মঙ্গলবার, ০২-জুন ২০২০, ০৮:২৭ অপরাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অবৈধ টাইমস্কেল মঞ্জুরি দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য
মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা মানা হয়নি

প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের অবৈধ টাইমস্কেল মঞ্জুরি দিয়ে ঘুষ বাণিজ্য

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৩ মার্চ, ২০২০ ০৫:২৮ অপরাহ্ন


সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: অর্থমন্ত্রণালয় এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের নিষেধাজ্ঞা সত্ত্বেও তা উপেক্ষা করে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল মঞ্জুরি দিয়ে মোটা অংকের ঘুষ বাণিজ্য করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের দুর্নীতিবাজ সিন্ডিকেট। বিধিবহির্ভূত এই আদেশের ফলে সরকারের কোটি কোটি টাকা আত্মসাত হয়েছে। তবে ওই টাকা ফিরিয়ে আনা বা জড়িতদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ না নিয়ে উল্টো এই সিন্ডিকেটকে মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আকরাম-আল-হোসেনের বিরুদ্ধে। এই অপকর্মের তদন্ত চেয়ে ইতিমধ্যে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়েও অভিযোগ জমা পড়েছে।
জানা গেছে, ২০১৪ সালের ৯ মার্চ থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকপদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে। ফলে বিধি অনুযায়ী ওই তারিখের পরবর্তী সময়ে তাদেরকে টাইমস্কেল প্রদানের সুযোগ নেই বলে অর্থমন্ত্রণালয় ও প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্টদের জানিয়ে দেয়। কিন্তু ঢাকা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসার আলেয়া ফেরদৌসি শিখার যোগসাজশে সিন্ডিকেট করে ঢাকা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের কয়েকমাসের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী রেজা বিপুল অংকের ঘুষ নিয়ে নিয়মবহির্ভূতভাবে ব্যাপকহারে টাইমস্কেল মঞ্জুরি আদেশ জারি করেন। এর বিনিময়ে টাইমস্কেল সুবিধাভোগী প্রত্যেক শিক্ষকের উত্তোলিত ৪-৫ লাখ টাকা বেতন থেকে ৫০ শতাংশ কমিশন হিসাবে কোটি টাকা হাতিয়ে নিয়েছে আলী রেজা সিন্ডিকেট। দালাল শ্রেণীর কয়েকজন শিক্ষক এবং শিক্ষক নেতা এই দুর্নীতি-লুটপাটে জড়িত রয়েছেন। এতে সরকারের কোটি কোটি টাকা আর্থিক ক্ষতি হয়েছে।
সূত্র জানায়, ভারপ্রাপ্ত উপ-পরিচালক মোহাম্মদ আলী রেজা সিন্ডিকেটের এই অপকর্মের মাত্র এক মাস আগে ২০১৯ সালের ২৭ মে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদানের বিষয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ বদরুল হাসান বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ০৯/০৩/২০১৪ তারিখের পরবর্তী সময়ে প্রাপ্য বলে দাবিকৃত কোনো টাইমস্কেল প্রদান না করার জন্য বিভাগীয় উপপরিচালকগণকে চিঠি দেয়ার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়। একইসঙ্গে  ইতিমধ্যে এতদসংক্রান্ত আদেশ দেয়া হয়ে থাকলে তা স্থগিত রাখতে পত্রে নির্দেশনা দেয়ার কথা বলা হয়। ওই সভায় আরো সিদ্ধান্ত নেয়া হয় যে, প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদানের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালককে সভাপতি করে কমিটি গঠনের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে। 
