বৃহস্পতিবার, ২১-নভেম্বর ২০১৯, ০৫:২৮ অপরাহ্ন
  • অপরাধ
  • »
  • তেল চুরির চেষ্টা, তদন্ত রিপোর্ট জমা হলেও বহাল তবিয়তে অভিযুক্তরা

তেল চুরির চেষ্টা, তদন্ত রিপোর্ট জমা হলেও বহাল তবিয়তে অভিযুক্তরা

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৭ নভেম্বর, ২০১৯ ০৬:৫২ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : যমুনা অয়েলের গুপ্তখাল প্রধান ডিপো থেকে প্রায় ৭৮ হাজার লিটার তেল চুরির চেষ্টার ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটির রিপোর্ট জমা দেয়ার এক মাসেরও বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। জানা গেছে, কোটি টাকার বেশি মূল্যের এই তেল চুরির চেষ্টার সাথে জড়িতদের বাঁচাতেই কর্তৃপক্ষ সময় ক্ষেপণ করছে। এদিকে মন্ত্রণালয় গঠিত আরেকটি কমিটির তদন্ত কার্যক্রমও চলছে ঢিলেঢালাভাবে।
 
এ বিষয়ে বাংলাদেশ পেট্টোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) চেয়ারম্যান মো: সামছুর রহমান বলেন, যেহেতু মন্ত্রণালয় একটি কমিটি গঠন করেছে তাই আমরা তাদের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি। দুটো রিপোর্ট পেলে একসাথে ব্যবস্থা নেয়া হবে। তিনি বলেন, বিপিসি একাই ব্যবস্থা নিতে পারে এটা ঠিক। তারপরও আমরা মন্ত্রণালয়ের রিপোর্টের জন্য অপেক্ষা করছি।
 
এদিকে যমনা অয়েলের ৭৮ হাজার লিটার তেল চুরির চেষ্টার ঘটনা তদন্তে গঠিত কমিটির আহ্বায়ক জ্বালানী ও খনিজ সম্পদ বিভাগের উপ-সচিব মো: ঈদতাজুল ইসলাম বলেন, মন্ত্রণালয়ের চলমান তদন্তের সাথে বিপিসির রিপোর্ট প্রকাশ না করার কোনো সম্পর্ক নেই। তিনি বলেন, তারা তাদের মতো করে তদন্ত করেছে। মন্ত্রণালয় পৃথকভাবে তদন্ত করছে। রিপোর্ট জমাদানে বিলম্ব হওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমি সরেজমিন তদন্তসহ এর  সংশ্লিষ্টদের সাথে কথা বলেছি। এখন শুধু তেল ট্রান্সপার করে (আইটিটি) পরীক্ষা করার অপেক্ষায় আছি। বন্দরে তেলবাহি জাহাজ আসলেই ইন্টারনাল ট্যাংক ট্রান্সফার করে আমার রিপোর্ট জমা দেব। কয়েকদিনের মধ্যেই বন্দরে তেলবাহী জাহাজ আসবে বলে তিনি জানান।
 
জানা যায়, গত ১০ আগস্ট যমুনা ডিপোর ডলফিন জেটিতে আসা মাল্টার পতাকাবাহী জাহাজ এমটি পামির থেকে গুপ্তখাল ডিপোতে খালাসের পর প্রায় ৭৮ হাজার লিটার তেল বেড়ে গেলে তোলপাড় শুরু হয়। অভিযোগ ওঠে, বেড়ে যাওয়া ফার্নেস অয়েল চোরাইভাবে বিক্রির প্রস্তুতি নিচ্ছিল একটি চক্র। এ নিয়ে বিপিসির দুই সদস্যের প্রাথমিক তদন্ত কমিটি পরিচালক (অপারেশন ও পরিকল্পনা) সৈয়দ মেহদী হাসান বরাবরে প্রতিবেদন জমা দেয়। বিপিসির প্রাথমিক তদন্ত কমিটির ২১ আগস্ট দেওয়া প্রতিবেদনে ৭৮ হাজার ৫৪৬ লিটার ফার্নেস অয়েল বেশি হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়। তাতে তেল অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার বিষয়টির সাথে কেউ কেউ জড়িত বলে উল্লেখ করা হয়। তারই অংশ হিসেবে ২২ আগস্ট যমুনার প্রধান ডিপোর টার্মিনাল ম্যানেজার ডিজিএম (অপারেশন) জসিম উদ্দিন এবং ডেপুটি ম্যানেজার (বাল্ক) এ এইচ এম মনজুর কাদেরকে প্রত্যাহার করার নির্দেশনা দেওয়া হয়। 

