শনিবার, ১২-জুন ২০২১, ০৬:১২ অপরাহ্ন

নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি রুখতে জরুরি পদক্ষেপ নিন 

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৯ মার্চ, ২০২১ ০৯:১৮ পূর্বাহ্ন

মিতালী পারভীন: নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দামের ঊর্ধ্বগতিতে জনসাধারণ এক দিশাহারা অবস্থায় রয়েছে। বিগত কয়েক মাস ধরে জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দামবৃদ্ধি নিয়ে পত্র-পত্রিকায় প্রতিদিন প্রতিবেদন প্রকাশিত হচ্ছে। এসব প্রতিবেদন থেকে বলা হচ্ছে, নিত্যপণ্যের অসহনীয় দামবৃদ্ধিতে সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস উঠেছে। পণ্যমূল্য তাদের হাতের নাগালের বাইরে। অসাধু ব্যবসায়ী, সিন্ডিকেটের কাছে নিত্যপণ্যের বাজার জিম্মি হয়ে রয়েছে। তাদের ইচ্ছামতো দামবৃদ্ধি করে চলেছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর কোনো উদ্যোগ না থাকায় সিন্ডিকেট বেপরোয়া হয়ে উঠেছে। মনে হচ্ছে, ব্যবসায়ী সিন্ডিকেটের কাছে যেন সরকারও অসহায় হয়ে পড়েছে। এমন কোনো পণ্য নেই যার দামবৃদ্ধি হয়নি। আজ একরকম দাম তো কাল দেখা যাচ্ছে আরেকরকম। এনিয়ে খুচরা ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের মধ্যে বাদানুবাদও ঘটতে দেখা যায়। নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যমূল্যের লাগামহীন বৃদ্ধিতে দরিদ্র, নিম্ন মধ্যবিত্ত, মধ্যবিত্ত সবাই অতিষ্ঠ-অসহায় হয়ে পড়েছে। অনেকের এমনিতেই দিন আনতে পান্তা ফুরায় অবস্থা। তারমধ্যে এখন লাগাতার মূল্য বৃদ্ধি তাদের জন্য মরণজ্বালা সৃষ্টি করেছে। দুঃখের বিষয়, ব্যবসায়ীদের এমন অনৈতিক-মুনাফালোভী চরিত্র বিশ্বের আর কোনো দেশে আছে কিনা, তা আমাদের জানা নেই।
আমাদের দেশে জিনিসপত্রের দামবৃদ্ধির বিষয়টি নতুন নয়। এ দামবৃদ্ধির যেমন কোনো নিয়ম-নীতি নেই, তেমনি জবাবদিহির ব্যবস্থাও নেই। স্বাভাবিক সময়ে তো বটেই বিশেষ কোনো উপলক্ষ এলেই জিনিসপত্রের দামবৃদ্ধির বিষয়ে ব্যবসায়ীদের পোয়াবারো হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে রমজান ও দুই ঈদ সামনে রেখে অসাধু ব্যবসায়ী-সিন্ডিকেট জিনিসপত্রের দাম বাড়ানোর জন্য ওঁৎ পেতে থাকে। সাম্প্রতিক সময়ে এ নিয়ে অনেক লেখালেখি হয়েছে।কিন্তু অসাধু ব্যবসায়ীরা কৌশল বদলে রমজানের আগেই দাম বাড়িয়ে দিচ্ছে যাতে বলা যায় রমজানে দাম বাড়েনি। অন্যান্যবারেও রমজানের আগ মুহূর্তে দাম বৃদ্ধি হয়। তবে এবারের পরিস্থিতি একেবারেই অস্বাভাবিক। কোনো কিছুর উপরই যেন সরকারের কোনো নিয়ন্ত্রণ নেই। ফলে বাজারে গিয়ে সাধারণ মানুষ কোনো কূল-কিনারা করে উঠতে পারছেন না। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে বলা হয়েছে, রমজানে টিসিবি দ্বিগুণ পণ্য নিয়ে বাজারে নামবে। এর কোনো আলামত দৃষ্টিগোচর হচ্ছে না এখন পর্যন্ত। টিসিবির পণ্য বিক্রির ধরণ কেমন তা নিয়েও সাধারণ মানুষের মধ্যে বিরূপ ধারণা রয়েছে। সাধারণ মানুষের অভিযোগ, সরকার রমজানের আগে ব্যবসায়ীদের জিনিসপত্রের দাম বাড়িয়ে অধিক ব্যবসা করার সুযোগ করে দিয়েছে।
বিশ্বের অনেক দেশে বিভিন্ন ধর্মীয় উৎসব উপলক্ষে জিনিসপত্রের দাম কমিয়ে ভোক্তাদের স্বস্তি ও আনন্দ দেয়া হয়। সেখানে আমাদের দেশে ঘটে ঠিক এর উল্টোটা। আমরা দেখছি, সরকার ব্যবসায়ীদের দামবৃদ্ধিকে পরোক্ষভাবে সমর্থন করে কিছু পণ্যের দাম নির্দিষ্ট করে দিচ্ছে। ব্যবসায়ীরা নির্ধারিত এ দামেরও তোয়াক্কা করছে না। বলা হয়ে থাকে, যে ব্যবসায়ী সিন্ডিকেট জিনিসপত্রের দাম বৃদ্ধি করে থাকে তাদের সাথে সরকার সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও প্রভাবশালীরা যুক্ত থাকে। ফলে সরকার সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে পারে না। কিন্তু সরকারকে সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক দাম বৃদ্ধিতে জনজীবনে যে টানাপড়েন সৃষ্টি হয়েছে তা অবসানে সরকারকে এখনই জরুরিভিত্তিতে কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
(সাপ্তাহিক শীর্ষকাগজে ২৯ মার্চ ২০২১ প্রকাশিত)