শনিবার, ২২-ফেব্রুয়ারী ২০২০, ০৭:৩৯ পূর্বাহ্ন
  • রাজনীতি
  • »
  • ভোটের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শরীক হওয়ার আহ্বান তাবিথের
মোহাম্মদপুরে গণসংযোগে জনতার ঢল

ভোটের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে শরীক হওয়ার আহ্বান তাবিথের

shershanews24.com

প্রকাশ : ১৭ জানুয়ারী, ২০২০ ০৭:৩৭ অপরাহ্ন

 

শীর্ষনিউজ, ঢাকা : ভোটের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে ঢাকাবাসীকে শরীক হওয়ার আহবান জানিয়েছেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন নির্বাচনে বিএনপির মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়াল। তিনি বলেছেন, ‘আমরা জনগণের অধিকার আদায়ের লড়াইয়ে নেমেছি। যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও সাধারণ মানুষ ছুটে আসছেন, আমাদেরকে আশ্বস্ত করছেন, সাহস দিচ্ছেন। এভাবেই ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সবাইকে মাঠে থাকতে হবে। অধিকার আদায়ের এই লড়াইয়ে সবাইকে শরীক হতে হবে। কোনোভাবেই মাঠ থেকে সরে যাব না।’

আজ শুক্রবার নির্বাচনী গণসংযোগকালে তিনি এসব কথা বলেন। সকাল ১০টায় মোহাম্মপুর বাসস্ট্যান্ড থেকে ৮ম দিনের মতো বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী সাথে নিয়ে গণসংযোগ শুরু করেন ধানের শীষের প্রার্থী। অন্যদিনের মতো আজও দিনভর তাবিথ আউয়ালের প্রচার-প্রচারণায় সাধারণ মানুষের উপস্থিতি ছিল লক্ষ করার মতো। গণসংযোগকালে তাবিথ আউয়াল নিজেই লিফলেট হাতে তুলে দিয়ে সব বয়সী মানুষের কাছে ভোট প্রার্থনা করেন। বয়স্কদের তিনি বুকে জড়িয়ে ধরেন। তাদের ভোট ও দোয়া চান। বয়ষ্ক অনেককে দেখা গেছে, তাবিথের মাথায় হাত বুলিয়ে দিতে। তাবিথ আউয়াল ভোটারদের কাছে এলাকার নানা সমস্যা ও অভিযোগ শুনেন। নির্বাচিত হলে সব সমস্যা সমাধান করা হবে বলে তাদের আশ্বস্ত করেন। 

সকাল ১১টায় মোহাম্মদপুর রাজিয়া সুলতানা রোডে গণসংযোগকালে নির্বাচিত হলে সর্বোচ্চ নাগরিক সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তাবিথ আউয়াল বলেন, ‘ঢাকা শহর বসবাসের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। রাস্তা ঘাট, ড্রেনেজ, স্যুয়ারেজসহ নাগরিক সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছে নগরবাসী। নির্বাচিত হলে আমরা সকল নাগরিক সুবিধা নিশ্চিত করে আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি।’

তাবিথ আউয়াল বলেন, আধুনিক ঢাকা গড়ার প্রত্যয় নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নেমেছি। ঢাকাবাসী আমাকে তাদের আপনজন হিসেবে গ্রহণ করেছেন। নির্বাচিত হলে আমি হব তাদের সুখ দু:খের নিত্যসঙ্গী। 
তিনি বলেন, জনগণ ভোট দেয়ার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। নির্বাচন সুষ্ঠু হলে ধানের শীষের বিজয় কেউ আটকাতে পারবে না। 

নির্বাচন কমিশন (ইসি) ইচ্ছাকৃতভাবে ৩০ জানুয়ারি পূজার দিন ভোটের তারিখ নির্ধারণ করে বিতর্ক সৃষ্টি  করেছে বলে সাংবাদিকদের বলেন তাবিথ আউয়াল।  

