রবিবার, ০৭-জুন ২০২০, ০২:২৮ পূর্বাহ্ন
  • এক্সক্লুসিভ
  • »
  • ডিজিটাল ডাকঘরের ৫৪১ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যাপক লুটপাট, দুর্নীতিবাজ পিডি পেলেন পদোন্নতি

ডিজিটাল ডাকঘরের ৫৪১ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যাপক লুটপাট, দুর্নীতিবাজ পিডি পেলেন পদোন্নতি

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৫ মার্চ, ২০২০ ০৪:৫২ অপরাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: ডাক বিভাগের পোস্ট ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি শীর্ষক ৫৪১ কোটি টাকার প্রকল্পে ব্যাপক, অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও অর্থ আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি। এরমধ্যে শুধুমাত্র পোস্ট অফিসের জন্য সার্ভার কেনার নামে ১১০ কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়েছে ওই কেনাকাটা না করেই। ৫৪০ কোটি ৯৪ লাখ টাকার ওই প্রকল্পের বিভিন্ন দুর্নীতির অনুসন্ধান করতে গিয়ে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটি এই প্রমাণ পেয়েছে। সরকারের গুরুত্বপূর্ণ একটি গোয়েন্দাসংস্থাও এই দুর্নীতির তদন্ত করছে। এই প্রকল্পের আওতায় দেশের ৪৯২টি উপজেলা ডাকঘর এবং ৬৫টি জেলা ডাকঘরের জন্য একটি করে সার্ভার কেনার কথা ছিল। কিন্তু কোনো সার্ভার না কিনেই প্রকল্পের ১১০ কোটি টাকা খরচ দেখিয়ে আত্মসাৎ করা হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের ওই কমিটির অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, সার্ভার কেনার নামে ১১০ কোটি টাকা খরচ দেখানো হলেও খোদ পোস্ট মাস্টাররাই সেই সার্ভার কখনো দেখেননি। এমনকি বিভাগীয় পোস্ট মাস্টার জেনারেলরাও এই সার্ভার পেয়েছেন বা কখনো দেখেছেন এমন তথ্য নিশ্চিত করতে পারেননি। সবচেয়ে আশ্চর্য্যরে বিষয় হচ্ছে, যে দুর্নীতিবাজ প্রকল্প পরিচালকের বিরুদ্ধে এসব অভিযোগ, সেই অতিরিক্ত পোস্ট মাস্টার জেনারেল (পরিকল্পনা) সুধাংশু শেখর ভদ্রকে মহাপরিচালক পদে পদোন্নতি দেয়া হয়েছে। রহস্যজনকভাবে এই অভিযোগ দায়সারা গোছের অনুসন্ধান করে বেমালুম চেপে যাওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ দুর্নীতি দমন কমিশনের বিরুদ্ধেও। 
 আত্মসাতের ঘটনা যেভাবে সামনে এলো
ডাক বিভাগের পোস্ট ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি শীর্ষক ৫৪০ কোটি ৯৪ লাখ টাকার প্রকল্পটির মেয়াদ শেষ হয় ২০১৭ সালের ৩০ জুন। এটি ছিলো প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারভিত্তিক প্রকল্প। তবে সাবেক ডাক কর্মকর্তাদের মতে, এই প্রকল্প ডাক বিভাগের ইতিহাসে সবচেয়ে ব্যর্থ একটি প্রকল্প। প্রকল্পের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিপুল পরিমাণ অর্থ লোপাট আর অপচয় ছাড়া এটি আর কিছুই ছিল না। যদিও ডাক অধিদফতরের ওয়েবসাইটে দাবি করা হয়, নির্ধারিত মেয়াদের আগেই ৮৫০০টি ডাকঘরকে পোস্ট ই-সেন্টারে রূপান্তরিত করা হয়েছে এবং পোস্ট ই-সেন্টার হতে সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনীর আওতায় ভাতাসমূহ প্রদান করা হচ্ছে। প্রকল্পটির বাস্তব অগ্রগতি শতভাগ অর্জন করা সম্ভব হয়েছে বলেও দাবি করা হয়। 
জানা গেছে, প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী সামাজিক নিরাপত্তার সব ধরনের ভাতা গ্রামীণ ডাকঘর ও পোস্ট ই-সেন্টারের মাধ্যমে পরিশোধ করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিলো। এর মধ্যে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয় ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের একসেস টু ইনফরমেশনের (এটুআই) সহযোগিতায় বিধবা ভাতা, বয়স্ক ভাতা, অসচ্ছল প্রতিবন্ধী ভাতা, এমনকি পাইলট ভিত্তিতে পোস্টাল ক্যাশকার্ডে বিতরণেরও কথা ছিল এই পোস্ট ই-সেন্টারের মাধ্যমে। তবে প্রকল্প সমাপ্তির পর দেখা যায়, পোস্ট ই-সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালনায় কেনা যন্ত্রপাতি সব অকেজো হয়ে পড়ে আছে। এসব সেবার কোনোটিই পোস্ট ই-সেন্টারের মাধ্যমে দেয়া সম্ভব হচ্ছে না। উল্টো নানা দুর্নীতি অনিয়মের মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা আত্মসাৎ করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকার ভিত্তিক ওই প্রকল্পে ব্যাপক দুর্নীতি, অনিয়ম, লুটপাটের সুনির্দিষ্ট তথ্য সম্বলিত একটি অভিযোগ জমা পড়ে দুদকে। ‘তফসিলভুক্ত’ অপরাধ হিসেবে অভিযোগটির ওপর কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। প্রকল্প বাস্তবায়নের নামে ৭০ কোটি টাকার দুর্নীতিসহ অন্যান্য লুটপাট তদন্তে কমিটি গঠন করে ডাক ও টেলিযোগাযোগ মন্ত্রণালয়। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (ডাক) মো. শাহাদাৎ হোসেনের নেতৃত্বে গঠিত কমিটি ৩ সপ্তাহের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করে। ৭০ কোটি টাকার ওই অনিয়মের অনুসন্ধান করতে গিয়ে আরো একটি পুকুরচুরির ঘটনা সামনে আসে তদন্ত কমিটির। তদন্তে বেরিয়ে আসে পোস্ট অফিসের সার্ভার কেনার নামে ১১০ কোটি টাকা আত্মসাতের আলামত। তবে এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশন এই অভিযোগ তদন্তের তোড়জোড় দেখালোও শেষ পর্যন্ত সংস্থাটি তা চেপে যায়। ফলে এই বিশাল দুর্নীতির বিষয়টি অনেকটা ধামাচাপা পড়ার উপক্রম হয়েছিলো। 
প্রকল্পে যতো অনিয়ম, দুর্নীতি 