এছাড়া ০৯/০৩/২০১৪ তারিখের পূর্বের ৩য় শ্রেণির চাকুরিকাল এবং ০৯/০৩/২০১৪  তারিখের পরের ২য় শ্রেণির চাকুরিকাল একত্রে গণনা করে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রাপ্যতার বিষয়ে অর্থ বিভাগের মতামত গ্রহণের সিদ্ধান্তও নেয়া হয় ওই সভায়। সভার এসব সিদ্ধান্তের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে সঙ্গে জানিয়েও দেয়া হয়েছে। 
শুধু তাই নয়, প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল সংক্রান্ত প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ০১/০৭/১৯ তারিখের মাসিক সমন্বয় সভার রেজুলেশনেও সুস্পষ্টভাবে বলা হয়, ০৯/০৩/২০১৪ তারিখের পরবর্তী সময়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক পদের পদমর্যাদা দ্বিতীয় শ্রেণির করায় টাইমস্কেল প্রাপ্ত হবেন না এবং মন্ত্রণালয়ের পরবর্তী নির্দেশনা না দেয়া পর্যন্ত কোনো প্রকার টাইমস্কেল প্রদান করা যাবে না।  বিধায় ০৯/০৩/২০১৪ তারিখের পর থেকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ এর  ৭ (১) এর সুবিধা তাদের জন্য প্রযোজ্য হবে না। 
কিন্তু মন্ত্রণালয়ের এসব নিষেধাজ্ঞা ও সিদ্ধান্তকে চরমভাবে উপেক্ষা করে এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কমিটি গঠনের অনুমতি ও অর্থ বিভাগের মতামত ছাড়াই কোটি কোটি টাকা ঘুষ লেনদেনের মাধ্যমে ব্যাপকহারে প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল মঞ্জুরি আদেশ জারি করেন ঢাকা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী রেজা। সাপ্তাহিক শীর্ষ কাগজের হাতে যেসব মঞ্জুরি আদেশের কপি আছে তাতে দেখা যায়, ১১/০৭/১৯ তারিখে ১৮ জন, একই তারিখে আরেক আদেশে ১০ জন, ০৮/০৭/১৯ তারিখে ৩ জন,  ০৩/০৭/১৯ তারিখে ১ জন, ০২/০৭/১৯ তারিখে ১০ জন, একই তারিখে আরেক আদেশে ৯ জন, ২৬/০৬/১৯ তারিখে ৩ জন, ১৪/০৭/১৯ তারিখে ৯ জন, একই তারিখে আরেক আদেশে ১০ জন, ০৩/০৭/১৯ তারিখে ১৩ জন, ২৫/০৬/১৯ তারিখে ১২ জন, একই তারিখে আরেক আদেশে ২৯ জন, ০২/০৭/১৯ তারিখে ৬ জন, ০৪/০৭/১৯ তারিখে ১৬ জন, ১১/০৭/১৯ তারিখে ১ জন, একই তারিখে আরেক আদেশে ১২ জন, ২৫/০৬/১৯ তারিখে ১১ জন প্রধান শিক্ষকের টাইমস্কেল মঞ্জুরি আদেশ জারি করা হয়েছে। পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, এসব আদেশের বেশিরভাগই জারি করা হয়েছে ২০১৯ সালের জুলাই মাসে। অথচ প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের ২৭ মের এই সংক্রান্ত সভাতেই পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত টাইমস্কেল প্রদান না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো। ওই সভার এসব সিদ্ধান্তের কার্যবিবরণীর অনুলিপি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের মহাপরিচালকসহ খোদ ঢাকা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের উপপরিচালককেও পাঠানো হয়েছিলো। কিন্তু ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালকই মন্ত্রণালয়ের এসব সিদ্ধান্তকে তোয়াক্কা না করে এর এক মাস পরে ঘুষের বিনিময়ে দেদারসে টাইমস্কেল মঞ্জুরি দিয়ে আদেশ জারি করেন। এসব ঘটনা জানাজানি হয়ে গেলে তোলপাড় সৃষ্টি হয়। প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে এ ব্যাপারে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মতামত চাওয়া হয়। ২০১৯ সালের ১৫ ডিসেম্বর অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থ বিভাগ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল প্রসঙ্গে মতামত জানিয়ে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা সচিবকে চিঠি পাঠায়। অর্থ মন্ত্রণালয়ের ওই চিঠিতে বলা হয়, ‘সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের পদমর্যাদা ৯ মার্চ ২০১৪ খ্রিষ্টাব্দ তারিখ থেকে দ্বিতীয় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়েছে বিধায় উক্ত তারিখ থেকে জাতীয় বেতন স্কেল ২০০৯ এর ৭(১) নং অনুচ্ছেদের সুবিধা তাদের ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হবে না।’
অর্থ বিভাগের ওই মতামত উল্লেখ করে চলতি বছরের ৭ জানুয়ারি সংশ্লিষ্টদের চিঠি দেয় প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়। এতে বলা হয়, ‘এমতাবস্থায় অর্থ মন্ত্রণালয়ের উল্লেখিত পত্রের বিষয়ে পরবর্তী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাগ্রহণের জন্য নির্দেশক্রমে অনুরোধ করা হলো।’
এসব চিঠি পর্যালোচনা করে দেখা যাচ্ছে, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের ৯ মার্চ ২০১৪ তারিখের পরবর্তী সময়ে টাইম স্কেল প্রদানের কোনো সুযোগ নেই। এমন পরিস্থিতিতে ঢাকা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী রেজার অবৈধ আদেশের ফলে শিক্ষকরা টাইমস্কেলের টাকা উত্তোলন করে নেয়ায় সরকারের কোটি কোটি টাকা ক্ষতি হয়েছে। এদিকে এই অপকর্মের তদন্ত করে ঘুষের টাকা ও সরকারি অর্থ ফেরত প্রদানের জন্য সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে আবেদন করেছেন সৎ ও দেশপ্রেমিক শিক্ষকরা।  
প্রাথমিক শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মে মাসের সভার কার্যবিবরণীতে যা আছে
সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদানের বিষয় নিয়ে ২০১৯ সালের ২৭ মে প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ে একটি সভা অনুষ্ঠিত হয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ বদরুল হাসান বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভার প্রেক্ষাপট বর্ণনা করেন জাহানারা রহমান, উপসচিব (বিদ্যালয়-২)। তিনি সভাকে জানান,  “গত ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখ এ মন্ত্রণালয়ের প্রশাসন-২ অধিশাখা থেকে প্রশাসনিক গতিশীলতা আনয়ন এবং সেবার মান উন্নয়নে প্রাথমিক  ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয় এবং মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের প্রশাসনিক ও আর্থিক ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের নিমিত্ত প্রধান শিক্ষকগণের টাইমস্কেল প্রদানের বিষয়টি প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের বিভাগীয় উপপরিচালকগণের নিকট মন্ত্রণালয়ের ৩১ জানুয়ারি ২০১৯ তারিখের ৩৮.০০২.০০৫.০০.০০১.২০১৪-১১৯ নং স্মারকপত্রের মাধ্যমে ন্যস্ত করা হয়। ২০১৩ সালে প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকগণের বেতনগ্রেড ছিলো ১৩ (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) এবং ১৪ (প্রশিক্ষণবিহীন) যা ৩য় শ্রেণির অন্তর্ভুক্ত। পরবর্তীতে ০৯/০৩/২০১৪ তারিখে প্রধান শিক্ষকের পদ ২য় হতে গ্রেড-১১ (প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত) এবং গ্রেড-১২ (প্রশিক্ষণবিহীন) এ উন্নীত করা হয়। এরূপ পরিস্থিতিতে বিভাগীয় উপপরিচালকগণ বিবেচ্য টাইমস্কেল কোনো কমিটির মাধ্যমে প্রদান করবেন নাকি স্বীয় সিদ্ধান্তে করবেন সে বিষয়ে স্পষ্টীকরণ চেয়ে মন্ত্রণালয়ে পত্র প্রেরণ করেন। 