শ্যামলী শাহী মসজিদে জুমার নামাজ শেষ করে খিলজি রোড হয়ে বাবর রোড এলাকায় গণসংযোগ করেন তাবিথ আউয়াল।

এসময় তিনি বলেন, আমরা জনগণের অধিকার আদায়ের লাড়াইয়ে নেমেছি। এই লড়াইয়ে শরীক হওয়ার জন্য জনগণকেও ধন্যবাদ জানান তিনি। তাবিথ বলেন, যথেষ্ট সাড়া পাচ্ছি। অনেক প্রতিকূলতার মধ্যেও সাধারণ মানুষ ছুটে আসছেন, আমাদেরকে আশ্বস্ত করছেন সাহস দিচ্ছেন। এভাবেই ৩০ জানুয়ারি পর্যন্ত সবাইকে মাঠে থাকার আহবান জানান তিনি।  

বাবর রোডে প্রচারকালে তাবিথ আউয়াল আরো বলেন, এ এলাকায় এখনো বিদ্যুৎ একটি বড় সমস্যা। সুপেয় পানির সংকট রয়েছে। বৃষ্টি হলে পানি জমে থাকে। পানি নিঃস্কাশনের ভালো কোনো ব্যবস্থা নেই। আধুনিক ঢাকার কোনো ছোঁয়া এখনও নেই। 

তিনি বলেন, জেনেভা ক্যাম্প ঢাকা সিটি করপোরেশনেরই একটি অংশ। কাজেই এখানকার বাসিন্দাদের আধুনিক ঢাকার সুযোগ-সুবিধার বাইরে রাখার কোনো সুযোগ নেই। জেনেভা ক্যাম্পের অনেক ভোটার এসময় উর্দু ভাষায় স্লোগান দেন।
 
এলাকাবাসীদের উদ্দেশ্যে তাবিথ আউয়াল বলেন- আগামী ৩০ জানুয়ারি আপনারা ভোট কেন্দ্রে যাবেন, ব্যালটের মাধ্যমে আপনারা এই দুর্ভোগ দূর করতে রায় দিবেন। ধানের শীষে ভোট দিয়ে এলাকার উন্নয়নের পথ উন্মোচন করবেন। 

তিনি বলেন, আপনাদের ভোটেই ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের উন্নয়নের পথ সৃষ্টি হবে। দেশনেত্রী ও বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ সুগম হবে। 

