদেশ পাবলিক সার্ভিস কমিশনের (পিএসসি) সদস্য ছিলেন হাসিনুর রহমান।  নিয়ম অনুযায়ী পিএসসির সদস্য হিসেবে পূর্ণ এক মেয়াদ (৫ বছর) চাকরি করার পর আর কোনো সরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করা সাংবিধানিকভাবে নিষিদ্ধ ও প্রচলিত আইনে দণ্ডনীয় অপরাধ। তবে এক্ষেত্রে প্রচলিত সব আইন-কানুনকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে বেআইনিভাবে সৈয়দ হাসিনুর রহমানকে বিএমডিএফে নিয়োগ দেয়া হয়েছে।  বিএমডিএফের এমডি পদে অবৈধভাবে নিয়োগ পাবার পর পরই পুরো প্রতিষ্ঠানটিকে লুটপাটের আখড়ায় পরিণত করেছেন সৈয়দ হাসিনুর রহমান। বিএমডিএফের এমন কোনো সেক্টর নেই যেখানে এই দুর্নীতিবাজের হাত পড়েনি। দুর্নীতির পথকে সহজ করার জন্য বিএমডিএফে চিহ্নিত কিছু ব্যক্তিকে নিয়ে এক বিশাল সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন তিনি। লুটপাটের সুবিধার্থে কনসালট্যান্টসহ অন্যান্য পদে নিজের পছন্দমতো অদক্ষ, অনভিজ্ঞ লোকদের নিয়োগ দিয়ে রেখেছেন। এসব কর্মকর্তাদের সহায়তায় প্রকিউরমেন্ট বা কেনাকাটার আড়ালে চালিয়ে যাচ্ছেন কোটি কোটি টাকার লুটপাট। দুর্নীতিবাজ এই এমডির বিরুদ্ধে নতুন গাড়ি কেনার নামে পুরাতন গাড়ি কিনে লাখ লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ যেমন আছে, তেমনি প্রমোদ ভ্রমণ করে এসে ফিল্ড ভিজিটের নামে ভুয়া বিল ভাউচার দেখিয়ে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, নগর উন্নয়নে অবকাঠামো নির্মাণে আর্থিক ও কারিগরি সহায়তা  দিতে ১৯৯৯ সালে বাংলাদেশ মিউনিসিপল ডেভেলপমেন্ট ফান্ড (বিএমডিএফ) গঠিত হয়েছিলো। কিন্তু সেই উদ্দেশ্য যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হচ্ছে না শুধু এই লুটপাট প্রবণতার কারণে।
এই প্রতিষ্ঠানটির একমাত্র দাতাসংস্থা বিশ^ব্যাংক। বিশ^ব্যাংকের ঋণ নিয়েই দেশের সিটি কর্পোরেশন ও  পৌরসভাগুলোতে বড় বড় প্রকল্প বাস্তবায়ন করছে বিএমডিএফ। কিন্তু নগর উন্নয়নে কাজ করার নামে বিভিন্ন ভুয়া বিল ভাউচার আর প্রকল্পের মাধ্যমে বিশ^ব্যাংকের কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিতেই ব্যস্ত প্রতিষ্ঠানটির এই দুর্নীতিবাজ ব্যবস্থাপনা পরিচালক। বিএমডিএফে তার এই ব্যাপক লুটপাট, দুর্নীতি জালিয়াতি তদন্ত করতে ইতিমধ্যে দুর্নীতি দমন কমিশন থেকে স্থানীয় সরকার বিভাগকে নির্দেশ দেয়া হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে।  
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এমডি হিসেবে সৈয়দ হাসিনুর রহমান শুধু দুর্নীতির মাধ্যমেই প্রতিষ্ঠানটিকে পিছিয়ে দিয়েছেন তা নয়, প্রকল্প বাস্তবায়নে তার ব্যর্থতা ও চরম অদক্ষতার কারণে একাধিক প্রকল্প থেকে নজিরবিহীনভাবে অর্থ প্রত্যাহার করে অন্যখাতে ফিরিয়েও নিচ্ছে বিশ^ব্যাংক।
