মঙ্গলবার, ১৯-জানুয়ারী ২০২১, ১১:৫৪ অপরাহ্ন
  • স্বাস্থ্য
  • »
  • দুই বছর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আটকে রাখা মানবাধিকার লঙ্ঘন

দুই বছর ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন আটকে রাখা মানবাধিকার লঙ্ঘন

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৩ ডিসেম্বর, ২০২০ ১১:৫৪ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএসএমএমইউ) রওশন আরা নামের এক নারীর কিডনি গায়েব করে দেওয়ায় অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অকেজো হয়ে মারা যান তিনি। ঘটনাটি ঘটে ২০১৮ সালের ৫ সেপ্টেম্বর। অথচ, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগ থেকে দুই বছর পর লাশের ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পায় ভুক্তভোগীর পরিবার। আর এই ঘটনায় মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে বলে জানিয়েছে জাতীয় মানবাধিকার কমিশন।


জাতীয় মানবাধিকার কমিশন গঠিত তদন্ত কমিটির একটি প্রতিনিধিদল ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন দেরির কারণ জানতে আজ বৃহস্পতিবার ঢামেকের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগে যান। সে সময় তদন্তদলের প্রধান ও মানবাধিকার কমিশনের পরিচালক (অভিযোগ ও তদন্ত) আল-মাহমুদ ফায়জুল কবীর মানবাধিকার লঙ্ঘনের এ কথা জানান।

আল-মাহমুদ ফায়জুল কবীর বলেন, ‘এখানে (ফরেনসিক বিভাগে) আগের সিরিয়ালের রিপোর্টগুলো না দিয়ে যদি দুই-তিন বছরের পরের সিরিয়ালের রিপোর্টগুলো আগে দেওয়া হয়, তাহলে এখানে কী হয় না হয় বোঝাই যাচ্ছে। এটা অবশ্যই মানবাধিকার লঙ্ঘন। কারণ, প্রতিটা সরকারি কাজের রিপোর্ট, প্রতিবেদন বা চিঠি যথা সময়ে পাওয়ার অধিকার প্রত্যেক নাগরিকের আছে। রিপোর্টটি যথা সময়ে না হয়ে দুই বছর বিলম্বিত হওয়ায় অবশ্যই মানবাধিকার লঙ্ঘিত হয়েছে। এটার জন্য সংশ্লিষ্ট শাহবাগ থানা নাকি এই ফরেনসিক বিভাগ দায়ী তা আমরা খতিয়ে দেখব।’

তবে রিপোর্ট দিতে কেন দেরি হয়েছে তার একটি ব্যাখ্যা দিয়েছে ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের প্রধান ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘পোস্টমর্টেম করার পর আমরা হিস্ট্রোপ্যাথলজির জন্য অপেক্ষা করি এবং ভিসেরার কেমিকেল সংরক্ষণ (প্রিজার্ভ) করি। আমরা সেই হিস্ট্রোপ্যাথলজির রিপোর্টের জন্য এক বছর অপেক্ষা করি। এক বছর পর যদি আমি হিস্ট্রোপ্যাথলজিক্যাল রিপোর্ট পাই, তাহলে অটোমেটিক্যালি রিপোর্ট দিতে আমার এক বছরের চেয়ে বেশি সময় লাগবে। রিপোর্ট দিতে দেরি হওয়ার সেটি একটি কারণ হতে পারে।’

‘ময়নাতদন্তের রিপোর্টের জন্য পুলিশ এসেও আমার কাছে বলেনি। অথবা পুলিশ রিপোর্ট নিতে চায়নি বিধায় এটা আমরা লিখে রেখেছিলাম। কয়েকদিন পর পুলিশ আসছে, তারপরও পুলিশের কিছুদিন দেরি হয়েছে।’ যোগ করেন ডা. সোহেল মাহমুদ।

গত বছরের নভেম্বরের শুরুর দিকে ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর ২৬ নভেম্বর রাতে চলচ্চিত্র পরিচালক মো. রফিক শিকদার বাদী হয়ে শাহবাগ থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় আসামি করা হয়েছে বিএসএমএমইউর ইউরোলজি বিভাগের অধ্যাপক ডা. মো. হাবিবুর রহমান দুলাল (৫৫), সহকারী অধ্যাপক মো. ফারুক হোসেন (৪৮), চিকিৎসক মো. মোস্তফা কামাল (৪৬) ও চিকিৎসক আল মামুনকে (৩৩)।

শীর্ষনিউজ/আরএইচ