একইসাথে তেল অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি অধিকতর তদন্ত ও পর্যালোচনার জন্য বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. আবু হানিফকে আহ্বায়ক করে পদ্মা অয়েল কোম্পানি লিমিটেডের মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন অ্যান্ড প্ল্যানিং) মো. আবু সালেহ ইকবাল, ইস্টার্ন রিফাইনারির মহাব্যবস্থাপক (ডেপেলভমেন্ট অ্যান্ড কন্ট্রোল) মো. আনোয়ার সাদাত এবং মেঘনা পেট্রোলিয়াম লিমিটেডের উপ-মহাব্যবস্থাপক (অপারেশন) শেখ আবদুল মতলেবকে সদস্য করে আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করে বিপিসি। 

সূত্র মতে, বিপিসির গঠিত এই কমিটির সদস্যরা যমুনা অয়েলের প্রধান ডিপো পরিদর্শন করার পাশাপাশি তদন্ত কমিটি ডিপোতে আসা লাইবেরিয়ার পতাকাবাহী জাহাজ এমটি এনএস প্যারেড থেকে খালাস নেওয়া তেল আইটিটির মাধ্যমে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করে। তারা সমপরিমাণ তেল নিয়ে আসা এমটি এনএস প্যারেড থেকে খালাস নেওয়ার পর আইটিটি করে মাত্র ২৮০ লিটারের মতো বেশি (গেইন) পায়। প্রায় এক মাস তদন্ত শেষে সেপ্টেম্বরের ২৩ তারিখ বিপিসির তদন্ত কমিটি রিপোর্ট জমা দেয়। যদিও সাত দিনের মধ্যে এই কমিটির তদন্ত রিপোর্ট দেয়ার কথা ছিল। 

জানা গেছে, জমাকৃত তদন্ত রিপোর্টে যমুনার প্রধান ডিপোর টার্মিনাল ম্যানেজার ডিজিএম (অপারেশন) জসিম উদ্দিন এবং ডেপুটি ম্যানেজার (বাল্ক) এ এইচ এম মনজুর কাদেরের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে। 

রিপোর্ট জমাদানের বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান বিপিসির ঊর্ধ্বতন মহাব্যবস্থাপক (বাণিজ্য ও অপারেশন) মো. আবু হানিফ বলেন, আমরা দীর্ঘ সময় ধরে সরেজমিনে তেল চুরির চেষ্টার বিষয়টি তদন্ত করে রিপোর্ট জমা দিয়েছি। আমরা রিপোর্টে সার্বিক বিষয়গুলো তুলে ধরেছি। তিনি বলেন, এতদিনেও কেন রিপোর্ট প্রকাশ করা হচ্ছে না সেটি বিপিসি ভালো জানেন। আমাদের কাজ যা ছিল তা আমরা করেছি। রিপোর্টে জড়িতদের বিরুদ্ধে কি ধরণের ব্যবস্থা নেয়ার সুপারিশ করা হয়েছে, গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে তা জানতে চাওয়া হলে তিনি বলেন, অনেক আগে রিপোর্ট জমা দিয়েছি, কি কি সুপারিশ করা হয়েছে সেটি মনে নেই।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই