মঙ্গলবার, ০৯-মার্চ ২০২১, ০৪:০১ অপরাহ্ন
  • জাতীয়
  • »
  • চসিকে ভোট আজ: আস্থার সঙ্কটে ভোটাররা, ৭৩৫ কেন্দ্রের ৪২৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ

চসিকে ভোট আজ: আস্থার সঙ্কটে ভোটাররা, ৭৩৫ কেন্দ্রের ৪২৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ

shershanews24.com

প্রকাশ : ২৭ জানুয়ারী, ২০২১ ১২:০৯ পূর্বাহ্ন

শীর্ষনিউজ, চট্টগ্রাম : চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন (চসিক) নির্বাচনের ভোটগ্রহণ বুধবার। প্রধান দুই দলের মেয়রপ্রার্থী বিএনপির ডা: শাহাদাত হোসেন এবং আওয়ামী লীগের এম রেজাউল করিম চৌধুরী উভয়েই নিজেদের জয়ের ব্যাপারে জোর আশাবাদী। তবে ভোট শান্তিপূর্ণ হওয়া নিয়ে ভোটারদের মাঝে রয়েছে আস্থার তীব্র অভাব। ভোটের ব্যাপারে মানুষের উচ্ছ্বাস থাকলেও নানা শঙ্কায় তা ক্ষুণ্ন হচ্ছে। নির্বাচনের পরিবেশ নিয়ে শঙ্কা বাড়িয়ে তুলেছে বিভিন্নস্থানে বিএনপি নেতাকর্মীদের গ্রেফতার অভিযান এবং অধিকাংশ কাউন্সিলর পদে আওয়ামী লীগের একাধিক বিদ্রোহী প্রার্থী। তা ছাড়া ৭৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে অধিকাংশ অর্থাৎ ৪২৯টিই ঝুঁকিপূর্ণ (ইসির ভাষায় অধিক গুরুত্বপূর্ণ) হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। তবে রিটার্নিং কর্মকর্তা জানিয়েছেন,‘সিটি করপোরেশন নির্বাচন ঘিরে পুরো নির্বাচনী এলাকা নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে ফেলা হয়েছে। ভোটারদের আশ্বস্ত করতে চাই, ভোটকেন্দ্রে এসে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারবেন’।

চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে ভোটার প্রায় সাড়ে ১৯ লাখ। তবে একজন প্রার্থী মারা যাওয়ায় নগরীর ৩১ নম্বর আলকরণ ওয়ার্ডে সাধারণ কাউন্সিলর পদে আজ ভোট হচ্ছে না। তবে এই ওয়ার্ডে মেয়র ও সংরক্ষিত মহিলা কাউন্সিলর পদে ভোট নেয়া হবে। জনমনে নানা শঙ্কা থাকলেও প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দিয়ে সকাল ৮টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত শান্তিপূর্ণ পরিবেশেই ভোটগ্রহণ হবে বলে আশ্বস্ত করা হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, নির্বাচনে মেয়র পদে মূল লড়াইটা হবে আওয়ামী লীগের নৌকা এবং বিএনপির ধানের শীষ প্রতীকে। মেয়রপ্রার্থীদের পাশাপাশি কাউন্সিলর প্রার্থীরাও ভোটারদের কেন্দ্রে আনতে মরিয়া। করোনার কারণে প্রায় ১০ মাস পিছিয়ে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে ইতোমধ্যে শাসকদলের ঘরোয়া সঙ্ঘাতে নিহত হয়েছে দুইজন। কাউন্সিলর প্রার্থীদের নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর, প্রচারণায় হামলাসহ বেশ কিছু ঘটনা ঘটেছে। বিএনপির পক্ষ থেকে গণমামলা ও গণগ্রেফতারের অভিযোগ আনা হয়েছে। পাশাপাশি ভোটের ফলাফল পাল্টানোর ষড়যন্ত্র হচ্ছে বলে বিএনপি বলেছে। এসবের মাঝে প্রশাসনের পক্ষ থেকেও ভোটারদের কেন্দ্রে আসতে নগরজুড়ে নিরাপত্তা বলয় তৈরির কথা বলা হচ্ছে। তবে নিকট অতীতের বেশ ক’টি নির্বাচনে পরিবেশের অভিজ্ঞতা সুখকর না হওয়ায় সাধারণ ভোটারদের মাঝে শঙ্কা বিরাজ করছে। বেশ ক’জন ভোটারের সাথে আলাপ করে এমনই মনোভাব পাওয়া গেছে।

চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কর্মকর্তা ও চসিক নির্বাচনে রিটার্নিং অফিসার মুহাম্মদ হাসানুজ্জামান গণমাধ্যমকে জানান, উৎসবমুখর পরিবেশে ভোটগ্রহণ হবে। প্রতিটি কেন্দ্রে ইভিএমে ভোটগ্রহণ করা হবে। তিনি বলেন, নির্বাচনী পরিবেশ সুষ্ঠু রাখার জন্য পর্যাপ্তসংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মাঠে নেমেছে। আমাদের পক্ষ থেকে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হয়েছে। তিনি সবাইকে দায়িত্বশীল আচরণ করার আহ্বান জানিয়ে বলেন, সবার সম্মিলিত অংশগ্রহণে সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণভাবে ভোটগ্রহণ হবে।

৭৩৫টি ভোটকেন্দ্রের মধ্যে ৪২৯টি কেন্দ্র ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন। ইতোমধ্যে ২৫ প্লাটুন বিজিবি নগরীর বিভিন্ন পয়েন্টে অবস্থান নিয়েছে। ভোটকেন্দ্রে প্রায় সাড়ে ১৪ হাজার লোকবল আইনশৃঙ্খলা রক্ষার কাজে দায়িত্ব পালন করবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

নির্বাচন উপলক্ষে ৪১০টি মোবাইল টিম, ১৪০ স্ট্রাইকিং ফোর্স এবং ৭৬ জন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাঠে থাকবেন। প্রতি ওয়ার্ডে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট ভ্রাম্যমাণ থাকবেন। বিজিবির প্রতি প্লাটুনের সাথে একজন করে ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন। র‌্যাব সদস্যদের সাথেও তিনজন ম্যাজিস্ট্রেট দায়িত্ব পালন করবেন বলে সূত্র জানিয়েছে। এ দিকে চট্টগ্রামের দুই ইপিজেডের সব কারখানা নির্বাচন উপলক্ষে ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।

প্রসঙ্গত এবারের নির্বাচনে মেয়রপ্রার্থী ৭ জন। আর কাউন্সিলর পদে লড়ছেন ২২৫ জন। চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনে এবার ভোটার সংখ্যা ১৯ লাখ ৩৮ হাজার ৭০৬ জন।

মাঠ ছেড়ে যাবো না : ডা: শাহাদাত
বিএনপির মেয়র প্রার্থী ডা: শাহাদাত হোসেন নির্বাচনের আগের দিন গতকাল কর্মব্যস্ত দিন অতিবাহিত করেন। তিনি আজ সকালে বিভিন্ন কেন্দ্র পরিদর্শন শেষে নগরীর বাকলিয়া বিএড কলেজ কেন্দ্রে নিজের ভোট দেবেন।
ডা: শাহাদাত হোসেন সকাল থেকে নিজ বাসায় আসা বিভিন্ন এলাকার নেতাকর্মীদের নির্বাচনী বিষয়ে দিকনির্দেশনা দেন। পরে দুপুরে নেতাকর্মী ও এজেন্টদের গ্রেফতারের বিষয়ে অভিযোগ দিতে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয়ে রিটার্নিং অফিসারের কাছে যান। সেখান থেকে বেরিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে ডা: শাহাদাত বলেন, বিএনপি একটি গণতান্ত্রিক শান্তিপ্রিয় দল। আমাদের আস্থা জনগণের ওপর, আর জনগণের আস্থা ধানের শীষের ওপর, তাই সুষ্ঠু নির্বাচন হলে আমরা বিপুল ভোটে বিজয়ী হবো। তিনি বলেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচন এবং জনগণকে ভোটের প্রতি আগ্রহী করে কেন্দ্রে নেয়ার জন্য আমরা গত তিন মাস ধরে মানুষকে সচেতন করেছি। কিন্তু নির্বাচনের আগমহূর্তে বহিরাগত সন্ত্রাসী, মাস্তান ও দলীয় ক্যাডার দিয়ে ভোট কেন্দ্র দখলের পরিকল্পনা করা হচ্ছে। প্রশাসনের অতি উৎসাহী পুলিশ কর্মকর্তারা নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করার জন্য দলীয় নেতাকর্মী এবং আমাদের এজেন্টদের গ্রেফতার করে হামলা মামলা অব্যাহত রেখে ভোট ডাকাতির চেষ্টা করছে। তবে নির্বাচন যেভাবেই হোক আমরা মাঠ ছেড়ে যাবো না।

বিএনপির ৫৬ জন এজেন্ট এবং দুই শতাধিক নেতাকর্মীকে গ্রেফতার করা হয়েছে দাবি করে ডা: শাহাদাত বলেন, নির্বাচনের একদিন আগে ৫৬ জন নির্বাচনী এজেন্টকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। যেহেতু এজেন্টরা নির্বাচনের একটি অংশ, তাই নির্বাচনী এজেন্টদের ছাড়িয়ে আনতে কমিশনকে অনুরোধ জানিয়েছি। তিনি গ্রেফতারকৃতদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে আমাদের আশ্বাস দিয়েছেন। আর যদি কমিশন এতে বিফল হয় তাহলে তাদের ব্যর্থতার দায়ভার নিয়ে নির্বাচনী দায়িত্ব থেকে সরে আসা উচিত। তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, একটি নিরপেক্ষ ও অবাধ নির্বাচন অনুষ্ঠানে সাংবাদিক এবং মিডিয়ার ভূমিকা অপরিসীম। তিনি সাংবাদিকদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।
শীর্ষনিউজ/এসএসআই