বৃহস্পতিবার, ০২-এপ্রিল ২০২০, ০৯:১৬ অপরাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  • পিকে হালদারসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দই থাকছে

পিকে হালদারসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব জব্দই থাকছে

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৬ ফেব্রুয়ারী, ২০২০ ০৯:০৯ অপরাহ্ন

শীর্ষনিউজ,ঢাকা: ইন্টারন্যাশনাল লিজিং অ্যান্ড ফাইন্যান্স সার্ভিস লিমিটেডের (আইএলএফএসএল) অর্থপাচারের ঘটনায় প্রশান্ত কুমার হালদারসহ ২০ জনের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের হাইকোর্টের আদেশ বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ।
প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ বুধবার আইএলএফএসএল’র আবেদন খারিজ করে আদেশ দেন। প্রশান্ত কুমার হালদার (পিকে হালদার) এনআরবি গ্লোবাল ব্যাংক ও রিলায়েন্স ফাইন্যান্স লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি)।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম। বাংলাদেশ ব্যাংকের পক্ষে ছিলেন ব্যারিস্টার তানজিব উল আলম। আইএলএফএসএল’র পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী আহসানুল করিম।
হাইকোর্ট পিকে হালদার ছাড়াও যাদের ব্যাংক হিসাব ও পাসপোর্ট জব্দের নির্দেশ দিয়েছেন, তারা হলেন- কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক এম নুরুল আলম, পরিচালক জহিরুল আলম, নাসিম আনোয়ার, বাসুদেব ব্যানার্জি, পাপিয়া ব্যানার্জি, মোমতাজ বেগম, নওশেরুল ইসলাম, আনোয়ারুল কবির, প্রকৌশলী নরুজ্জামান, আবুল হাশেম, রাশেদুল হক, পিকে হালদারের মা লীলাবতী হালদার, স্ত্রী সুস্মিতা সাহা, ভাই প্রিতুষ কুমার হালদার, চাচাতো ভাই অমিতাভ অধিকারী, অভিজিৎ অধিকারী, ব্যাংক এশিয়ার সাবেক পরিচালক ইরফান উদ্দিন আহমেদ, পিকে হালদারের বন্ধু উজ্জ্বল কুমার নন্দী। পিকে হালদার বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের দায়িত্বে থেকে অন্তত সাড়ে তিন হাজার কোটি টাকা লোপাট করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
পরে আইনজীবী আহসানুল করিম বলেন, কোম্পানিটির পরিচালকদের ব্যাংক হিসাব-পাসপোর্ট জব্দ, খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে নিয়োগসহ হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশকে চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগে আবেদন করা হয়েছে। সেটার শুনানি হয়েছে এবং আপিল বিভাগ এটা ডিসমিসড করেছেন। এরপর দাঁড়াল যে, হাইকোর্টের অন্তর্বর্তীকালীন আদেশ বহাল রয়েছে।
ব্যারিস্টার তানজীব উল আলম বলেন, ইন্টারন্যাশনাল লিজিং যে আপিল করেছে সেটা আপিল বিভাগ খারিজ করে দিয়েছেন। ফলে হাইকোর্টের আদেশ বলবৎ রয়েছে। আদেশ মতো খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ দুটো বোর্ড মিটিং করেছেন। বাংলাদেশ ব্যাংকও অনুমতি দিয়েছে। এখন খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর নির্ভর করবে বাংলাদেশ ব্যাংক কী করবে। বাংলাদেশ ব্যাংক বলছে, প্রতিষ্ঠানটি দেউলিয়া হোক সেটা তারা চান না।
পিকে হালদার যে টাকা বিদেশে পাচার করেছে, সেটা আনা সম্ভব কিনা- এমন প্রশ্নে তানজীব উল আলম বলেন, সেটা আনার দায়িত্ব বাংলাদেশ ব্যাংকেরও না, ইন্টারন্যাশনাল লিজিংয়েরও না। এ বিষয়ে আইনগত পদক্ষেপ নেয়ার দায়িত্ব সরকারের। দুদক আছে। অর্থপাচার আইনের বিষয়ে কয়েকটা প্রতিষ্ঠান আছে। ওইসব প্রতিষ্ঠান তার বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেবে।
তিনি বলেন, যে দেশে টাকা পাচার হয়েছে, সে দেশের সঙ্গে মিউচুয়াল কো-অপারেশন চুক্তি আছে কিনা, সেটা দেখতে হবে। পত্রিকায় দেখেছি সে সম্ভবত টাকাটা কানাডায় নিয়ে গেছে। কানাডার সঙ্গে বাংলাদেশ সরকারের চুক্তি আছে। এ চুক্তির অধীনে সরকার যদি কানাডাকে জানায়, সে কানাডায় পাচার করা টাকা নিয়ে অবস্থান করছে, তাহলে কানাডা সরকার সহযোগিতা করবে বলে আমার বিশ্বাস।
এর আগেও পাচার করা টাকা ফেরত আনার উদাহরণ আছে উল্লেখ করে তানজীব উল আলম বলেন, সিঙ্গাপুর থেকে আরাফাত রহমান কোকোর পাচার করা টাকা এসেছে। একই পদ্ধতিতে কানাডা থেকেও আনা যাবে, যেহেতু চুক্তি আছে। এজন্য অ্যাটর্নি জেনারেলকে বিরাট ভূমিকা পালন করতে হবে। কানাডার সঙ্গে বন্দি প্রত্যার্পণ চুক্তিও আছে। যদি পিকে হালদারসহ তার সহযোগীদের বিরুদ্ধে প্রচলিত আইনে শাস্তির ব্যবস্থা হয়, তখন প্রত্যার্পণ চুক্তির অধীনে তাদেরকে বাংলাদেশে নিয়ে আসা যাবে।
এর আগে ৭ বিনিয়োগকারীর করা আবেদনের শুনানি নিয়ে বিচারপতি মুহাম্মদ খুরশীদ আলম সরকারের হাইকোর্ট বেঞ্চ ১৯ জানুয়ারি আদেশ দেন। আদেশে একই সঙ্গে পুঁজিবাজারে তালিকাভুক্ত আর্থিক খাতের কোম্পানি আইএলএফএসএল পরিচালনার জন্য স্বাধীন পরিচালক ও চেয়ারম্যান হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক ডেপুটি গভর্নর খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদকে নিয়োগ দেয়া হয়। এরপর আইএলএফএসএল হাইকোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে আপিল বিভাগে আবেদন করে।
গত ১৬ ফেব্রুয়ারি আইএলএফএসএল’র আর্থিক অবস্থার বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে কোম্পানিটির স্বাধীন চেয়ারম্যান (হাইকোর্টের নির্দেশে নিয়োগপ্রাপ্ত) খোন্দকার ইব্রাহিম খালেদ এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের নির্বাহী পরিচালকের নিচে নয়- এমন একজন কর্মকর্তাকে ডেকেছিলেন আপিল বিভাগ। সে অনুযায়ী তারা দুজন মঙ্গলবার আপিল বিভাগে উপস্থিত হয়ে মতামত দেন। এরপর আদালত আদেশের জন্য বুধবার দিন রাখেন। আদেশে এদিন আইএলএফএসএল’র আবেদন খারিজ করে দেন।
শীর্ষনিউজ/এমকে