ফিল্ড ভিজিটের নামে হরিলুট
বিএমডিএফের দুর্নীতিবাজ এমডি যেসব খাত থেকে কোটি কোটি হরিলুট করছেন এর মধ্যে ফিল্ড ভিজিট একটি। এই ফিল্ড ভিজিটের নামে মাসে ১৫ থেকে ২০ দিন দেশের বিভিন্ন পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশনে প্রমোদ ভ্রমণ করে বেড়ান তিনি। যে নিয়মে ফিল্ড ভিজিট করার কথা এবং যে বিষয়গুলো তদারক করার কথা, এমনকি যে স্থানে যাওয়ার সেখানে না গিয়েই ফিল্ড ভিজিট দেখান। এমনকি সরকারি ছুটির দিনগুলোতেও এই প্রমোদ ভ্রমণের নামে বিল ভাউচার দিয়ে ভ্রমণ ভাতা হাতিয়ে নেয়া হয়। সংশ্লিষ্ট সূত্র বলছে, গত ৪ বছরে অন্তত ৫০০ দিন ফিল্ড ভিজিট দেখিয়ে বিপুল অর্থ আত্মসাত করেছেন এই দুর্নীতিবাজ এমডি।  এরমধ্যে ২০১৯ সালের ২১ সেপ্টেম্বর থেকে ১২ অক্টোবর পর্যন্ত ২২ দিনের ১২ দিনই ফিল্ড ভিজিট দেখিয়েছেন তিনি। যদিও এরমধ্যে ৬ দিনই সরকারি ছুটি ছিলো। এসব ভ্রমণ ভাতা বাবদ প্রতিদিন ৩ হাজার টাকা করে মাসে প্রায় অর্ধলক্ষ টাকা, গাড়ির জ¦ালানি, রেল, বিমান, লঞ্চের ভিভিআইপি টিকিটের খরচ বাবদ আরো অর্ধ লক্ষ টাকা হাতিয়ে নেন হাসিনুর রহমান। নিয়ম অনুযায়ী,  যে কোনো কর্মকর্তা  দেশে বা বিদেশে সরকারি ভিজিটে গেলে  ফিরে এসে  রিপোর্ট দাখিল করা বাধ্যতামূলক।  চলমান উন্নয়ন প্রকল্প ভিজিটে গেলে ওই প্রকল্প  বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে  বিরাজমান সমস্যা ও তা সমাধানের উপায়  নির্দেশ করে  ভিজিট পরবর্তী  রিপোর্ট লিখে দাখিল করা বাধ্যতামূলক।  কিন্তু গত ৪ বছরে  প্রায় ৫ শতাধিক  তথাকথিত ‘ফিল্ড ভিজিট’ করলেও  আজ পর্যন্ত এমডি হাসিনুর রহমান একটি  রিপোর্টও দাখিল করেননি। শুধু তাই নয়, দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে এই এমডি গত ৪ বছরে শত শত পৌরসভা, সিটি কর্পোরেশন ভিজিট করেছেন। বেশি ঋণ দেয়া হয়েছে এমন জায়গায় ৪/৫ বারও গিয়েছেন। কিন্তু এসব ফিল্ড ভিজিটে কখনো বিএমডিএফের কোনো বিশেষজ্ঞ কর্মকর্তা, প্রকৌশলী, হিসাব শাখার কোনো কর্মকর্তাকে এমডি সাথে নেন না। কারণ, এদের সাথে নিলে নিয়মবহির্ভূত কর্মকাণ্ড করতে সুবিধা হবে না। পূর্বেকার ঋণের শর্ত- মেয়াদকাল শিথিল ও মওকুফ করে দেয়া এবং নতুন ঋণ ও অনুদানের প্রলোভন দেখিয়ে এসব পৌরসভা/সিটি কর্পোরেশন থেকে উপঢৌকনের নামে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নিচ্ছেন এমডি হাসিনুর রহমান। প্রশ্ন উঠেছে,  ইতিহাসের ছাত্র দুর্নীতিবাজ এই এমডি কোনো প্রকৌশলী বা হিসাব বিশেষজ্ঞ না হয়েও কি করে পৌরসভা সিটি কর্পোরেশনের ঝানু ঝানু ইঞ্জিনিয়ার, ঠিকাদার, জনপ্রতিনিধিদের মোকাবিলা করে হাজার হাজার কোটি টাকার ইঞ্জিনিয়ারিং উন্নয়ন প্রকল্পের কাজের ত্রুটি বিচ্যুতি নির্ণয় করেন? অথবা সংশোধনের পরামর্শ দেন? বস্তুত, সংশ্লিষ্ট পৌরসভা বা সিটি কর্পোরেশনের দুর্নীতিবাজ ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগসাজশে তাদের নানান অনৈতিক কর্মকাণ্ড চোখ বুঁজে অনুমোদন করে দেন তিনি। বিনিময়ে হাতিয়ে নেন মোটা অংকের অর্থ।
