মঙ্গলবার, ১৮-ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৭:০৩ অপরাহ্ন

ভয়ংকর কয়েকটি মানসিক রোগ

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৭ জানুয়ারী, ২০২০ ১১:০৪ পূর্বাহ্ন

সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজের সৌজন্যে: বর্তমান যুগে শারীরিক অসুস্থতার সাথে সাথে যে সমস্যাটি প্রকট হয়ে উঠছে, তা হচ্ছে মানসিক অসুস্থতা। ডঐঙ এর সমীক্ষা অনুসারে, বর্তমানে সারা বিশ্বের প্রতি ৪ জনের একজন তার জীবনের কোনো না কোনো সময়ে যেকোনো মানসিক সমস্যার শিকার হয়ে থাকেন এবং বর্তমানে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ শিশু, কিশোর ও বৃদ্ধরা বিভিন্ন ধরনের মানসিক সমস্যায় ভুগছে। যেমন- দাঁত দিয়ে সাধারণত নখ খোঁটার অভ্যাস একসময় ভয়ংকর মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে। মানসিক সমস্যার কারণ হতে পারে সাধারণ মিথ্যা বলার অভ্যাসও। আবার এমন অনেকেই  আছেন, যারা দিব্যি বেঁচে আছেন নিজেদের মৃত ভেবে! এমন কিছু অদ্ভুত মানসিক রোগ রয়েছে, যার কথা আমরা কল্পনাও করতে পারি না, যাদের বাস্তবতা হলিউডের হরর মুভিগুলোকেও হার মানায়। আর আজকের আমাদের এই আয়োজন তেমনি কিছু অদ্ভুতুড়ে মানসিক রোগ নিয়ে।  
অটোফ্যাজিয়া
অভ্যাসের বশে, অতিরিক্ত টেনশন, সিদ্ধান্তহীনতা যেকোনো কারণেই অনেকে নখ খুঁটে থাকেন। নখ খোঁটা পর্যন্ত ঠিকঠাক; কিন্তু হুট করে একদিন নখ খুঁটতে খুঁটতে কেউ যদি কোনো কারণে রাগ সংবরণ করতে না পেরে নিজের আঙুলেই কামড় বসান! আঙুলে কামড় বসিয়ে সেখান থেকে চামড়া তুলে নেওয়া পর্যন্ত তিনি ক্ষান্ত হলেন না। তারপর একদিন ঘুম থেকে উঠে মনে করলেন, তার বাম হাতটার কোনো প্রয়োজন নেই। তাই এই হাতটিকেই তিনি কামড়াতে শুরু করলেন। কামড়ে মাংস না ওঠা পর্যন্ত তিনি ক্ষান্ত হলেন না। তারপর ধীরে ধীরে পা, শরীরের বিভিন্ন অঙ্গপ্রত্যঙ্গ থেকে শুরু করে একদিন নিজেকেই খেয়ে ফেললেন! কথাগুলো শুনে কোনো হরর সিনেমার গল্প মনে হলেও, এটি আসলে একটি মানসিক রোগ। এই রোগটির নাম ‘অটোফ্যাজিয়া’। মানব-মস্তিষ্কে সুপ্ত অবস্থায় লুকিয়ে থাকা অন্যতম ভয়ংকর একটি মানসিক সমস্যা এটি। অটোফ্যাজিয়া মূলত এমন একটি সমস্যা, যা মানুষের বোধশক্তির তারতম্যের ওপর নির্ভর করে জন্ম নেয়। একজন অটোফ্যাজিয়া রোগীর স্থায়ী অনুভবশক্তি বলে কিছু অবশিষ্ট থাকে না। যতক্ষণ না ব্যক্তি নিজের মাংস খাওয়া শেষ না করে, ততক্ষণ পর্যন্ত সে মানসিক প্রশান্তি লাভ করে না। এমনকি সে তার নিজের অঙ্গচ্ছেদ করে তা রান্না করে খেতেও মানসিক প্রশান্তি লাভ করে থাকে। অটোফ্যাজিয়া যখন উচ্চতর লেভেলে পৌঁছায়, তখন মানুষ নিজেকে খেতেও দ্বিধাবোধ করে না। তাদের কাছে ব্যাপারটা এমন, তারা মনে করে তাদের বেঁচে থাকার জন্য অঙ্গপ্রত্যঙ্গের প্রয়োজন নেই। মানসিক চাপ, নিজের প্রতি ঘৃণা, নিজের কৃতকর্মের জন্য নিজেকে শান্তি দেওয়ার চিন্তা কিংবা কোনো