০২। সে প্রেক্ষিতে বিভাগীয় উপপরিচালক, রংপুর ও বিভাগীয় উপপরিচালক, রাজশাহী টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদানের ক্ষেত্রে ক্ষমতা বিকেন্দ্রীকরণের বিষয়টি আরো স্পষ্টীকরণ করার জন্য অনুরোধ করেছেন। উক্ত পত্রে ৩য় ও ৪র্থ শ্রেণির কর্মচারীদের টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান সংক্রান্ত কমিটির দ্বারা ২য় শ্রেণির তথা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করা যাবে কি না অথবা কমিটির সুপারিশ ছাড়াই প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করা যাবে কি না এবং ৩য় শ্রেণি ও ২য় শ্রেণির কর্মকাল একত্রে মিলে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করা যাবে কি না সে বিষয়ে সদয় নির্দেশনা চেয়েছেন।”
তবে ওই সভায় এ বিষয়ে আলোচনায় অংশগ্রহণ করে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন-১) রতন চন্দ্র পন্ডিত  জানান, ২য় শ্রেণির কর্মকর্তাদের টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদানের জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২৭ জানুয়ারি ২০১১ তারিখের ০৫.১৭০.০২২.২৪.০০.০৫০.২০১০-৪৫ সংখ্যক স্মারকের পরিপত্রের নির্দেশনা অনুযায়ী কমিটির সুপারিশের প্রয়োজন রয়েছে। প্রশাসনিক মন্ত্রণালয়/ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব বা যুগ্মসচিব পদের কেউ কমিটির সভাপতি হিসেবে থাকবেন। সভায় তিনি আরো বলেন, ২য় শ্রেণির পদমর্যাদার প্রধান শিক্ষকগণের টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদানের বিষয়টি বিভাগীয় উপপরিচালকগণের নিকট ন্যস্ত করা হয়েছে। প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের সংখ্যা বিবেচনা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের অধীন বিভাগীয় উপপরিচালক পর্যায়ে উক্ত সিদ্ধান্তগ্রহণের এখতিয়ার প্রদানের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের মতামত গ্রহণ করা যেতে পারে। 
সভায় বিভাগীয় উপপরিচালক, রাজশাহী এর পত্রের উদ্বৃতি দিয়ে ঢাকা বিভাগীয় উপপরিচালক ইন্দু ভুষণ দেব জানতে চান, ৩য় ও ২য় শ্রেণির কর্মকাল একত্রে মিলে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করা যাবে কি না অর্থাৎ প্রধান শিক্ষকগণ ৩য় শ্রেণি থেকে ২য় শ্রেণিতে উন্নীত হওয়ার পরের  (০৯/০৩/২০১৪ তারিখের পর) কর্মকাল একত্রে গণনা করে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদান করা যাবে কি না ?