সার্ভার কেনার নামে ১১০ কোটি টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি অসংখ্য অনিয়ম, দুর্নীতির চিত্র উঠে আসে মন্ত্রণালয়ের তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনে। প্রতিবেদনে প্রকল্পের আওতায় কেনা পয়েন্ট অব সেল বা পিওএস-পস মেশিনের অস্তিত্ব খুঁজে পেলেও তা বিকল অবস্থায় পড়ে আছে মর্মে উল্লেখ করা হয়। এছাড়া সোলার প্যানেল, ফিঙ্গার প্রিন্ট মেশিন (বায়োমেট্রিক), ইউপিএস মেশিন পাওয়া যায় বিকল অবস্থায়। কোনো কোনো মেশিনের প্যাকেটও খোলা হয়নি। প্রকল্পের আওতায় কেনা রাবার কাঠের চেয়ার-টেবিলও খুঁজে পাওয়া যায়নি অধিকাংশ পোস্ট অফিসে।  
অভিযোগ বেমালুম চেপে গিয়ে দুর্নীতিবাজদের বাঁচিয়ে দিলো দুদক 
পোস্ট ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি প্রকল্পের ব্যাপক অনিয়ম দুর্নীতির সুনির্দিষ্ট তথ্যসহ দুদকে অভিযোগ পড়লে ‘তফসিলভুক্ত’ অপরাধ হিসেবে অভিযোগটির ওপর কমিশন অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয়। অভিযোগে বলা হয়, ডাক অধিদফতর সিন্ডিকেট করে নোট কাউন্টিং এবং ফ্রাংকিং মেশিন কেনে অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায়। সরকারি প্রতিষ্ঠান টেলিফোন শিল্প সংস্থা (টেশিস) থেকে মেশিনগুলো কেনা হলেও এ প্রতিষ্ঠান এসব উৎপাদন করে না। ওই প্রতিষ্ঠানের কতিপয় দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তার সঙ্গে গোপন সমঝোতা করে অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে টেশিসকে দিয়ে মেশিনগুলো কেনা হয়। বাজার মূল্য ১ লাখ টাকার মেশিন ২ লাখ ৪০ হাজার টাকায় টেশিসকে দিয়ে কেনানো হয়। টেশিস থেকে ডাক বিভাগ ২ লাখ ৬০ হাজার টাকায় কেনে। অত্যন্ত চাতুর্যের সঙ্গে নিখুঁত প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়েই এই কেনাকাটা সম্পন্ন হয়। একই প্রকল্পের আওতায় পোস্টাল ক্যাশধারী গ্রাহকদের সেবা দিতে কেনা হয় ২০ হাজার ‘পয়েন্ট অব সেল’ বা (পিওএস-পওস) মেশিন। একেকটি মেশিন ৩৫ হাজার টাকায় কেনা হলেও মেশিনগুলো ব্যবহৃত হচ্ছে না। এমন ডাকঘরও আছে যেখানে ব্যবহার তো দূরে থাক গত তিন বছরে পওস মেশিনের প্যাকেটও খোলা হয়নি। এই কেনাকাটায় প্রকল্পের অন্তত ৭০ কোটি টাকার অপচয় হয়। একইভাবে প্রকল্পের আওতায় কেনা হয় সোলার প্যানেল, ফিঙ্গারপ্রিন্ট মেশিন, ইউপিএস এবং গাড়ি। এ ক্ষেত্রে অন্তত দেড়শ কোটি টাকা কমিশন বাণিজ্যের অভিযোগ রয়েছে। প্রকল্পের আওতায় ৯৯ কোটি টাকায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে ডাক অধিদফতরের প্রশাসনিক ভবন নির্মাণ, মতিঝিলে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৮০টি ফ্ল্যাট নির্মাণ থেকেও কৌশলে ৩০ কোটি টাকা কমিশন হাতিয়ে নেয়ার কথা বলা হয় ওই অভিযোগপত্রে। এছাড়া গাড়ি ক্রয়, কর্মকর্তাদের বদলি বাণিজ্য, পদোন্নতি, প্রাইজপোস্টিং, পানিশমেন্ট পোস্টিং এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কয়েকজন