গাড়ি কেনার নামে লুটপাট
বিএমডিএফের পরিচালনা পর্ষদ ও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়কে ভুল বুঝিয়ে গাড়ি কেনার নামে লাখ লাখ টাকা ভাগবাটোয়ারা হয়েছে দুর্নীতিবাজ এমডি হাসিনুর রহমানের নেতৃত্বে। সম্পূর্ণ সচল একটি টয়োটা প্রাডো জিপ গাড়ি থাকার পরেও বিশ^ব্যাংকের ঋণের অর্থে ৯০ লাখ টাকার মিটসুবিসি পাজেরো স্পোর্টস জিপ গাড়ি কিনতে  অবিশ^াস্য দুর্নীতি করা হয়েছে। পরিচালনা পর্ষদ ও মন্ত্রণালয়ের সুস্পষ্ট নির্দেশনা ছিলো সরকারি প্রতিষ্ঠান প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ থেকে জিপ কেনার।  কিন্তু এমডির সব দুর্নীতির অন্যতম প্রধান সহযোগী তথাকথিত প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্টের  অসৎ চালে পত্রিকায় জিপ কেনার বিজ্ঞাপন ছাপানো হয়। প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজকে দিয়ে ৫ হাজার টাকা মূল্যের টেন্ডার সিডিউল কেনানো হয়। এরপর তথাকথিত প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্টের যোগসাজশে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের বিক্রয় বিভাগের কয়েকজন দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাকে  নগদ ১০ লাখ টাকা ঘুষ দিয়ে প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজের পক্ষ থেকে কেনা সিডিউল ড্রপ বন্ধ করে দেয়া হয়। এরপর ‘প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ মিতসুবিসি পাজেরো স্পোর্টস জিপ সরবরাহে টেন্ডার ড্রপ করতে ব্যর্থ হয়েছে’ এমন ডাহা মিথ্যা স্টেটমেন্ট দিয়ে মাত্র ৩৫ লাখ টাকায়  বেসরকারি র‌্যাংগস কোম্পানি থেকে নতুনের নামে একটি পুরনো গাড়ি কেনা হয়। ভাগবাটোয়ারা করে নেয়া হয় বাজেটের বাকি ৫৫ লাখ টাকা।  বলা হয়,  এ গাড়িটি সম্পূর্ণ জাপানে সংযোজিত। অথচ এটি প্রগতি ইন্ডাস্ট্রিজ কর্তৃক কয়েক বছর আগে সংযোজিত।  পুরনো হওয়ায় গাড়ির নানান জায়গায় ক্ষতের চিহ্ন ছিলো। গাড়ির রিসিভ কমিটির সদস্য বিআরটিএর কর্মকর্তা পুরাতন ও জখম হওয়া গাড়িটিকে ব্র্যান্ডনিউ গাড়ি হিসেবে স্বীকার ও গ্রহণ করতে আপত্তি জানালে তথাকথিত দুর্নীতিবাজ প্রকিউরমেন্ট স্পেশালিস্ট তাকে হুমকি দিয়ে স্বাক্ষর প্রদানেও বাধ্য করে। পরে দুর্নীতির ম্যাধমে কেনা এই পুরাতন ও জখম হওয়া গাড়ির জন্য প্রায় ২০ লাখ টাকা মেরামত ও বিলাসবহুল উপকরণ ক্রয়ে খরচ করা হয়েছে। 
