shershanews24.com
দেশে ২৩ জন করোনা রোগীর বিপরীতে আক্রান্ত একজন চিকিৎসক
বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল ২০২০ ০১:২৪ অপরাহ্ন
shershanews24.com

shershanews24.com

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা: দেশে করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত প্রতি ২৩ জন  রোগীর বিপরীতে একজন করে চিকিৎসক আক্রান্ত হচ্ছেন। এই হারে চিকিৎসক আক্রান্ত অব্যাহত থাকলে স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়তে খুব বেশি সময় লাগবে না বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চিকিৎসক আক্রান্তের এই উচ্চহারের পেছনে অন্যতম কারণ হচ্ছে,  চিকিৎসকদের মানসম্মত সুরক্ষা সরঞ্জামের সংকট।  এছাড়া এর কারণ হিসেবে করোনা শনাক্তে পরীক্ষার সংখ্যা কম, রোগীদের রোগের তথ্য গোপনের প্রবণতাকেও দায়ী করেছেন তারা। 

এক পরিসংখ্যানে দেখা যায়, বাংলাদেশে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত প্রথম রোগী শনাক্ত হয়েছিল ৮ই মার্চ। ৩৯ দিন পর দেখা যাচ্ছে, মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১,২৩১ জন। এরমধ্যে চিকিৎসকই ৫৪ জন। অর্থাৎ প্রতি ২৩ জন রোগীর বিপরীতে একজন চিকিৎসক আক্রান্ত হয়েছেন।

এ বিষয়ে ফাউন্ডেশন ফর ডক্টরস’ সেফটি অ্যান্ড রাইটস এর চেয়ারম্যান ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন সংবাদমাধ্যমকে বলেন, 'অনেক ডাক্তারকেই রেইনকোট পাঠিয়ে দেয়া হচ্ছে। যেখানে লেখা আছে এন-৯৫, যেটা অনেক বেশি প্রটেক্ট করে। ভেতরে আসলে বাংলাদেশের কাপড়ে তৈরী একটা কোনরকমের একটা লোকাল প্রোডাক্ট। এই যে হরিলুট চলছে, দেশে চাল চুরির কথাও শুনছি আমরা। এদিকে, স্বাস্থ্য ক্ষেত্রে মাস্ক চোর বলে একটা কথা উঠেছে। এগুলা নিয়ে কেউ কথা বলছেনা। কিন্তু এরমধ্যে একটা আশার কথা হচ্ছে মার্চের ২৫ তারিখ থেকে আমরা দেখছি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী নিজে করোনার ব্যাপারগুলো দেখছেন।'


স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরের কর্মকাণ্ডের সমালোচনা করে এই জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ বলেন, চিকিৎসক আক্রান্তের হার কমিয়ে আনা না গেলে ভেঙে পড়তে পারে স্বাস্থ্যসেবা। ড. আবুল হাসনাৎ মিল্টন আরও জানান, 'দুইশোর বেশি ডাক্তার এই মূহুর্তে হোম কোয়ারেন্টিনে আছেন। যদি তারা হোম কোয়ারেন্টিনে যায় তাহলে হাসপাতালটা কারা চালাবে? আমরা কিন্তু একসময় চিকিৎসক সংকটেও পড়ে যেতে পারি।'

সম্ভাব্য সংকট মোকাবিলায় করোনাভাইরাস চিকিৎসার প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত বিকল্প চিকিৎসক তৈরি রাখার কথা জানিয়েছেন বাংলাদেশ মেডিক্যাল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি ডা. মোস্তফা জালাল মহিউদ্দিন। তিনি বলেন, 'আমরা নবীন চিকিৎসকদের ডেকে তাদের করোনাভাইরাসের বিষয়ে ট্রেনিং দিচ্ছি। তারা যেন কাজ করতে পারে। আইসিইউ নাই, এগুলো ঠিক করতে হবে। এখানে ডাক্তাররা কোয়ারেন্টিনে গেছেন, গ্যাপ হচ্ছে। এরমধ্যে ডাক্তার পাঠানো। এসব আমরা তড়িৎ গতিতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে পাঠাচ্ছি।'

অবশ্য যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুতি থাকার কথা বলে আসছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
শীর্ষ নিউজ/এন