ব্যক্তিকেই ঘুরে ফিরে বিদেশ পাঠানোর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও ছিলো ডাক বিভাগের প্রকল্প পরিচালক এবং তৎকালিন অতিরিক্ত মহাপরিচালকের (পরিকল্পনা) বিরুদ্ধে। অবৈধভাবে অর্জিত কোটি কোটি টাকা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার, স্থানান্তর, রূপান্তর, হস্তান্তর, নামে-বেনামে বিপুল অর্থ-বিত্ত গড়ে তোলার অভিযোগও ছিলো প্রকল্প সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে। যার পুরোটাই দুদকের তফসিলভুক্ত (সরকারি অর্থ অপচয় বা আত্মসাৎ, ক্ষমতার অপব্যবহার, অবৈধ সম্পদ অর্জন এবং অর্থ পাচার) অপরাধ। কমিশন অভিযোগ আমলে নিয়ে সহকারী পরিচালক সৈয়দ আতাউল কবিরের নেতৃত্বে দুই সদস্যের একটি কমিটি গঠন করে। উপ-সহকারী পরিচালক মো. ইসমাইল কমিটির অপর সদস্য। ২০১৮ সালের ডিসেম্বরে কমিটি অনুসন্ধান শুরু করে। অনুসন্ধান প্রক্রিয়ায় সহকারী পরিচালক সৈয়দ আতাউল কবির এককভাবে চিঠি দিয়ে বিভিন্ন দফতরের কাছ থেকে তথ্য-উপাত্ত চান। এর মধ্যে ডাক অধিদফতরের প্রধান কার্যালয় থেকে তিনি রেকর্ডপত্র সংগ্রহ করেন। প্রকল্পটির ডেপুটি প্রকল্প পরিচালক মোস্তাক আহমেদ (বর্তমানে ডেপুটি পোস্টমাস্টার জেনারেল) প্রকল্পের টেন্ডার ডকুমেন্টের ফটোকপি সৈয়দ আতাউল কবিরের হাতে পৌঁছে দেন। জানা গেছে, পওস, ফিঙ্গার প্রিন্ট, কাউন্টিং মেশিন, সোলার প্যানেলসহ প্রকল্পের আওতায় কেনা সামগ্রিগুলো যেসব পোস্ট অফিসে পাঠানো হয়েছে সেগুলোর একটিও সরেজমিন পরিদর্শন করেননি দুদকের অনুসন্ধানকারী ওই কর্মকর্তা। এমনকি ডাক বিভাগের জেলা অফিসও (ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেল) পরিদর্শন করেননি। শুধু তাই নয়, ডাক অধিদফতরের প্রধান কার্যালয়েও তিনি আসেননি। তিনি তথ্য-উপাত্তের জন্য চিঠি দেন দেশের সকল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে। ২০১৮ সালের ৫ ডিসেম্বর সহকারী পরিচালক সৈয়দ আতাউল কবিরের স্বাক্ষরে দেয়া ওই চিঠিতে লেখা হয়, ‘অভিযোগে উল্লিখিত ডাক বিভাগের পোস্ট ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি প্রকল্প’র আওতায় আপনার উপজেলাধীন যে সকল ডাকঘরকে ই-সেন্টার হিসেবে রূপান্তরিত করা হয়েছে সে সকল ডাকঘর সমূহে এবং উপজেলা ডাকঘরে বাংলাদেশ ডাক বিভাগের পোস্ট ই-সেন্টার ফর রুরাল কমিউনিটি প্রজেক্ট হতে কি কি দ্রব্যাদি প্রেরণ করা হয়েছে এবং উক্ত ডাকঘরসমূহে ই-সেন্টার হিসাবে চালু আছে কি না তা জানা একান্ত আবশ্যক। এমতাবস্থায় আপনার উপজেলাধীন ডাকঘর সমুহে বাংলাদেশ ডাক বিভাগ হতে প্রেরিত দ্রব্যাদির তালিকা প্রস্তুত করে এবং উক্ত ডাকঘরসমূহ পোস্ট ই-সেন্টার হিসেবে পরিচালিত হচ্ছে কি না সে তথ্য জরুরি ভিত্তিতে নিম্নস্বাক্ষরকারীর নিকট প্রেরণের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য আপনাকে সবিনয়ে অনুরোধ করা হলো।’