পিএমইউতে কনসালট্যান্ট নিয়োগের নামে বাণিজ্য 
বিএমডিএফের এমডি হাসিনুর রহমানের লুটপাটের আরেকটি বড় ক্ষেত্র প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট পরিচালনা পর্ষদে থাকা দক্ষ ও অভিজ্ঞ সরকারি কর্মকর্তাদের শত আপত্তি সত্ত্বেও বিশ^ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ভুল বুঝিয়ে এই প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিট সৃষ্টি করেছেন দুর্নীতিবাজ হাসিনুর রহমান। বিশেষ মতলবে এর মাধ্যমে বিএমডিএফের স্থায়ী জনবলকে সম্পূর্ণ অলস ও কর্মহীন করে রাখা হয়েছে। গত ৪ বছর ধরে নানা বাহানা ও অজুহাত সৃষ্টি করে  কেবলমাত্র  ৩ ঈঠ গঊঞঐঙউ এর মাধ্যমে এই ইউনিটে কনসালট্যান্ট নিয়োগের নামে লুটপাট চালানো হচ্ছে। এসব কনসালট্যান্টদেরকে এক বছর বা পুরো প্রকল্পকালের জন্য নিয়োগ না দিয়ে ৩ মাস পরপর নিয়োগ দেয়া হয়। প্রতিবারই এই নিয়োগের সময় তাদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেয়া হয়। পিএমইউতে প্রতি তিন মাস পরপর এসব নিয়োগ দিয়ে যেমন বাণিজ্য করা হয়, তেমনি নিজেদের পছন্দের অযোগ্য লোককেও নিয়োগ দেয়া হয়। ব্যয় না হওয়া বিভিন্ন প্রকল্পের কোটি কোটি টাকা যেনতেন প্রকারের একটি রিপোর্ট প্রস্তুতের নামে নিজেদের মধ্যে ভাগবাটোয়ারা করে নেওয়াও এই নিয়োগের উদ্দেশ্য। প্রজেক্ট ম্যানেজমেন্ট ইউনিটের এসব কনসালট্যান্টের জনপ্রতি মাসিক বেতন ধরা হয়েছে সর্বনি¤œ আড়াই লাখ থেকে ঊর্ধ্বে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত।  প্রথমে ৩ মাসের জন্য নিয়োগ করা এই কনসালট্যান্টদের সাথে ভাগাভাগিতে বনিবনা হলে পরবর্তীতে আবারো ৩ মাস করে বছরের পর বছর নিয়োজিত রাখা হয়। বনিবনা না হলে নতুন আরেক সেট কনসালট্যান্ট নিয়োগের নামে আরেক দফা কমিশন বাণিজ্য চলে।
এমডি যা বললেন
বিএমডিএফ’র এমডি সৈয়দ হাসনুর রমানের কাছে ফোনে এসব অনিয়মের বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, এখানে একটা গ্রুপ আছে এরা বিভিন্ন জায়গায় বেনামী অভিযোগ দিচ্ছে। দুদক, বিশ্বব্যাংকেও এরকমের অভিযোগ দিয়েছে। কিন্তু প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, বেনামী অভিযোগ গ্রহণ না করার জন্য। হাসিনুর রহমান আরো বলেন, যারা অভিযোগ দিচ্ছে এদের সাহস নেই নিজেদের নাম প্রকাশ করার। তারা বেনামী অভিযোগ দেয় কেন? নামসহ অভিযোগ দেয় না কেন?
ব্যবস্থাপনা পরিচালক হাসিনুর রহমানকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বেনামী অভিযোগ দুদক তো আমলে নিয়েছে এবং এ বিষয়ে তদন্তের জন্য মন্ত্রণালয়কে নির্দেশও দিয়েছে। এ প্রশ্নের কোনো জবাব ব্যবস্থাপনা পরিচালক দেননি।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২০ জানুয়ারি ২০২০ প্রকাশিত)