কারণে মস্তিষ্কের টিস্যুগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে যাওয়া এর পেছনে দায়ী। যদিও আমেরিকার মানসিক সমস্যাবিষয়ক অধিদফতার সেখানে পর্যাপ্ত পরিমাণ কেস না থাকায় অটোফ্যাজিয়াকে মানসিক রোগ বলে নথিভুক্ত করেনি। এটিকে তারা অন্যান্য মানসিক রোগের লক্ষণ হিসেবেই দেখিয়ে আসছে। অটোফ্যাজিয়ার কেসগুলো প্রায় সময়ই ভয়ংকর এবং মানুষ ও চিকিৎসাবিজ্ঞানের দৃষ্টিভঙ্গির ঊর্ধ্বে থাকে। এটি বেশি দেখা যায় বৃদ্ধদের মধ্যে, যারা কি না অন্যান্য মানসিক সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে এবং পর্যাপ্ত চিকিৎসা নিচ্ছে। 
মিথোম্যানিয়া
গল্প বলতে কে না পছন্দ করেন? মানুষ গল্প পড়তে কিংবা শুনতে যতটা না পছন্দ করে, তার চেয়ে বেশি পছন্দ করে গল্প বলতে। আমাদের প্রত্যেকেরই বলার মতো নিজস্ব অনেক গল্প আছে। ফেইসবুক আসার আগে আমরা সেসব গল্প মানুষের কাছে বলে বেড়াতাম, এখন সেটা হয়তো ফেইসবুকে পোস্ট দিয়ে জানিয়ে দিই। মানুষ সেটাতে হাসি, দুঃখ, ভালোবাসার প্রতিক্রিয়া জানিয়ে আমাদের বুঝিয়ে দেন তারা আমাদের গল্প পড়েছেন। বেশি বেশি মানুষ রিয়েক্ট দিলে আমাদের গল্প বলার স্পৃহা বেড়ে যায়। আমরা নিয়মিত গল্প পোস্ট দিতে শুরু করি। এটা করেছি জীবনে, ওটা করেছি, এর সঙ্গে পরিচয় হয়েছে, ওর সঙ্গে একদিন দেখা হয়েছে, এসব বলতে বলতে একসময় আমাদের গল্প ফুরিয়ে যায়। গল্প না থাকার দরুন আমরা একসময় গল্প বলা বন্ধ করে দিতে বাধ্য হই। কিন্তু সবার ক্ষেত্রেই বিষয়টি এক ধরনের নয়। এভাবে নিজের গল্প বলতে বলতে অনেকে কবি, লেখক, সাহিত্যিক, মোটিভেশনাল স্পিকার পরিচয়ে উপনীত হন। নিজের উপস্থিতিকে আরও উজ্জ্বল করে রাখতে অনেকেই মিথ্যা বলাও শুরু করেন। রংচং মাখিয়ে একটি সাধারণ ঘটনাকে মানুষের সামনে গল্প আকারে উপস্থাপনেই তাদের সন্তুষ্টি নিহিত থাকে। এভাবেই তারা তাদের পরিচয়কে টিকিয়ে রাখতে সচেষ্ট হন। কিন্তু কেউ যদি তার আত্মজীবনী বা অভিজ্ঞতামূলক গল্পগুলোর মধ্যে থাকা অসংগতি প্রমাণসহ মিথ্যা বলে জনসম্মুখে প্রকাশ করে দেয়, তাহলে কী হতে পারে? একজন স্বাভাবিক মানুষ তার ভুল স্বীকার করে নেবেÑ এটাই স্বাভাবিক। কিন্তু একজন মিথোম্যানিয়া রোগীর জন্য এটি কোনোভাবেই মেনে নেওয়া সম্ভব নয়। সে চেষ্টা করবে, সে যা নয়, কিন্তু বলতে গিয়ে সে নিজেকে যেভাবে উপস্থাপন করেছে, সেটা সত্যি বলে প্রমাণ করতে। সে জন্য যতটা মিথ্যে ঘটনা বানিয়ে বলতে হয়, সে বলবে। যতগুলো চরিত্র সে তার সঙ্গে সম্পৃক্ত করেছে, সবগুলোকেই সে জীবন্ত দেখানোর চেষ্টা করবে। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে, মিথ্যেকে সত্য বলে প্রকাশ করতে গিয়ে তাকে যদি মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়াতে হয়, সে পিছপা হবে না। তবু সে তার মিথ্যেকে জয় করেই ছাড়তে চাইবে। শুধু নিজেকে না, সে এ জন্য অন্য কাউকে খুন করতেও দ্বিধাবোধ করবে না!