যদিও ইউএনও’র সঙ্গে ডাক বিভাগের কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি পোস্ট অফিস সংক্রান্ত তথ্য দেয়ার জন্য সঠিক ব্যক্তি নন। ডাক বিভাগ নিজস্ব আইন ও বিধিতে চলে। কোনো ইউএনও পোস্ট অফিস সম্পর্কে তথ্য দিতে পারেন না। পোস্ট অফিসে ব্যবহৃত সামগ্রি সচল কি অচল এ বিষয়টি কারিগরি। এ সম্পর্কে ইউএনও কি জানবেন? বরং সংশ্লিষ্ট ডেপুটি পোস্ট মাস্টার জেনারেলই তথ্য প্রদানের উপযুক্ত ব্যক্তি। অথচ দেখা যাচ্ছে, দুদক কর্মকর্তা সৈয়দ আতাউল কবির অত্যন্ত কৌশলে কোনো ডিপিএমজিকে চিঠি না দিয়ে ইউএনওকে চিঠি দেন। এর ফলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা দু’চারটি পোস্ট অফিস পরিদর্শন করে সেগুলোতে প্রকল্পের আওতায় কেনা সামগ্রিগুলো ওই পোস্ট মাস্টার বুঝে পেয়েছেন কি না- এ বিষয়ে তথ্য দেন। তাতে তারা উল্লেখ করেন সামগ্রিগুলো ঠিকঠাক মতো পোস্ট অফিসে পৌঁছেছে। অর্থাৎ প্রকল্পের অর্থে কেনা যন্ত্রপাতিগুলো এখন সচল কি না, এগুলো কেনার আদৌ প্রয়োজন ছিলো কি না- সেই কারিগরি প্রশ্ন এবং যৌক্তিকতা এড়াতেই আতাউল কবির এ কৌশল অবলম্বন করেন। যদিও এ ধরনের অনুসন্ধানের প্রথম কাজ হলো সরেজমিন পরিদর্শন করা। অভিযোগ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সন্ধান করা।  দ্বিতীয়ত, যেহেতু যন্ত্রপাতি কেনাকাটা সংক্রান্ত অভিযোগ, তাই প্রয়োজন ছিলো তৃতীয় একটি সংস্থা দ্বারা কারিগরি কমিটি গঠন করে হাল- প্রতিবেদন নেয়া।
দুর্নীতিবাজ পিডি পদোন্নতি পেলেন
ডাক বিভাগের ৫৪০ কোটি ৯৪ লাখ টাকার এই প্রকল্পের পরিচালক ছিলেন তৎকালিন অতিরিক্ত মহাপরিচালক (পরিকল্পনা) সুধাংশু শেখর ভদ্র। সার্ভার কেনার নামে এই প্রকল্পের শত কোটি টাকা আত্মসাতের পাশাপাশি গাড়ি ক্রয়, কর্মকর্তাদের বদলি বাণিজ্য, পদোন্নতি, প্রাইজপোস্টিং, পানিশমেন্ট পোস্টিং এবং স্বজনপ্রীতির মাধ্যমে কয়েকজন ব্যক্তিকেই ঘুরে ফিরে বিদেশ পাঠানোর মাধ্যমে কোটি কোটি টাকা হাতিয়ে নেয়ার অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অবৈধভাবে অর্জিত কোটি কোটি টাকা ভারতসহ বিভিন্ন দেশে পাচার, স্থানান্তর, রূপান্তর, হস্তান্তর, নামে-বেনামে বিপুল অর্থ-বিত্ত গড়ে তোলার অভিযোগও রয়েছে সুধাংশু শেখরের বিরুদ্ধে। রয়েছে বিভিন্ন কেনাকাটার নামে ৭০ কোটি টাকা নয়-ছয়ের অভিযোগও। অথচ দুর্নীতির এই পাহাড় সমান অভিযোগ মাথায় নিয়েই অতিরিক্ত পোস্ট মাস্টার জেনারেল (পরিকল্পনা) থেকে ডাক বিভাগের মহাপরিচালক হয়ে যান সুধাংশু শেখর ভদ্র। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, দুদকে দুর্নীতি ধামাচাপা দেয়ার কাজে তাকে সহযোগিতা করেছেন দুদকেরই সাবেক একজন সচিব।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২ মার্চ ২০২০ প্রকাশিত)