এর জবাবে সভার সভাপতি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মোঃ বদরুল হাসান বাবুল জানান, একই পদে থেকে বেতনস্কেলের কোনো উন্নতি না হলে তবেই তাকে ৮ বছর পর ১ম টাইমস্কেল, ১২ বছর পর ২য় টাইমস্কেল এবং ১৫ বছর পর ৩য় টাইমস্কেল প্রদান করা হয়ে থাকে। যেহেতু, এক্ষেত্রে প্রধান শিক্ষকগণ ০৯/০৩/২০১৪ তারিখে তাদের বেতনস্কেলের দুটি ধাপে উন্নীত হয়েছে এবং পরে একই গ্রেডে ৮ বছর অতিক্রান্ত হয় নাই সেহেতু ০৯/০৩/২০১৪ তারিখের পর টাইমস্কেল প্রদানের সুযোগ নেই মর্মে সভাকে অবহিত করেন। তিনি সভায় ২০১৫ সালের জাতীয় বেতনস্কেলে টাইমস্কেল সংক্রান্ত নির্দেশনাও তুলে ধরেন। ওই নির্দেশনা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, প্রধান শিক্ষকগণ ধারাবাহিকভাবে চাকুরিতে বহাল না থাকলে টাইমস্কেল প্রাপ্য হন না। এক্ষেত্রে দেখা যায় যে, প্রধান শিক্ষকগণ ৩য় শ্রেণিতে কর্মরত থাকায় ২০১৪ সনের মার্চ মাসে তাদের ২য় শ্রেণিতে উন্নীত করা হয়। ২০১৫ সনের বেতনস্কেলের ভাষ্যমতে যেহেতু প্রধান শিক্ষকগণের শ্রেণির পরিবর্তন হয়েছে তাই ২০১৪ সনের মার্চ মাসের পর কোনো প্রধান শিক্ষকেরই টাইমস্কেল দাবি করার মেয়াদ পূর্ণ হয়নি। তদুপরি প্রধান শিক্ষকগণ ০৯/০৩/২০১৪ তারিখের পর টাইমস্কেল প্রাপ্য হবেন কি না সে বিষয়ে অর্থ বিভাগের মতামত গ্রহণের প্রয়োজনীয়তা রয়েছে মর্মে সভায় আলোচনা হয়।
সভায় প্রাথমিক শিক্ষা অধিদফতরের উপপরিচালক (ইনক্লুসিভ) তাহমিনা খাতুন জানান, বিভাগীয় উপপরিচালকগণ ইতিমধ্যে কিছু জেলায় ০৯/০৩/২০১৪ তারিখের পর টাইমস্কেল প্রদানের আদেশ জারি করেছেন। আলোচনা শেষে সভায় সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকদের টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রদানের জন্য প্রাথমিক শিক্ষার বিভাগীয় উপপরিচালককে সভাপতি করে কমিটি গঠনের বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন গ্রহণ করতে হবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়।  
এছাড়া ০৯/০৩/২০১৪ তারিখের পূর্বের ৩য় শ্রেণির চাকুরিকাল এবং ০৯/০৩/২০১৪  তারিখের পরের ২য় শ্রেণির চাকুরিকাল একত্রে গণনা করে টাইমস্কেল ও সিলেকশন গ্রেড প্রাপ্যতার বিষয়ে অর্থ বিভাগের মতামত গ্রহণ করতে হবে মর্মে সিদ্ধান্ত হয়। আরো বলা হয়, পরবর্তী সিদ্ধান্ত না হওয়া পর্যন্ত ০৯/০৩/২০১৪  তারিখের পরবর্তী সময়ে প্রাপ্য বলে দাবিকৃত কোনো টাইমস্কেল প্রদান না করার জন্য বিভাগীয় উপপরিচালকগণকে পত্র দিতে হবে; ইতিমধ্যে এতদসংক্রান্ত আদেশ দেয়া হয়ে থাকলে তা স্থগিত রাখতে পত্রে নির্দেশনা দেয়া যেতে পারে। ২৭ মে, ২০১৯ ইং তারিখের ওই সভার সিদ্ধান্ত অনুসারে উপ-পরিচালাকগণসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদেরকে এ ব্যাপারে চিঠি দিয়ে নির্দেশনাও দেয়া হয়। তারপরও ঢাকা বিভাগীয় উপ-পরিচালক বেপরোয়াভাবে একের পর এক টাইম স্কেল মঞ্জুরির আদেশ জারি করেন।
দুর্নীতিবাজদের মদদের অভিযোগ সচিবের বিরুদ্ধে
শিক্ষকদের টাইমস্কেল মঞ্জুরি দিয়ে কোটি টাকা ঘুষ বাণিজ্য ও  সরকারি অর্থ আত্মসাতকারী কর্মকর্তা ঢাকা বিভাগীয় প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের ভারপ্রাপ্ত উপপরিচালক মোহাম্মদ আলী রেজার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিয়ে তাকে মদদ দেয়ার অভিযোগ উঠেছে প্রাথমিক শিক্ষা সচিব আকরাম-আল-হোসেনের বিরুদ্ধে। এই দুর্নীতিবাজ আলী রেজাকে চলতি দায়িত্ব হিসেবে রংপুর বিভাগীয় উপপরিচালকের দায়িত্ব দেয়ার জন্য ফাইলে প্রস্তাব করেন সচিব। কিন্তু প্রতিমন্ত্রী ফাইল অনুমোদন না দেয়ায় তা থেমে যায়। সচিবের এ ধরনের কর্মকাণ্ড ইতিমধ্যে ব্যাপক সমালোচনার মুখে পড়েছে এবং তার বিরুদ্ধে দুর্নীতিবাজদের শেল্টার দেয়ার অভিযোগ উঠেছে।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২ মার্চ ২০২০ প্রকাশিত)