মিথোম্যানিয়া নিয়ে প্রথম আলোচনা হয় ১৮৯১ সালে এন্টন ডেলব্রোকের চিকিৎসা-সংক্রান্ত বইয়ে। এই রোগে আক্রান্ত লোকরা প্রয়োজনে কিংবা প্রয়োজন ছাড়াও মিথ্যা বলে। তারা তাদের অতীত, ইতিহাস নিয়ে মিথ্যে বলে। নিজেকে তারা সব সময় অন্যদের চেয়ে বড় দেখাতে পছন্দ করে এবং অন্যদের মূর্খ জ্ঞান করে থাকে। তারা তাদের মিথ্যে নিয়ে আত্মবিশ্বাসী থাকে। এই মিথ্যে বলার পেছনে আরও কারণ আছে। অনেক সময় দেখা যায়, অনেক লোকের সাধারণ কথা তাদের বন্ধুরা খুব একটা পাত্তা দেয় না। সে জন্য অনেকেই একটি সময় বন্ধুহীন হয়ে পড়ে। কিংবা অনেকেই কোনো সম্পর্কে স্থির হতে পারে না। সম্পর্ক ভেঙে যায় কিংবা কাউকে পছন্দ হলেও তার সঙ্গে জড়াতেই পারে না। এটি চলতে চলতে এমন পর্যায়ে উপনীত হয় যে, সে তার অস্তিত্বের শঙ্কায় পড়ে যায়। তারপর নিজের অস্তিত্বকে বাঁচানোর তাড়না থেকেই সে মিথ্যের আশ্রয় নেয়। এভাবে মানুষ তার নিজেকে অন্যদের কাছে প্রমাণ করতে গিয়েই নিজেকে মিথোম্যানিয়ার দুয়ারে ঠেলে দেয়।
কোটার্ড সিনড্রোম
মৃত্যুর পর পারিপার্শ্বিক অবস্থা জানার এক ধরনের ইচ্ছা অনেকের মনেই কাজ করে। মৃত্যুর পর কে কে কাঁদবে, কে তাকে নিয়ে কী বলবে, অবচেতন মনে অনেকে এসব ভাবনাও ভেবে থাকে। অবাক হলেও এসব ঘটনা কিন্তু সত্যি হতে পারে। তবে সে জন্য তাকে কোটার্ড সিনড্রোমে আক্রান্ত হতে হবে। কোটার্ড সিনড্রোম হচ্ছে এক ধরনের মানসিক সমস্যা, যেখানে রোগী মনে করে সে বেঁচে নেই, তার শরীরটা কেবল পড়ে আছে, তার আত্মা তাকে ছেড়ে চলে গেছে অনেক আগেই। বিষণœতা যখন কোনো মানুষের মনকে পুরোপুরি গ্রাস করে ফেলে, তখন সেই মানুষটি নিজেকে ছোট ভাবতে থাকেন, ঘৃণা করতে থাকেন, নিজেকে হেয়প্রতিপন্ন মনে করেন, নিজেকে অসহায়, পৃথিবীতে তার থাকা না থাকায় কিছুই যায় আসে নাÑ এমন ভাবনা তার মধ্যে চলে আসে। এ রকম নিজের কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেইÑ ভাবতে ভাবতে সে একসময় ভাবতে শুরু করে, তার নিজেরই কোনো অস্তিত্ব নেই! ১৮৮২ সালে কোটার্ড সিনড্রোমের মতো বিরল রোগের সর্বপ্রথম ব্যাখ্যা করেন ড. জুলিয়াস কোটার্ড। তিনি বলেন, ‘কোটার্ড সিনড্রোম হচ্ছে এমন এক মানসিক সমস্যা, যেখানে রোগী ডিল্যুশনে ভোগে নিজের শরীরের অভ্যন্তরীণ অঙ্গ, রক্ত, শরীরের অংশ কিংবা নিজের আত্মারও অস্তিত্ব খুঁজে পায় না।’