তাবিথের সাথে গণসংযোগ অংশ নেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা আতাউর রহমান ঢালী, প্রচার সম্পাদক শহীদ উদ্দীন চৌধুরী এ্যানী, যুবদলের সভাপতি সাইফুল আলম নীরব, উত্তরের সভাপতি এস এম জাহাঙ্গীর হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা। জুমার নামাজের পর তাবিথ আউয়ালকে সাথে নিয়ে ধানের শীষ প্রতীকের লিফলেট বিতরণ করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাদা দলের যুগ্ম আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মোর্শেদ হাসান খান, অধ্যাপক ডাঃ ফরহাদ হালিম ডোনার, ঢাবির অধ্যাপক ড. এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, অধ্যাপক লুৎফর রহমান, ইসরাফিল প্রামাণিক রতন, অধ্যাপক শামীম, অধ্যাপক মনোয়ার, ড্যাবের যুগ্ম সম্পাদক ডাঃ শাহ মুহাম্মদ আমান উল্লাহ, ড.  তৌফিকুল ইসলাম, ডাঃ এরফান আহমেদ সোহেল প্রমুখ। 
তাবিথ আউয়াল মোহাম্মমদপুরের বাবর রোড হয়ে হুমায়ূন রোড, ঢাকা রেসিডেন্সিয়াল মডেল কলেজ, শাহজাহান রোড, সৈয়দ রোড, টাউন হল, জাকির হোসেন রোডে গণসংযোগ করেন। ২৯ নম্বর ওয়ার্ডের তাজমহল রোড, ক্যাম্প বাজার, কাদেরিয়া মাদ্রাসা, কৃষি মার্কেট, মোহাম্মদপুর কেন্দ্রীয় কলেজ এলাকায় সাধারণ মানুষের কাছে ভোট চান তাবিথ। ৩৩ নম্বর ওয়ার্ডের মোহম্মাদীয়া হাউজিং ও নবোদয় এলাকায় এবং ৩০ নম্বর ওয়ার্ডের শেখের টেক, বায়তুল আমান হাউজিং ও আদাবর এলাকায় ব্যাপক গণসংযোগ করেন তিনি। সবশেষে ৩২ নম্বর রোডের বিভিন্ন জায়গায় লিফলেট বিতরণ করে ভোট চান তাবিথ আউয়াল।    
গণসংযোগে গয়েশ্বর-মিন্টু: আজ শুক্রবার বাদ জুমা ডিএনসিসির ৪৩ নং ওয়ার্ডের ডুমনিতে মেয়র প্রার্থী তাবিথ আউয়ালের পক্ষে ভোট চেয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও উত্তর সিটি নির্বাচনের প্রধান সমন্বয়ক গয়েশ্বর চন্দ্র রায়। এসময় তার সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা বরকত উল্লাহ বুলু, মো. শাজাহান, আবদুল আউয়াল মিন্টু, উত্তর বিএনপির নেতা বজলুল বাসিত আঞ্জু, আহসান উল্লাহ হাসান, আমিরুল ইসলাম খান আলীম এবং স্থানীয় কাউন্সিলর প্রার্থী আক্তার হোসেনসহ স্থানীয় বিএনপি  নেতাকর্মীরা।
এরপর উত্তরা মাসকট প্লাজা, খিলক্ষেত ও পল্লবীসহ কয়েকটি এলাকায় গণসংযোগ করেন। এ সময় হাজার হাজার নেতা-কর্মী-সমর্থক ও সাধারণ জনগণ বেষ্টত প্রচার মিছিল নিয়ে লিফলেট বিতরণ করে ধানের শীষের পক্ষে ভোট চান। 
গণসংযোগকালে গয়েশ্বর চন্দ্র রায় বলেন, ধানের শীষের পক্ষে জনগণের রাস্তায় নেমেছে। তাই আমাদের প্রচারে বাধা দেওয়া হচ্ছে, মাইকিং করতে দেওয়া হচ্ছে না, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলছে। কাউন্সিলরদের হুমকি দেওয়া হচ্ছে। হামলা-মামলা আওয়মাী লীগের অতীত চরিত্র। কিন্তু এভাবে হামলা চালিয়ে দমিয়ে রাখা যাবে না। মানুষের যে ঢল নেমেছে তাতে ধানের শীষের বিজয় সুনিশ্চিত।     

হামলা: 
১০ নম্বর ওয়ার্ডে বিএনপি সমর্থিত কাউন্সিলর প্রার্থী মাসুদ খানের প্রচারে প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের কাউন্সিলর প্রার্থী আবু তাহেরের লোকজন হামলা করেছে। শুক্রবার দুপুর ১টার দিকে বেলতলা বস্তিতে এ হামলার ঘটনা ঘটে। 
মাসুদ খান জানান, হামলায়  মিনু, রহিমা, শওকতসহ কয়েকজন আহত হন। এতে শওকত গুরুতর আহত হয়। তাদের কাছ থেকে প্রচারপত্র, মোবাইল, স্টিকার ছিনিয়ে নেয় প্রতিপক্ষ কাউন্সিলর প্রার্থীর সমর্থকরা।

তাবিথ আউয়ালের মিডিয়া কো-অর্ডিনেটর মাহমুদ হাসান কর্তৃক পাঠানো এক বার্তায় আজ এসব তথ্য জানানো হয়। 
শীর্ষনিউজ/এসএসআই