মঙ্গলবার, ০২-জুন ২০২০, ০৯:০৪ অপরাহ্ন
  • অফিস-আদালত
  • »
  • ত্রাণ আত্মসাৎ: সিরাজগঞ্জের সেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লিগ্যাল নোটিশ

ত্রাণ আত্মসাৎ: সিরাজগঞ্জের সেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে লিগ্যাল নোটিশ

shershanews24.com

প্রকাশ : ০৫ মে, ২০২০ ০৫:০৯ অপরাহ্ন

শীর্ষ নিউজ, ঢাকা: সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার কৈজুরী ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলামের বিরুদ্ধে ত্রাণের চাল আত্মসাতের অভিযোগে দ্রুত মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিতে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। স্বরাষ্ট্র, স্থানীয় সরকার এবং ত্রাণ ও দুর্যোগ মন্ত্রণালয়ের সচিব, পুলিশের মহাপরিদর্শক ও শাহজাদপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের সরকারি ইমেইলে এ নোটিশ পাঠানো হয়েছে। কৈজুরী ইউনিয়নের ২৬ জন নাগরিকের পক্ষে সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান আজ মঙ্গলবার এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।

অ্যাডভোকেট ইশরাত হাসান বলেন, চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা ও শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিট আবেদন করা হবে। 

নোটিশে বলা হয়েছে, সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুর উপজেলার যমুনা নদীর ভাঙনের শিকার কৈজুরী ইউনিয়নের অধিকাংশ মানুষ দরিদ্র ও ভূমিহীন। কিন্তু করোনাভাইরাসের সংক্রমণ থেকে বাঁচাতে একমাস ধরে ওই ইউনিয়নে লকডাউন চলমান। ফলে ওই ইউনিয়নের খেটে খাওয়া মানুষগুলো কর্মহীন হয়ে পড়েছে। কর্মহীন ও অসহায় এসব মানুষদের জন্য প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ত্রাণের চাল চেয়ারম্যান মো. সাইফুল ইসলাম আত্মসাত করেছেন বলে এলাকাবাসীর অভিযোগ। এ ঘটনায় ত্রাণ বঞ্চিত হাজার হাজার অসহায় মানুষ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছে। ত্রাণ বিতরণে অনিয়ম ও সাধারণ জনগণের বিক্ষোভের খবর পেয়ে গত ১৫ এপ্রিল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. শামসুজ্জোহা ঘটনাস্থলে যান।

এ সময় সাধারণ জনগণ ত্রাণের চাল আত্মসাৎ ও বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগ তুলে ধরে। কৈজুরী ইউনিয়নে ত্রাণ সংক্রান্ত অনিয়মের ঘটনা ওই দিন থেকে দেশের জাতীয় বিভিন্ন ইলেকট্রনিক, প্রিন্ট ও অনলাইন মিডিয়ায় ব্যাপকভাবে প্রচার হয়। ত্রাণ আত্মসাতের চলমান অভিযোগের মধ্যেই  চেয়ারম্যানের নিজস্ব লোক বলে পরিচিত ও ১০ টাকার চালের ডিলার আলাউদ্দিনের কাছ থেকে ত্রাণের ২০ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় ডিলার আলাউদ্দিনকে আটক করা হয়েছে। আর শুধুমাত্র আলাউদ্দিনের বিরদ্ধে মামলা করা হয়েছে। পরবর্তীতে গত ২৭ এপ্রিল আরো ১২০ বস্তা চাল জব্দ করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা। উল্লেখিত ঘটনা সমূহ বিভিন্ন প্রিন্ট এবং ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায় প্রচার করা হয়। এরপরও দুর্নীতিবাজ ত্রাণ আত্মসাৎকারী চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে প্রশাসন কোনো ব্যবস্থা নেয়নি। বরং ওই চেয়ারম্যানকেই প্রধান করে ত্রাণ বিতরণের জন্য কমিটি গঠন করা  হয়েছে।

নোটিশে বলা হয়, চেয়ারম্যান সাইফুল ইসলাম প্রভাবশালী হওয়ায় তার বিরুদ্ধে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া জনগণের বাড়ি ভাঙচুরসহ হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনের কাছে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অভিযোগ করেও কোনো প্রতিকার পাওয়া যায়নি। এমনকি চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার দায়ের করতে গেলেও অজ্ঞাত কারণে উক্ত এজাহার রেকর্ড করা হয়নি।

এজাহার মামলা হিসেবে রেকর্ড না করে নাগরিকদের আইনের আশ্রয় লাভের অধিকার থেকে বঞ্চিত করা হয়েছে। এ ছাড়া গত ২৯ এপ্রিল চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে সিরাজগঞ্জের জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপার বরাবর এবং ৩ মে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ে আবেদন করা হয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। এ কারণে ওই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে রিট আবদেন করা হবে।  
শীর্ষ নিউজ/এন