অ্যাপটেমনোফিলিয়া
অ্যাপটেমনেফিলিয়াকে অনেকসময় ‘বডি ইন্টেগ্রিটি ডিসঅর্ডার’ বা ‘অ্যামপিউটি আইডেন্টিটি ডিসঅর্ডার’ ও বলা হয়। এটি একটি ভয়ানক মানসিক সমস্যা, যার ফলে আক্রান্ত ব্যক্তিটির সর্বদা নিজের সুস্থসবল অঙ্গগুলোকে কেটে ফেলে দিতে ইচ্ছা করে। এই ভয়ানক অসুখটি সম্পর্কে এখনো তেমন বেশি কিছু জানা যায়নি। তবে বিশেষজ্ঞরা বলে থাকেন, মস্তিষ্কের ডান প্যারাইটাল লোবে কোনো আঘাত বা সংক্রমণের সাথে এই রোগটির সম্পর্ক রয়েছে। বেশিরভাগ ডাক্তারই কোনো কারণ ছাড়া শুধুমাত্র কারো ইচ্ছার ওপর ভিত্তি করে তার সুস্থ অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ কেটে ফেলে দিতে রাজি হবেন না। এসব ক্ষেত্রে দেখা যায়, রোগী নিজেই নিজের অঙ্গপ্রত্যঙ্গ কাটা শুরু করে, যা আরো ভয়ানক। এভাবে হাত-পা কেটে ফেলে দেবার পর বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই রোগীদের মাঝে এ নিয়ে কোনো অনুতাপ দেখা যায় না। বরঞ্চ এ বিষয়ে তাদের বেশ খুশিই দেখা যায়!
বোয়ানথ্রপি
এরকমই আরেকটি বিরল ও উদ্ভট মানসিক রোগ হচ্ছে বোয়ানথ্রপি। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তি নিজেকে গরু মনে করে এবং গরুর মতো আচরণ করতে থাকে! অনেক সময় তারা গরুর পালের সাথে মাঠে চলে যায় এবং তাদের সাথে চার পায়ে হাঁটতে থাকে আবার অনেককে গরুদের সাথে ঘাস চিবুতেও দেখা যায়! বোয়ানথ্রপি আক্রান্ত রোগীরা বুঝতে পারে না তারা কখন কীভাবে কিংবা কেন এই ধরনের কাজ করছে। যখন তারা স্বাভাবিক অবস্থায় থাকে, তখন তারা তাদের এই অস্বাভাবিকতার কথা মনে করতে পারে না। বর্তমানে মানসিক চিকিৎসকেরা বলে থাকেন, এই রোগটি হিপনোটিজম বা কোনো স্বপ্ন দেখার মাধ্যমে হয়ে থাকে। 
ক্লিনিক্যাল লিসেনথ্রপি
ক্লিনিক্যাল লিসেনথ্রপি আর বোয়ানথ্রপির মাঝে কিছুটা মিল থাকলেও রোগ দুটো সম্পূর্ণ আলাদা। এক্ষেত্রে রোগী মনে করে থাকে সে কোনো প্রাণীতে রূপান্তরিত হয়ে যেতে পারে যেমন, নেকড়ে, শিয়াল বা অন্য কোনো প্রাণী। আর একে সে নিজের একধরনের ক্ষমতা বলে মনে করে। এই বিশ্বাসের সাথে সাথে একসময় সে ওই প্রাণীর মতো আচরণ করতে শুরু করে। রোগ চরম পর্যায়ে চলে গেলে একটা সময় তাদের বনে জঙ্গলে পালিয়ে থাকতে দেখা যায়। 
ডিওজেনেস সিনড্রোম
ডিওজেনেস সিনড্রোম আরেকটি অদ্ভুত মানসিক রোগ। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তির মাঝে সবকিছু জমিয়ে রাখার একটি অসুস্থ প্রবণতা দেখা যায়, তারা সবকিছু জমিয়ে রাখতে চায় এবং পুরোনো কিছু ফেলতে চায় না। অনেক সময় তাদের বিভিন্ন জায়গা থেকে বিভিন্ন জিনিষ কুড়িয়ে আনতেও দেখা যায়। এই রোগটির নাম গ্রিক দার্শনিক ডিওজেনেস অফ সিনপির নাম অনুসারে রাখা হয়েছে। অধিকাংশ ক্ষেত্রে দেখা যায়, এই রোগে বয়স্ক ব্যক্তিরা বেশি আক্রান্ত হয়ে থাকেন, যারা দীর্ঘদিন ধরে একা বাস করছে। আমেরিকার একটি সমীক্ষায় দেখা ৬০ বছরের উপরে ০.০৫ শতাংশ আমেরিকান এই রোগটিতে আক্রান্ত। ডিওজেনেস সিনড্রোম দু ধরনের হয়ে থাকে। একটি হচ্ছে প্রাইমারি, যা হলো ব্যক্তিটির নিজে থেকেই এই রোগটি রয়েছে। আরেকটি হচ্ছে সেকেন্ডারি, এই ক্ষেত্রে রোগটি অন্য কোনো মানসিক রোগের উপসর্গ হিসেবে দেখা দেয়। এই রোগে আক্রান্ত ব্যাক্তিটি প্রচ- খিটখিটে স্বভাবের হয়ে পড়ে, তারা প্রচ- অস্বাস্থ্যকর ও অপরিছন্ন পরিবেশে বসবাস করে থাকে। তারা নিজেরা নিজেদের খেয়াল রাখে না এবং অন্যদের সাহায্য নিতেও পছন্দ করে না। 
ক্লুভার-বুসি সিন্ডোম
আরেকটি ভয়ানক ও অস্বাভাবিক মানসিক রোগ হচ্ছে ক্লুভার-বুসি সিনড্রোম। এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিদের মাঝে বিভিন্ন অখাদ্য খাবার জন্য প্রচ- ইচ্ছা কাজ করে এবং বিভিন্ন জড় পদার্থের প্রতি তারা যৌন আকর্ষণ অনুভব করে থাকে। যেমন এদের মধ্যে অনেকে বই-খাতা, কলম, মাটি ইত্যাদি অখাদ্য খেয়ে থাকে। আবার অনেকে গাড়ি, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ইত্যাদির সাথে যৌন সম্পর্ক স্থাপনের চেষ্টা করে থাকে। ফলস্বরূপ অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তারা নিজেদের ক্ষতি করে বসে। বলা বাহুল্য, এই রোগে আক্রান্ত ব্যক্তিরা বিভিন্ন বস্তু এবং ব্যক্তিকে সহজে সনাক্ত করতে পারে না এবং তাদের স্মৃতিশক্তি অত্যন্ত দুর্বল থাকে। স্নায়ুচিকিৎসকদের মতে, মস্তিষ্কের টেম্পোরাল লোবে কোন আঘাত বা সংক্রমণের ফলে এই রোগটি হয়ে থাকে। দুর্ভাগ্যবশত, এই রোগটির কোনো চিকিৎসা নেই, আক্রান্ত ব্যক্তির আজীবন রোগটি বয়ে বেড়াতে হয়।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ৬ জানুয়ারি ২০২০ প্রকাশিত)